সম্পাদকীয়

বিশ্ব ডাক দিবস আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-১০-২০১৮ ইং ০০:১১:৪৮ | সংবাদটি ৫৮ বার পঠিত

যোগাযোগের প্রাচীনতম মাধ্যম হচ্ছে ডাক ব্যবস্থা। প্রাচীনকালে কবুতরের ডানায় ভর করে কিংবা ঘোড়ার পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করেছিলো ডাক বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে ডাক বিভাগ চিঠিপত্রসহ মালামাল কিংবা টাকা পয়সা আদান-প্রদানের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু ইদানিং হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই ডাক বিভাগ। সেই স্থানটি দখল করে নিচ্ছে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন আর কুরিয়ার সার্ভিস। আর ডাকঘরগুলো রীতিমতো বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। এই অবস্থা থেকে ডাকঘরকে তুলে আনতে উদ্যোগ নিয়েছিলো সরকার। পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিলো প্রতিটি ডাকঘরকে ই-সেন্টারে রূপান্তরিত করার। কিন্তু তাও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাক দিবস।
ইউরোপের ২২টি দেশের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৮৭৪ সালের আজকের এই দিনে সুইজারল্যান্ডে গঠিত হয় জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন। এর লক্ষ ছিলো বিশ্বের প্রতিটি দেশের মধ্যে ডাক আদান প্রদানকে অধিকতর সহজ ও সমৃদ্ধশালী করার মধ্য দিয়ে বিশ্বজনীন পারস্পরিক যোগাযোগকে সুসংহত করা। এক পর্যায়ে এই জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ডাক ইউনিয়নের ১৬তম অধিবেশনে প্রতি বছর ৯ই অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক ইউনিয়ন দিবস নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জার্মানীর হামবুর্গে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ডাক ইউনিয়নের ১৯তম অধিবেশনে ‘বিশ্ব ডাক ইউনিয়ন দিবস’ এর নাম পরিবর্তনের ঘোষণা হয়। সে অনুযায়ী এর নামকরণ করা হয় বিশ্ব ডাক দিবস। বিশ্ব ডাক ইউনিয়নের সদস্য পদ লাভ করে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে। সেই থেকেই প্রতি বছর বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, পৃথিবীতে সংবাদ আদান প্রদান কীভাবে প্রথম শুরু হয়, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায় নি। তবে ভারতবর্ষে ডাক বিভাগের শুরু ১২০৬ থেকে ১২১০ খৃস্টাব্দের মধ্যে। অপরদিকে হিজরী সন গণনার বহু আগে থেকে মধ্যপ্রাচ্যে দূত মারফত এক দেশ থেকে অন্য দেশে ডাক প্রদানের প্রথা চালু ছিলো। তখন ডাক বহনকারীর বিশেষ মনোগ্রাম ছিলো হারিকেন। এই মনোগ্রামটিই বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মনোগ্রাম হিসেবে এখনও বিদ্যমান। মূলত দিল্লীর মোঘল সম্রাট সুলতান কুতুব উদ্দিন আইবেক প্রথম বারের মতো সংবাদ প্রেরণের হারিকেন সদৃশ মনোগ্রামটি ডাক ফরমে স্থান দেন। তিনিই তখন (১২০৬-১২১০) আরবদের অনুকরণে স্বল্প পরিসরে ডাক ব্যবস্থা চালু করেন। এভাবেই পর্যায়ক্রমে ডাক ব্যবস্থা চালু হয় বিশ্বব্যাপী।
শত শত বছর ধরে বিশ্বব্যাপী মানুষের চিঠিপত্র, দলিল ইত্যাদি এক দেশ থেকে অন্য দেশে আদান প্রদানের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিলো ডাক বিভাগ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ডাক বিভাগের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। কুরিয়ার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি যোগাযোগের বিকল্প মাধ্যম চালু হওয়ায় ডাক বিভাগের এই দৈন্যদশা সৃষ্টি হয়েছে। তাই বাংলার গ্রামাঞ্চলে খাকী রঙের থলে কাঁধে ঝুলিয়ে ডাক হরকরার মেঠোপথে হেঁটে চলা কিংবা ডাকপিয়নের সারাদিন চিঠি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরা এইসব দৃশ্য এখন শুধু কবি সাহিত্যিকদের লেখায় আর মানুষের স্মৃতিপটে বন্দী আছে। দেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার গ্রামীণ ডাকঘর বন্ধ হওয়ার উপক্রম। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে ডাকঘরগুলো। এই অবস্থায় ডাকঘরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ইতোপূর্বে উদ্যোগ নিয়েছিলো সরকার। ডাকঘরগুলোর আধুনিকায়নের সেই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করাই হোক আজকের বিশ্ব ডাক দিবসের অঙ্গীকার।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT