ইতিহাস ও ঐতিহ্য

শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়

এডভোকেট মোহাম্মদ জুয়েল প্রকাশিত হয়েছে: ১০-১০-২০১৮ ইং ০৩:০১:৫২ | সংবাদটি ১২৭ বার পঠিত

হযরত শাহ্জালাল (রহ.), হযরত শাহপরান (রহ.) এর পুণ্যভূমি সিলেট আপন মহিমায় ভাস্কর। তাই শিক্ষাক্ষেত্রেও আমরা দেখি এ অঞ্চলের খ্যাতি শতবর্ষ হতে বহমান। শিক্ষায় সিলেটের গুরুসদয় দত্ত, খান বাহাদুর গজনফর আলী খান, মুরারিচাঁদ, মো. আব্দুল মজিদ কাপ্তান মিয়া, অধ্যাপক জিসি দেব, লীলা নাগ, শামসি খানম প্রমুখের খ্যাতি উপমহাদেশময়। ১৯৪৭-এ রেফারেন্ডামের মাধ্যমে সিলেট আসাম প্রদেশ হতে বেরিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়। নতুন দেশের নতুন প্রদেশ আমলে প্রথম দিকে দেখা যায় এই সিলেটীরাই শিক্ষা, প্রশাসন, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগসহ সর্বক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সিলেটের বালাগঞ্জ থানায় বহু কৃতি পুরুষের জন্ম হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম বালাগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ব্রজগোবিন্দ্র নন্দী চৌধুরী ওরফে গিরিশ চন্দ্র রায়। তিনি সিলেটের উচ্চ শিক্ষার প্রথম বিদ্যাপীঠ মুরারি চাঁদ হাই স্কুল ১৮৮৬ সালে স্থাপন করেছিলেন। এধারাবাহিকতায় বালাগঞ্জ উপজেলার গহরপুর এলাকার নিরব একজন দানশীল, সমাজকর্মী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব সাজ্জাদ আলী। প্রবাস থেকে নিজেকে মেলে ধরার কোন খায়েশ নেই তাঁর। প্রচার বিমুখ এই মানুষটি এলাকার শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নে গত এক যুগ ধরে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন। তাঁর অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় আজ অবধি এমপিও ভুক্ত হয়নি। ২০০৬ সাল থেকে দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের শিওরখাল মৌজার বড়জমাত গ্রামে এ প্রতিষ্ঠানটি অন্ধকার থেকে আলো পথে নিয়ে এসেছে ৯/১০ টি গ্রামের ছেলেমেয়েদের। দেওয়ান আব্দুর রহিম হাই স্কুল এন্ড কলেজে আজীবন দাতা, বৃটেন প্রবাসী শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব সাজ্জাদ আলী শুধু ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় নয় এর পাশে তাঁর গর্ভধারিনী মায়ের নামে ২০০৩ সালে গড়ে তোলেন ছমিরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
২০০৬ সালে বড়জমাত গ্রামে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ৭৫ শতক ভূমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব সাজ্জাদ আলী। তিনি তাঁর উপার্জিত টাকার বড় অংশ দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনার ব্যয়ভার বহন করে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের দিকে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল ভবন নির্মাণে তিনি প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করেন। হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ এই প্রতিষ্ঠানটি অনেক দূরে এগিয়ে গেছে। বর্তমানে এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক ও ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট কর্তৃক ০১/০১/২০১১ সালে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার পাঠদানের অনুমতি লাভ করে এবং ০১/০১/২০১৪ সালে বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে। এছাড়া বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে সকল শিক্ষক শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে প্রধান শিক্ষকের গুরু দায়িত্ব পালন করেন তারা হলেন; নেছাওর আলী (২০০৬-০৮ খ্রিঃ), শামসুদ্দিন (২০১১-১২ খ্রিঃ), আব্দুল কুদ্দুছ(২০১২-১৩ খ্রিঃ) এবং মোঃ জামাল আহমদ (২০১৪-চলমান)। এদিকে, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজঅবধি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠক, স্বাধীনতা উত্তর ছাত্র লীগের তুখোড় ছাত্র নেতা, গহরপুরের কৃতি সন্তান, ঢাকা দক্ষিণ ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ মোঃ সফিক উদ্দিন। তিনি শ্রম, মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে অনেক দূর এগিয়েছেন। এছাড়া দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, সমাজকর্মী, দানশীল ব্যক্তিত্ব প্রয়াত হাজী মাহমদ আলীর সুযোগ্য পুত্র শিক্ষাদরদী, সজ্জন ব্যক্তিত্ব মো. খালেদ আহমদ আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁরই ভ্রাতা মো. ফয়েছ আহমদ একজন আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো. জামাল আহমদ জানান, এই বিদ্যালয়টি অত্র অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখছে।
তিনি জানান, ২০১৫ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় ৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে পাস করেছেন ৩০ জন। ২০১৬ সালে এস.এস.সি’র ৩৮জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩২ জন এবং ২০১৭ সালে ৫৮ জন এস.এস.সি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জন পাস করেছে। এ সাফল্যের দ্বারা অব্যাহত রাখার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান জানান। আমার এ লেখার কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি বাদ পড়তে পারে। যার কোন তথ্যাদি আমি পাই নি, এ ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। অতএব বাদ পড়া ও ভুল থাকাটা প্রত্যাশিত ও স্বাভাবিক। পরিশেষে আশা রাখি, শিক্ষা বিস্তারে ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় স্বীয় মহিমায়, স্বীয় গৌরবে প্রাঞ্জল ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের মণি কোঠায় সমাসীন হয়ে আছে এবং থাকবে। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক এর অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এ কামনা।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • সাত মার্চের কবিতা ও সিলেট বেতার কেন্দ্র
  • পার্বত্য তথ্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সিলেটের প্রাচীন ‘গড়’ কিভাবে ‘গৌড়’ হলো
  • ৮৭ বছরের গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় জিন্দাবাজার
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের কিছু ঘটনা
  • খাদিমনগরে বুনো পরিবেশে একটি দিন
  • ফিরে দেখা ৭ নভেম্বর
  • শ্রীরামসি গণহত্যা
  • প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের ধারক মৃৎশিল্প
  • বিপ্লবী লীলা নাগ ও সিলেটের কয়েকজন সম্পাদিকা
  • গ্রামের নাম আনোয়ারপুর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বিবি রহিমার মাজার
  • তিন সন্তানের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি
  • হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর ও দীঘি
  • শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বিলুপ্তির পথে সার্কাস
  • Developed by: Sparkle IT