সম্পাদকীয় মাতৃভূমিকে যে ভালোবাসতে পারে না, তার পক্ষে অন্য কিছুকে ভালোবাসা সম্ভব নয়। -বায়রন।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-১০-২০১৮ ইং ০১:০২:৩৬ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের অধিকার, করণীয় ও মর্যাদা সংক্রান্ত ইউনেস্কো আইএলও’র ১৯৬৬ সালের সুপারিশগুলো ২৩ বছর আগে ১৯৯৪ সালের আজকের এই দিনে গৃহীত হওয়ার ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য দিবসটি পালিত হয়। দিনটি উপলক্ষে ইউনেস্কো, আইএলও’র সাথে ইউনিসেফ, ইউএনডিপি, গ্লোবাল ক্যাম্পেইন ফর এডুকেশন, এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে থাকে এবং প্রতি বছর একটি প্রতিপাদ্যও নির্ধারণ করে।
দিবসটি প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা হচ্ছেন শিক্ষাগুরু, তারা মানুষকে সুশিক্ষিত সুনাগরিক হয়ে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্বটি পালন করে থাকেন। শিক্ষকদের হাতে গড়ে ওঠে বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, প-িত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি কিংবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিরা সকলেই কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র। তাই শিক্ষকদের মর্যাদা সমাজের আর দশজনের চেয়ে ওপরে। শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা এবং আরও সমুন্নত করাই হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের লক্ষ। স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৬৬ সালের আজকের এই দিনে প্যারিসে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকারগুলোর সম্মেলনে একশ’ ৪৪টি সুপারিশসহ শিক্ষকদের মর্যাদা সনদ গৃহীত হয়। পরে জাতিসংঘের আরেক সংগঠন আইএলও তা অনুমোদন করে। এই ধারাবাহিকতায় ২৮ বছর ধরে আলোচনা পর্যালোচনা শেষে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনে ৫ই অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তবে ১৯৬৬ সালের সুপারিশ ছিলো প্রাথমিকস্তরের শিক্ষকদের জন্য। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কোর বিশেষ অধিবেশনে উচ্চতর স্তরের শিক্ষকদের মর্যাদা সংক্রান্ত সুপারিশ গৃহীত হয়।
এবার যখন বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে তখন আমাদের দেশে শিক্ষকদের মর্যাদা-সম্মান কোন পর্যায়ে আছে, অর্থাৎ তাদের মানসিক অবস্থা কি, সেটা দেখতে হবে। শিক্ষকদের একটা অংশ পদ মর্যাদা বা বেতন ভাতা নিয়ে আন্দোলন করছেন প্রায় সময়ই। অপরদিকে এক শ্রেণির শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। শিক্ষকদের একটা অংশ নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই ধরনের শিক্ষকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তারা দেশের পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষকের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছে। আবার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার এবং তাদেরকে আঞ্চলিক, দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া রয়েছে শিক্ষার বাণিজ্যিককরণের অভিযোগ। এটা রীতিমতো সামাজিক উপদ্রবে পরিণত হয়ে গেছে। একটি মহল শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। এই কাজে শিক্ষকদের একটা অংশ জড়িত। সর্বোপরি, যুগোপযোগী পাঠদানের ওপর অনেক শিক্ষকেরই দক্ষতা আশানুরূপ নয়। এইসব কারণে আমাদের শিক্ষার মান এর প্রত্যাশিত উন্নতি হচ্ছে না। আর তার জন্য শিক্ষকরা অনেকটাই দায়ী।
ইউনেস্কোর বিশেষ অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পালিত হয় এই শিক্ষক দিবস। অধিবেশনে শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধেও ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, শিক্ষকদের প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে
কতো কর্মঘণ্টা কাজ করা আবশ্যক তা শিক্ষক সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্ধারণ করতে হয়। শিক্ষকদের ছুটি, অবকাশযাপন, বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ, তাদের পদ ও মর্যাদা সুরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছে ইউনেস্কো। কিন্তু এই সব দিক নির্দেশনা আমাদের দেশে খুব একটা কার্যকর নেই। আজকের এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধার দিকে নজর দেবে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষক সমাজেরও সবধরনের অভিযোগের উর্ধ্বে থেকে একটি সুশিক্ষিত জাতি গঠনে মনোনিবেশ করা উচিত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT