শেষের পাতা মানবেতর দিন কাটছে ৩০ হাজার শ্রমিকের

কোম্পানীগঞ্জ ও ছাতকের ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বের জেরে দু’সপ্তাহ ধরে কোয়ারিতে পাথর লোড-আনলোড বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ১১-১০-২০১৮ ইং ০৩:১১:৫২ | সংবাদটি ২৪৮ বার পঠিত

ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের পাথর ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বের জেরে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সুরমা ও পিয়াইন নদীতে পাথরবাহী নৌকায় পাথর লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। ছাতকের ব্যবসায়ীরা আড়াই শতাধিক নৌকা আটকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ করছেন কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। এতে মানবেতর দিন কাটছে পাথর কোয়ারির প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের। বিষয়টি সমাধানে দুই উপজেলার ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন থেকে সুরমা ও পিয়াইন নদী দিয়ে নৌকা চলাচলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন ছাতকের ব্যবসায়ীরা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাথর ও বালুবাহী নৌকা চলাচল একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি এলাকার ব্যবসায়ীদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিলের দাবি, ২০১০ সাল থেকে বর্ষা মৌসুমে পাথর ও বালুবাহী বলগেট, বড় নৌকা ও স্টিল বডি নৌকা কোম্পানীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন নদীপথে যাতে যাতায়াত না করে এর জন্য বাধা প্রদান করে আসছেন ছাতকের বিভিন্ন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন। ছাতক থানার আমবাড়ি ঘাটে নৌকা আটকিয়ে চাঁদাবাজি তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের ভেতরে ঢুকে যে সব নৌকা বা বলগেট পাথর বোঝাই করে ভাটির দিকে যায়, সে সব নৌকা থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে ছাতকের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। প্রতি জাহাজ, বলগেট ও স্টিল নৌকা থেকে ৫০ হাজার টাকা না দিলে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে অসংখ্যবার । আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানীগঞ্জের দুটি পাথরভর্তি বলগেট ও প্রায় আড়াইশ খালি নৌকা আটক করে রেখেছেন ছাতকের ব্যবসায়ীরা। এতে নৌকার মালিক ও ব্যবসায়ী শ্রমিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল আরো অভিযোগ করেন, ছাতকের পাথর ব্যবসায়ীদের দাবি কোম্পানীগঞ্জ থেকে সরাসরি কোনো নৌকা পাথর বোঝাই করে নিয়ে যেতে পারবে না। কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে হলে ছাতকের ব্যবসায়ীদের কমিশন দিয়ে ব্যবসা করতে হবে। এই অযৌক্তিক দাবি মানতে বাধ্য করাতে তারা পাথর-বালু লোড-আনলোড বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জে পাথর ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের পক্ষে মোঃ আব্দুল জলিল ছাতকের বিভিন্ন সমিতি সমূহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও দুই আসনের এমপিদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। একই সাথে বিষয়টির সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অপরদিকে, ছাতক উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল চৌধুরী অভিযোগ করেন, কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা কোয়ারি এলাকায় ছাতকের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ক্রাসার মিলে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এজন্য শ্রমিকরা পাথর লোড-আনলোড করছে না। এতে ব্যবসায়ীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। জয়নাল চৌধুরী বলেন, সৃষ্ট জটিলতার দ্রুত একটা সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • বাজারে আসতে শুরু করেছে মৌসুমী ফল : দাম চড়া
  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু আজ
  • সিলেটস্থ মৌলভীবাজার সমিতির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
  • ধর্মপাশায় হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু
  • মাহে রমজান তাকওয়া অর্জন, নৈতিক চরিত্র গঠন ও প্রশিক্ষণের মাস
  • মধুবন সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির দোয়া মাহফিল
  • বন ও পরিবেশের ক্ষতি করবেন না ----- মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন
  • জকিগঞ্জে স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে স্ত্রীর মৃত্যু
  • দেশে মান সম্মত ডাক্তার ও নার্সের অভাব রয়েছে
  • কুলাউড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে লাঠিপেটার ঘটনায় অভিযুক্ত মোলাইম খান গ্রেফতার
  • ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে বাসায় গেলেন শফিক চৌধুরী
  • ‘ঐতিহ্যের স্মারক সংরক্ষণ করেই নির্ধারিত জায়গায় সিলেট জেলা হাসপাতাল হবে’
  • ‘জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’
  • ছবি
  • ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা
  • উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়বেটিসের ঝুঁকি বেশি
  • আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস আজ
  • বিশ্বনাথের খোকনকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে নৌকায় উঠতে বাধ্য করা হয়
  • সিলেট জেলা বিএনপির জরুরি সভা সোমবার
  • মৌলভীবাজার সমিতির ইফতার মাহফিল আজ
  • Developed by: Sparkle IT