সম্পাদকীয় মৃত্যুকে ভয় পাবো কেন? জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও দুঃসাহসিক ঘটনাই হচ্ছে মৃত্যু। -চার্লস ফ্রোহম্যান

চাহিদার বেশি খাদ্য উৎপাদন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১০-২০১৮ ইং ০০:৫০:৩৭ | সংবাদটি ৯৫ বার পঠিত

খাদ্য উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি। অনেক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। আর বর্তমানে চাহিদার চেয়ে বেশিই উৎপাদিত হচ্ছে। এ ধরনের খবর সত্যি অনুপ্রাণিত করে, আনন্দিত করে। প্রতিটি দেশপ্রেমিক এতে প্রশান্তি বোধ করেন। খবরটি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। এতে বলা হয়- ক্রমান্বয়ে কৃষি জমি কমলেও প্রতি বছর ফসল বাড়ছে মানুষও বাড়ছে। বাড়ছে চাহিদা। অধিক উৎপাদনে সকল চাহিদা মিটিয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। সরকারের নিরলস কর্মকা-ে দেশ এই অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। গত সাড়ে নয় বছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এটি বড় সাফল্য। গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে শুধু খাদ্য শস্য নয়, বিভিন্ন ফল উৎপাদন করে দেশ রীতিমতো ঈর্ষণীয় অবস্থানে পৌঁছে গেছে।
কৃষি উৎপাদনে দেশে একটা বিপ্লব সংঘটিত হচ্ছে বলেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ জোরে শোরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পরিসংখ্যানে এই ধরনের প্রচারণার সত্যতাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে দেশে স্বাধীনতার প্রাক্কালে বার্ষিক ফসল উৎপাদন ছিলো মাত্র বেদড় কোটি মেট্রিকটন চাল। বর্তমানে তা সাড়ে তিন কোটি মেট্রিকটন ছাড়িয়ে চার কোটি মেট্রিকটন-এ পৌঁছুনোর দ্বারপ্রান্তে। অথচ এই সময়ের মধ্যে দেশে কৃষি জমির পরিমাণ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করায়। জানা গেছে, গত কয়েক বছরে এক ও দুই ফসলি জমি অঞ্চল বিশেষে চার ফসলি জমিতে পরিণত হয়ে গেছে। দেশে বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা একশ ৯৪ শতাংশ। গত অর্থ বছরে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো চারশ সাত দশমিক ১৪ লাখ টন। অথচ উৎপাদন হয়েছে চারশ ১৪ লাখ মেট্রিকটনের বেশি। সেই হিসেবে দেশ এখন দানাদার খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এছাড়া, এবার দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৬৩ লাখ মেট্রিকটন।
শুধু চাল নয়, অন্যান্য ফসল যেমন ভুট্টা, আলু, ডাল, মসলা, শাকসবজি, পাট ইত্যাদির উৎপাদন বাড়ছে প্রতি বছরই। বেড়েছে মাছের উৎপাদনও। তবে এই সাফল্যকে ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে কৃষি জমি হ্রাস পাওয়া। যে হারে জমি সংকুচিত হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে একদিন চাষের জন্য কোন জমিই হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কৃষি জমি অকৃষি খাতে ব্যবহারের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে দরকার কঠোর আইন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই আইনটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কীটনাশক-রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। রক্ষা করতে হবে মাছের অভয়াশ্রমগুলো।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT