সম্পাদকীয়

মাদকাসক্ত ৩৬ লাখ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১০-২০১৮ ইং ০০:০৭:৩৩ | সংবাদটি ২১ বার পঠিত

দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৩৬ লাখ। এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে একটি সমীক্ষায়। মাদকাসক্তদের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক মাদকাসক্তের সংখ্যাই বেশি। মাদকাসক্তের সংখ্যা নির্ধারণে দেশে প্রথমবারের মতো এই সমীক্ষা পরিচালনা করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট। এতে দেখা যায় ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে তিন দশমিক তিন শতাংশ মাদকাসক্ত। সাত থেকে ১৮ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে এই হার শূন্য দশমিক এক শূন্য শতাংশ। ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে শুন্য দশমিক আট শতাংশ, সাত থেকে ১২ বছরের মধ্যে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে ছয় দশমিক নয় শতাংশ মাদকাসক্ত। পুরুষের মধ্যে মাদক ব্যবহারকারী চার দশমিক আট শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে দশমিক ছয় শতাংশ। বিভাগওয়ারী মাদক ব্যবহারকারী সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ৩৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। সিলেট বিভাগের ছয় দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবহার করে।
মাদকের নেশায় বুঁদ এদেশের তরুণ সমাজ। সমস্যাটি ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করছে। দিনে দিনে আবিষ্কার হচ্ছে নতুন নতুন নেশাদ্রব্য, দেশে তৈরি হচ্ছে, আমদানী হচ্ছে বিদেশ থেকে। তাছাড়া, চোরাকারবারীরা আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের ‘ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহার করছে এই ভূ-খন্ডকে। যে কারণে রকমারী মাদক বা নেশাদ্রব্য এদেশে বলা যায় সহজলভ্য। আর এই মাদক নিয়ে মাতামাতিতে ব্যস্ত এক শ্রেণির হতাশাগ্রস্ত তরুণ সমাজ। সামাজিক ও ব্যক্তি জীবনের নানান সমস্যার কারণে তারা প্রথমে হতাশায় নিমজ্জিত হয়। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে তারা। জগৎ-সংসার কিংবা নিজের জীবনটাই নিজের কাছে বিস্বাদ হয়ে ওঠে। এই মনোযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই তারা মাদকে আসক্ত হয়। এভাবেই তারা সামাজিকভাবে ভুলে যেতে চায় দুঃখ-কষ্ট। সরকারি সমীক্ষারই তথ্য হচ্ছে মাদক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে গাঁজা প্রায় ৮৩ শতাংশ। আর পেশা অনুসারে মাদক ব্যবহারকারীর হার শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর পরে রয়েছে-ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবী। অর্থনৈতিক অবস্থা অনুসারে বেশি আয়ের মানুষের মধ্যে মাদক সেবন বেশি।
মাদক একটা সামাজিক ব্যাধি। এজন্য একে সামাজিকভাবেই নির্মূল করতে হবে। তাই পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা সবচেয়ে জরুরি। পরিবারের অভিভাবককেই প্রথমে দায়িত্ব নিতে হবে সন্তানদের। এরা বিপথগামী হচ্ছে কি-না, মাদকে আসক্ত হওয়াসহ অন্য কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কি-না, সেটা নজরদারী করার দায়িত্ব পরিবারের বড়দের-অভিভাবকদের। সেই সঙ্গে সমাজের সচেতন শ্রেণিরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিরোধটা গড়ে তুলতে হবে সামাজিকভাবে। মাদকাসক্তরা যে কেবল সমাজের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করছে, তা নয়। তারা এক পর্যায়ে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে রুটিন মাফিক। তবে এই সব অভিযানে মাদকের উৎস বন্ধ হয় না, গডফাদাররা ধ্বংস হয় না। তাই নির্মূলও হয়না মাদক। যাতে মাদক সমূলে ধ্বংস হয়, সেই লক্ষে অভিযান চালাতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT