উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

দুর্গাপূজা

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ১১-১০-২০১৮ ইং ০০:০৫:৩৮ | সংবাদটি ১৭ বার পঠিত

হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ এবং সর্বজনীন উৎসব দুর্গাপূজা। একে শারদীয় পূজাও বলা হয়ে থাকে। নতুন বসন-ভূষণে সজ্জিত হয়ে হিন্দুরা মহা ধূমধামের সঙ্গে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করে। মহামায়া, দুর্গা দশভুজা এবং শক্তির অধিষ্ঠানী দেবী। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে এক এক দেবতা এক এক অভীষ্ট সিদ্ধ করেন। পুরাকালে এক রাক্ষসের হাতে স্বর্গের দেবতারা নিষ্পেষিত হতে থাকেন। অমর বরপ্রাপ্ত এ রাক্ষসকে সকল দেবতা সম্মিলিতভাবে বধ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অতঃপর তারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হন। এদের দেহ থেকে নির্গত শক্তিপুঞ্জ এক জ্যোতির্ময়ী নারী বিশেষ মূর্তি ধারণ করে। এ নারী মূর্তিই দেবী দুর্গা।
সত্যযুগে সুরথ নামে এক রাজা ছিলেন। তিনি রাজ্য হতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বনে চলে যান। সেখানে স্ত্রী-পুত্র কর্তৃক বিতাড়িত সমাধি বৈশ্য নামে এক ব্যক্তির আগমন ঘটে। উভয়েই মহা সংকটে পড়েন। এ সংকট থেকে মুক্তি লাভের আশায় এক সত্যাদর্শী মুনীর পরামর্শে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য বসন্তকালে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। তাই দুর্গাপূজাকে বাসন্তি পূজাও বলা হয়। আবার লংকার রাজা রাবন বধের জন্য অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গা দেবীর অর্চনা করেন, এজন্য এটি শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। শারদীয় দুর্গোৎসবকে অকালবোধনও বলা হয়ে থাকে। আষাঢ় মাসের শুক্লা একাদশী তিথিকে বলা হয় শয়ন একাদশী। কারণ এদিন দেবতাদের শয়ন আর কার্তিক মাসের একাদশী তিথিকে বলে উথ্বান একাদশী। এদিন দেবতাদের জাগরণ। শয়ন একাদশী থেকে উথ্বান একাদশী সময়টা এক প্রকার অকাল। এ সময় নিদ্রিত দেব-দেবীর পূজা করতে হলে দরকার হয় বোধনের। নিদ্রিত দেব-দেবীকে বোধনের মাধ্যমে জাগ্রত করে রামচন্দ্র পূজা করেছিলেন বলে শরৎকালের দুর্গাপূজাকে অকাল বোধনও বলা হয়ে থাকে। কালক্রমে মহারাজ রামচন্দ্রের এ শরৎকালীন পূজাই দুর্গাপূজা হিসেবে প্রচলিত হয়ে আসছে।
মাটি, খড়, বাঁশ, রঙ ইত্যাদির সাহায্যে দুর্গা দেবীর মূর্তি তৈরি করা হয়। পুরানে বলা হয়েছে যে দুর্গা কৈলাস পর্বতের শিখরে স্বামীগৃহ শিবের প্রাসাদে বাস করেন। বছরান্তে স্বামীগৃহ থেকে মর্ত্যে পিতৃগৃহে পুত্র কন্যাসহ আগমন করেন। এ উপলক্ষে হিন্দুরা তার কল্পিত মূর্তি তৈরি করে পূজা করেন। দুর্গাকে দশটি হাতের অধিকারিনী অর্থাৎ দশভুজা বলে কল্পনা করা হয়। আর এ কল্পিত দেবীর দশ হাতে দশটি অস্ত্র থাকে।
দুর্গাপূজার দুটি সময় বসন্তকাল এবং শরৎকাল। এর মধ্যে বসন্তকালের পূজাই প্রশস্ত। একে ‘বাসন্তী’ পূজা বলে। কথিত আছে যে, লঙ্কার রাজা রাবনকে বধ করার জন্য রামচন্দ্র শরৎকালে অর্থাৎ অকালে দেবীর পূজা করেছিলেন। এ জন্যও একে অকাল বোধন বলা হয়। তখন থেকেই শরৎকালীন দুর্গাপূজার প্রচলন শুরু হয়। একে শারদীয় উৎসব বলা হয়ে থাকে।
দশভুজ বিশিষ্ট দেবীর মূর্তিপূজা হয়ে থাকে। তার ডানে থাকেন লক্ষ্মী এবং বামে সরস্বতী। সঙ্গে সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং দেব সেনাপতি কার্তিক। দেবী সিংহবাহিনী। দেবীর এক পা সিংহের উপর, অপর পা অসূরের উপর। দেবী দশহস্তের অস্ত্র দ্বারা অসূরকে আঘাত করতে উদ্যত। শরৎকালের শুক্লাতিথিতে দেবীর বোধন হয় এবং সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এই তিনদিন মহাসমারোহে পূজা হয়। দশমীর দিনে দেবীর বিসর্জন হয়। ঐদিন নিকটস্থ জলাশয়ে দেবীর প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। এদিনকে বলা হয় বিজয়া দশমী। এদিন হিন্দুরা সম্বন্ধ অনুসারে পরস্পরকে প্রণাম, আশীর্বাদ, আলিঙ্গন করে থাকে। এ অনুষ্ঠানটি পরস্পরের মনোমালিন্য দূর করে প্রীতির সম্বন্ধ স্থাপন করে।
দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ উৎসব। তারা কর্মক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত প্রাণকে এই উৎসবে সতেজ এবং উৎফুল্ল করে তোলে। অতীতের বিবাদ-বিসংবাদ দূর করে সাদর সম্ভাবষণের মধ্য দিয়ে পরস্পরের মধ্যে প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে।
লেখক : অবঃ শিক্ষক

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • মূর্তিতেই দুর্গা : বিশ্বাসের বিষয় তর্কের নয়
  • শিক্ষার্থীর মনোজগৎ বিকাশে কার কী ভূমিকা
  • দুর্গের কর্তা দেবী দুর্গা
  • রাশিয়ার কাছে কি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাচ্ছে
  • দারিদ্র বিমোচনে সাফল্যের পথে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ-সম্প্রীতি সমাবেশ ও কিছু কথা
  • পর্যটন নীতিমালার বাস্তবায়ন কত দূর
  • ওসমানীর দন্তরোগ বিভাগ
  • দুর্গার আগমন শুভ হোক
  • দেবী দুর্গার আবির্ভাব
  • দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে
  • প্রসঙ্গ : পানি ও বিদ্যুতের অপচয়
  • কওমি সনদের স্বীকৃতি
  • জয় মোবাইল অ্যাপ
  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  • মৃন্ময়ী
  • Developed by: Sparkle IT