উপ সম্পাদকীয়

ধ্বংসের মুখে দেশীয় মাছ

লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১০-২০১৮ ইং ০০:৫১:৩৯ | সংবাদটি ১২১ বার পঠিত

আমাদের দেশে শুকিয়ে যাচ্ছে খাল বিল নদীনালা হাওর ডোবার মতো প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো। তার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে সেচের মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মৎস্য আহরণের হিড়িক। ক্রমশই কমে আসছে আমাদের প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে বসবাসরত জংলী মাছের সংখ্যা। বিপন্ন হতে চলেছে অনেক মাছের বংশ। বাংলার বুকে এখন আর খুব একটা দেখা যায় না নিরাপদ মাছের অভয়ারণ্য। যেখানে মায়েরা প্রজননে বাঁধার সম্মুখীন হবে না। চলার পথে আসবে না কোন শিকারির ভয়। যেখানে হবে দেশী-বিদেশী পাখিদের বিচরণ।
এমন জলাশয় প্রকৃতি কামনা করে। কিন্তু আমাদের প্রকৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ ভুলুণ্ঠিত। এর বিশেষ কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং অধিক হারে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ। বিভিন্ন কায়দায় দেশীয় প্রজাতির মৎস্য আহরণ করা হচ্ছে। সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক কায়দা হলো সেচের মাধ্যমে অথবা বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা। সেচের মাধ্যমে হাওড় খাল বিল ডোবা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ করা হয়। মাটির ভিতরে কাঁদায় আশ্রয় নেয়া মাছ যেমন-বাইম, গুতুম, চিকরা এরাও রক্ষা পায় না শিকারির ছোবল থেকে।
আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ কালের মারাত্মক বিষয় ছোবলে আক্রান্ত। কৃষি জমিতে ব্যবহার হচ্ছে বিষ। কলকারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে নানান প্রকার বিষাক্ত ক্যামিকেল। সেসব বিষ বৃষ্টির পানিতে মিশে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো নামছে। নষ্ট হচ্ছে মাছের প্রজনন ক্ষমতা (মাতৃত্ব)। রেণুগুলো পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একটু ভেবে দেখুন আমরা যখন কোন জলাশয়কে কৃত্রিম চাষের আওতায় আনি তখন সেখানে ফসটক্সিন ট্যাবলেট, রোটেনানের মতো বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি হলো-ফসলের রোগিং করার মতো। অর্থাৎ আকাংখিত ফসল রেখে বাকি অনাকাংখিতগুলো উপরে ফেলা। এর অর্থ হলো-আমার কাঙ্খিত চাষ ব্যতিত বাকিগুলোকে নির্মূল করাই হলো এর অন্যতম কাজ। এভাবে আগামী প্রজন্মের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে আমাদের প্রাকৃতিক জলাশয়ের মৎস্য সম্পদ।
প্রথমেই পোনা শিকারীর কথা বলা যাক। পোনাগুলো শৌল, টাকি, গজারের। টাকির কথাই না বলি। একটি পোনার ঝাঁকে লাখো পোনা থাকে। যেখান থেকে ট্রাক ভর্তি মাছ হতে পারে। কিন্তু আমরা যখন এক ঝাঁক পোনা আহরণ করি তখন আমাদের চারজনের খাওয়া তরকারি হয় না। এভাবে কী পরিমাণ পোনা যে হাওড় এলাকাসহ আমাদের দেশে নিধন হচ্ছে এর সঠিক পরিসংখ্যান হয়তো বা পাওয়া যাবে না। এসব সচেতনতা সীমালংঘন আইন জারিতে মৎস্য অধিদপ্তর ছাড়াও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এনজিও প্রকল্প সচেতনমূলক বার্তা প্রচার করে থাকে। কিন্তু কি কাজে আসছে? তাই আইনের বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলার প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা হলো এখন সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে দ্রুত কিছু না করলে সামনে সমূহ বিপদ।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • একুশ আমাদের অহংকার
  • দেশপ্রেম, ভাষাপ্রেম
  • একুশে : বাঙালি জাতিসত্তার সংগ্রামের ইতিহাস
  • অনন্য গৌরবের একুশে
  • স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী
  • ভেনেজুয়েলা প্রেক্ষাপট ও একনায়কতন্ত্র মতবাদ
  • সিটি কর্পোরেশনের সবুজায়ন
  • উচ্চশিক্ষায় উপেক্ষিত বাংলা
  • উপেক্ষিত যাত্রী অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব
  • ‘জীবন শেষের গান’ ও প্রসঙ্গ কথা
  • স্কুল-কলেজগুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  • সাম্প্রতিক কথকতা
  • রেস্টুরেন্টে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাচ্ছি?
  • বেকার লোকের সংখ্যা বেড়েই চলছে
  • প্রসঙ্গ : সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধ
  • বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ঠেকাতে হবে
  • ভাটি বাংলার মরমী সাধক শাহ আব্দুল করিম
  • মৃত্যুঞ্জয়ী বীর জেনারেল ওসমানী
  • বই পড়ার আনন্দ
  • যে মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিদ্বন্দ্বী
  • Developed by: Sparkle IT