সম্পাদকীয়

‘ভয়ংকর’ এনার্জি ড্রিংকস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১০-২০১৮ ইং ০১:০৬:৪২ | সংবাদটি ১৫৭ বার পঠিত

অবশেষে এনার্জি ড্রিংকস-এর আমদানী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দানিং এই বিষয়টি নিয়ে পত্র পত্রিকায় বেশ লেখালেখি হচ্ছে। বাজারে বেশ কয়েকটি ব্রা-ের এনার্জি ড্রিংকস রয়েছে। মূলত তরুণ সমাজের মধ্যেই এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ার একটা ট্র্রেন্ড চলছে এখন। কেবল এখন নয়, এটা শুরু হয়েছে গত প্রায় দুই দশক ধরে। সাম্প্রতিককালে বেড়েছে এই প্রবণতা। অনেকে এনার্জি ড্রিংকস-এর ক্যান হাতে রাখাকে একটা ‘আভিজাত্য’ বলেই মনে করে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা ধরনের চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন দিয়ে আকৃষ্ট করছে মানুষকে। তাছাড়া দেশী ও বহুজাতিক বেশ কিছু কোম্পানী আকর্ষণীয় ল্যাবেল এঁটে রংবেরংয়ের এনার্জি ড্রিংকস বাজারে ছেড়েছে। এগুলোর কাটতি বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরও এর ব্যবসায় আগ্রহ বেশি। কিন্তু এই ‘তথাকথিত’ এনার্জি ড্রিংকস কি আদৌ এনার্জি সঞ্চার করছে মানব দেহে? নাকি জনস্বাস্থ্যের সর্বনাশ করছে?
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়- যখন তখন মৃত্যু ঝুঁকি, ¯œায়ু-হৃদযন্ত্র-কিডনি-লিভার- পাকস্থলীসহ ফুসফুসের ক্ষতি, ডায়াবেটিস, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ, যৌনশক্তি লোপ এবং মানসিক বিকারগ্রস্ততা সৃষ্টির সমূহ আনুষঙ্গ নিয়ে দেশের বাজার সয়লাব বাহারি নামের অসংখ্য এনার্জি ড্রিংকসে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা নিরীক্ষায় বিপদজনক উপাদান পাওয়ার পরও এতোদিন এর বিপণন ও বিক্রি বন্ধ হয়নি। বরং নানা ধরনের মুখোরোচক তথ্য দিয়ে এর বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। কার্বেরেটেড বেভারেজের মোড়কে এসব ক্ষতিকারক পণ্য উৎপাদন ও আমদানীর অনুমতি দিচ্ছে সরকারের খোদ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনিতেই আমাদের খাদ্যাভ্যাসের কারণে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, তার ওপর জনস্বাস্থ্যের জন্য আরেক ভয়ানক উপদ্রব হয়ে এসেছে এসব এনার্জি ড্রিংকস। এগুলো বেশির ভাগই শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ¯œায়ুতান্ত্রিক প্রভাব মারাত্মক। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব আছে এমন কোন ব্যক্তি এ ধরনের ড্রিংকস পান করলে যখন তখন মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।
বাজারে যেসব এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর উপাদান। যেমন ক্যাফেইন, কার্বেনেটেড বেভারেজ, সিলভেনাফিল সাইট্রেট ইত্যাদি। এইসব উপাদানই মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এইসব এনার্জি ড্রিংকস থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ক্ষতিকর উপাদান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সরকারের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইসব পণ্য বাজারে বিপণনের অনুমতি দেয়? বিএসটিআই এর অবহেলা আর উদাসীনতার খেসারত দিচ্ছে দেশের মানুষ। এ ব্যাপারে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। এনার্জি ড্রিংকস, আমদানী, উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে কার্যকর হবে বলেই আমরা আশা করছি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT