সম্পাদকীয়

স্যানিটেশন সচেতনতার মাস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-১০-২০১৮ ইং ০১:১৬:১৩ | সংবাদটি ১০২ বার পঠিত

শুরু হয়েছে জাতীয় স্যানিটেশন মাস। গত বুধবার হাতধোয়া দিবস পালনের মধ্য দিয়ে এই মাসটি পালনের কর্মসূচী শুরু হয়। জাতীয় স্যানিটেশন মাস পালন শুরু হয় ২০০৩ সাল থেকে। আর জাতিসংঘের আহবানে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে। তাছাড়া, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ স্যানিটেশনকে মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছে। মূলত স্যানিটেশনের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস ও স্যানিটেশন মাস পালন করা হয় প্রতি বছর। ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে স্যানিটেশন পরিস্থিতি কতোটা উন্নত হয়েছে তা দেখার বিষয়। যদিও সরকার বলছে সবার জন্য স্যানিটেশন নিশ্চিত করার কাজ অব্যাহত আছে এবং এ ব্যাপারে সাম্প্রতিককালে যথেষ্ট উন্নতিও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গ্রাম-শহর সর্বত্র সর্বাধিকভাবে স্যানিটেশন অর্জন সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ- বিভিন্ন জরিপে এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্যানিটেশন ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা। প্রথমত উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে সরকার ১৯৯৮ সালে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন এর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে। পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্যানিটেশন কৌশল ও পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন খাতের মেট্রো ডেভলপম্যান্ট প্ল্যান্ট (২০১১-২০১৫) প্রণয়ন করা হয়। তাছাড়া প্রতিটি সরকারই সকলের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। এতোকিছুর পরও আমাদের স্যানিটেশন পরিস্থিতি আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বস্তু হচ্ছে পানি।
সবচেয়ে ভয়াবহ খবর হলো দেশে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিনশ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয় ¯্রফে পানি আর সুষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাবের কারণে। স্যানিটেশনের সুব্যবস্থা হলে পানিবাহিত রোগ হ্রাস পাবে ৭৭ ভাগ। তৃতীয় বিশ্বের একটি অনুন্নত দেশ, যেখানে জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগেরই বসবাস দারিদ্র্যসীমার নীচে, তাদের নিরাপদ পানি আর স্যানিটেশন নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় থাকে না। তারপরেও সরকারের সীমিত সম্পদ আর মানুষের সচেতনতায় স্যানিটেশন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সরকার পরিচালিত জরিপে বলা হয় বর্তমানে দেশের শতকরা ৮১ ভাগ পরিবার ন্যূনতম স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। ২০০০ সাল মাত্র ৩০ ভাগ পরিবার ছিলো ন্যূনতম স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায়। যদিও ইতোপূর্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী স্বীকার করেছিলেন ৬১ ভাগ মানুষ স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে।
আসল কথা হলো সরকার থেকে যতোই প্রচারণা চালানো হোক না কেন অনেক সময় বাস্তবের সঙ্গে সরকারি পরিসংখ্যানের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে স্যানিটেশনের ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তোলার গতি মন্থর। এর প্রধান কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য। অসংখ্য পরিবার সামর্থ্যরে অভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন কিংবা বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে না। এই অবস্থায়ই শতভাগ স্যানিটেশন অর্জনের জন্য নানা রকম উদ্যোগ আয়োজন অব্যাহত আছে। ফলে সারা দেশে সার্বিকভাবে স্যানিটারী ল্যাট্রিন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। অবশ্য তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনসংখ্যাও। সেই প্রেক্ষাপটে স্যানিটেশন ক্ষেত্রে সাফল্য যে আহামরি হয়েছে তা বলা যায় না। দরিদ্রÑনি¤œ আয়ের মানুষের স্যানিটেশন উন্নয়নে সরকারি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা জরুরি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT