ধর্ম ও জীবন

মৌল কর্তব্য আল-কুরআনের বিধান

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১০-২০১৮ ইং ০০:০৯:৩৫ | সংবাদটি ১৩ বার পঠিত

যাকাত : আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যে যাকাত দাও মূলত এই যাকাত দানকারীরাই তাদের অর্থ বৃদ্ধি করে। (সূরা : রুম, আয়াত : ৩৯)
ঈমান আনয়ন কর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের উপর এবং ব্যয় কর সেসব জিনিস হতে যে সবের উপর তিনি তোমাদেরকে খলিফা বানিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে যেসব লোক ঈমান আনবে এবং সম্পদ ব্যয় করবে তাদের জন্য রয়েছে বিরাট প্রতিফল। (সূরা : হাদীদ, আয়াত : ৭)
দান-খয়রাত : তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে কোন জিনিস তাদের ব্যয় করা উচিত। তাদেরকে বলো, তোমরা ব্যয় করো তোমাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এতীম, অভাবী এবং পথিকের জন্য এবং তোমরা যা কিছু ভালো করো সবই আল্লাহ অবহিত। (সূরা : বাকারা, আয়াত : ২১৫)
এই সদাকাসমূহ মূলত ফকীর ও মিসকীনদের জন্য আর তাদের জন্য যারা সদাকাসমূহ উসূলের কাজে নিযুক্ত এবং তাদের জন্য যাদের মন জয় করা হলো উদ্দেশ্য। সেই সংগে দাস মুক্তির জন্য ও ঋণ ভারাক্রান্তদের সাহায্যে, আল্লাহর পথে ও পথিক মুসাফিরদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য। এ বিধান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ফরয। আল্লাহ সব কিছু জানেন এবং তিনি সুবিজ্ঞ ও সুবিবেচক। (সূরা : তওবা, আয়াত : ৬০)
অতএব হে (ঈমানদার লোকেরা) আত্মীয়কে তার হক পৌঁছে দাও। আর মিসকীন ও মুসাফিরকে দাও (তাদের হক)। এটাই উত্তম পন্থা সেই লোকদের জন্য যারা আল্লাহর সন্তোষ চায়। আর তারাই কল্যাণলাভে সক্ষম হবে। (সূরা : রুম, আয়াত : ৩৮)
মজুদদারীর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী : ১. নিশ্চিত ধ্বংস এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) লোকদের উপর গালাগাল এবং (পেছনে) দোষ প্রচার করে। ২. যে লোক ধন সঞ্চয় করে এবং তা বারবার গুণে। ৩. সে মনে করে যে, তার ধন সম্পদ চিরকাল সঞ্চিত থাকবে। ৪. কখনও নয়, সে ব্যক্তি তো অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়। (সূরা : হুমাযা, আয়াত : ১-৪)
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও ন্যায়আচরণ :
১. আর তুমি লোকদের মধ্যে যখন (কোন বিষয়ে) ফয়সালা করবে তখন তা ইনসাফের সাথে করো। (সূরা নিসা : আয়াত ৫৮)
২. আর বিচার ফয়সালা (কারো মধ্যে) করলে ঠিক ইনসাফ মোতাবেকই করবে। কেননা আল্লাহ ইনসাফকারী লোকদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা : মায়েদা, আয়াত : ৪২)
৩. হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইনসাফের ধারক হও ও আল্লাহর ওয়াস্তে সাক্ষী হও, তোমাদের এ সুবিচার ও এ সাক্ষ্যের আঘাত তোমাদের নিজেদের উপর কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের উপরই পড়–ক না কেন। আর পক্ষদ্বয় ধনী কিংবা গরীব যাই হোক তাদের সকলের অপেক্ষা আল্লাহর এ অধিকার অনেক বেশি যে, তোমরা তাঁর দিকেই বেশি লক্ষ্য রাখবে। অতএব নিজেদের নফসের খায়েসের অনুসরণ করতে গিয়ে সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা থেকে বিরত থেকো না। তোমরা যদি মন রাখা কথা বলো কিংবা সত্যবাদিতা থেকে দূরে সরে থাকো তবে জেনে রাখো তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। (সূরা : নিসা, আয়াত : ১৩৫)
৪. হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর ওয়াস্তে সত্য নীতির উপর দৃঢ়ভাবে কায়েম থাক এবং ইনসাফের সাক্ষ্যদাতা হও। কোন বিশেষ দলের শক্রতা তোমাদেরকে যেন এতদূর উত্তেজিত না করে যার ফলে তোমরা ইনসাফ ত্যাগ করে ফেলবে। ন্যায়বিচার করো। বস্তুত তাকওয়ার সাথে এর গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে। আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাকো, তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। (সূরা : মায়েদা, আয়াত : ৮)

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT