উপ সম্পাদকীয় অভিমত

এম. সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজ ও ডিগ্রী পরীক্ষার সেন্টার

মোঃ রফিকুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১০-২০১৮ ইং ০১:০২:৩০ | সংবাদটি ২৭ বার পঠিত

সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এম. সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। ২০০২ সালে উক্ত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। উপজেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নানা প্রতিকূল অবস্থা পেরিয়ে আজ কলেজটি স্বমহিমায় বিদ্যমান। প্রথমদিকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী খুলে ভাল ফলাফলের মধ্যদিয়ে তার সকল ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে পরবর্তীতে ডিগ্রী কলেজে রূপান্তরিত হয় ২০১৩ সালে। ইতিমধ্যে দুইটি ব্যাচ ডিগ্রী ফাইনাল পরীক্ষাও দিয়েছে। ফলাফলও আশানুরূপ হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই কলেজের ডিগ্রী পরীক্ষার্থী ছাত্র-ছাত্রীরা নিজস্ব উপজেলায় পরীক্ষার সেন্টার না থাকায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটে পরীক্ষা দিতে হয়। যা অত্যন্ত কষ্টের। গোয়াইনঘাট উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হতে প্রায় ৬০ কিঃ মিঃ দূরে। সেখানে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গিয়ে নানা অসুবিধা ও হয়রানির শিকার হয়। নাই কোন থাকা-খাওয়ার ভাল ব্যবস্থা। অভিভাবকরা পরীক্ষা আসলেই নানা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কিভাবে পরীক্ষার দিনগুলো পার করবেন। পরীক্ষা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আবার বাসায় নিয়ে আসবেন কিংবা পরের দিন কিভাবে পরীক্ষায় এটেন্ড করবেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের ব্যাপারে বলার অবস্থা থাকে না। রাস্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাতো আরো কঠিন। গোয়াইনঘাট উপজেলা দুর্গম হওয়ার কারণে বিপদ আরো বেশী। এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা বোর্ডকে এগিয়ে আসতে হবে।
সিলেটের প্রাণপ্রিয় নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কলেজটি দ্রুত প্রতিষ্ঠা পায়। দ্রুততম সময়ে অর্থাৎ ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর পরই কলেজটি ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তি হয়ে যায়। ফলে কলেজের গভর্নিং কমিটির আর্থিক দায় দেনা অতি সহজে মুছে যায়। বর্তমানে কলেজটির জেনারেল ফান্ডসহ সরকারী সকল শর্তাবলী পূরণ করে স্বমহিমায় এগিয়ে চলেছে। সমস্যা শুধু ডিগ্রী পরীক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে। এ ব্যাপারে বর্তমান গভর্নিং কমিটির সদস্যরা ও স্থানীয় এমপি ইমরান আহমদের সকল প্রকারের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহবান করেছেন। তিনি গভর্নিং বডির সভাপতিও বটে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র স্বতন্ত্র কলেজটি এদ্বত অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে আসা শিক্ষার্থীদের কম খরচে বাসা-বাড়ী থেকে এসে লেখাপড়ার সুযোগ দিয়েছে। শহরে পড়াতে গেলে যে পরিমাণ খরচ ও টেনশন থেকে অভিভাবকরা মুক্ত আছেন। কলেজটি উন্নতি লাভ করুক এটা প্রতিটি সচেতন মানুষের প্রত্যাশা। বর্তমান সরকারের পলিসি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারী করণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৭০টি কলেজ সরকারীকরণ হয়ে গেছে। আমরাও আশা করেছিলাম কলেজটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সরকারীকরণ হয়ে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারীকরণ না হওয়ায় কোম্পানীগঞ্জবাসী হতাশ হয়েছে। তবে আমরা হতাশ হব না একারণে যে, সময় এখনও ফুরিয়ে যায় নাই। সাংসদ ইমরান আহমদ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর চেষ্টার ত্রুটি নেই। যার যেখানে অবস্থান সেই জায়গা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্য কাজ করে যেতে হবে।
স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বর্তমান গভর্নিংবডির সদস্যদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে একটি ভবনের নিরাপদ স্থানে করতে পারলে সমস্যাটি লাঘব হয়ে যায়। তাই এখান থেকে পরীক্ষার হলের ব্যবস্থা আছে মর্মে বিষয়টি শিক্ষাবোর্ডকে অবগত করলে আশা করি শিক্ষা বোর্ড দ্রুত সমস্যা লাঘবে কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন। ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’ চিরন্তন সত্য কথা। কিন্তু প্রচারে ও প্রসারে ও নানাবিধ অবকাঠামো উন্নয়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর উপজেলাটি শিক্ষা বিস্তারে এক সময় পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে অনেক উপজেলার ন্যায় উঠে এসেছে। শিক্ষার হার বর্তমানে ষাট শতাংশের উপরে আছে। প্রশাসনের নানাস্তরে কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তানরা তাদের অবস্থানের জানান দিচ্ছে। প্রশাসন, শিক্ষা, পুলিশ, চিকিৎসাসহ সকল পর্যায়ে এগিয়ে চলছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের পার্শ্বেই নিজস্ব জমিতে কোম্পানীগঞ্জের অহংকার ও গর্বের প্রতিষ্ঠানটি টায় দাঁড়িয়ে আছে। কলেজটির জন্য একটি আইটি ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইন্টার ও ডিগ্রী পড়–য়া শত শত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রতিষ্ঠানটির নান্দনিক সৌন্দর্যে প্রাণ ভরে যায়। শিক্ষানুরাগী সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নতি ও সফলতা কামনা করি।
লেখক : শিক্ষানুরাগী সদস্য, এম সাইফুর রহমান ডিগ্রী কলেজ।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শিক্ষার্থীর মনোজগৎ বিকাশে কার কী ভূমিকা
  • দুর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
  • রাশিয়ার কাছে কি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাচ্ছে
  • দারিদ্র বিমোচনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ-সম্প্রীতি সমাবেশ ও কিছু কথা
  • পর্যটন নীতিমালার বাস্তবায়ন কত দূর
  • ওসমানীর দন্তরোগ বিভাগ
  • দুর্গার আগমন শুভ হোক
  • দেবী দুর্গার আবির্ভাব
  • দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে
  • প্রসঙ্গ : পানি ও বিদ্যুতের অপচয়
  • কওমি সনদের স্বীকৃতি
  • জয় মোবাইল অ্যাপ
  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  • মৃন্ময়ী
  • সুন্দর পৃথিবীর আকাঙ্ক্ষায়
  • শিশুর বিকাশ : খেলার মাঠ ও পাঠাগার প্রসঙ্গ
  • মূল্যবোধের অবক্ষয় : কারণ ও প্রতিকার
  • পরিবেশ বিপর্যয়ে বছরে ক্ষতি ৫৩ হাজার কোটি টাকা
  • শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আবুল বশর
  • Developed by: Sparkle IT