শেষের পাতা

ঘূর্ণিঝড় তিতলি ভারতের উড়িষ্যায় বিশ্বে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের কারণ-

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১০-২০১৮ ইং ০২:৩৫:৪৮ | সংবাদটি ৮৪ বার পঠিত

ডাক ডেস্ক : ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। ভারতের ঠিক অন্যপাশের উপকূলে, আরব সাগরের তীরে আঘাত করতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন লুবান। এ বছরের দশ মাসেই বিশ্বের দেশগুলোয় ছোট বড় মিলিয়ে ৫০টির বেশি ঝড়ের তৈরি হয়েছে। যে কারণে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে, তা বিবিসি বাংলার সৌজন্যে সিলেটের ডাক এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
পৃথিবীর দুই অংশের মানুষ এখন তিনটি বড় ধরণের ঝড়ের মোকাবেলা করছে।
ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। ভারতের ঠিক অন্যপাশের উপকূলে, আরব সাগরের তীরে আঘাত করতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন লুবান। প্রায় ৪০ বছর পর ভারতের একই অংশে একই সঙ্গে দুইটি সাইক্লোন আঘাত করতে যাচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টিপাত হলেও বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় তিতলির আসার সম্ভাবনা অনেক কম। সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়াারি সঙ্কেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর নদীবন্দরগুলোকে দেখাতে বলা হয়েছে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত।
অনেকটা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে হ্যারিকেন মাইকেল।
সবমিলিয়ে এ বছরের দশ মাসেই বিশ্বের দেশগুলোয় ছোট বড় মিলিয়ে ৫০টির বেশি ঝড়ের তৈরি হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যারিকেন ফ্লোরেন্স, হার্ভে, পুয়ের্তো রিকোয় মারিয়া, ফিলিপাইনে সুপার টাইফুন ম্যাঙ্গখুট, হাওয়াই দ্বীপে ঝড় লেন, যুক্তরাষ্ট্রে ঝড় আলবার্তো,সলোমন দ্বীপে লিলুয়া সাইক্লোন, ফিজিতে সাইক্লোন জোসি ছাড়াও অনেকগুলো ভূমিকম্প, বনের আগুন, ভূমি ধসে এবং বন্যার ঘটনা ঘটেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরের বাকি সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতেই সাত থেকে ১১টি সাইক্লোনের তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে তিন থেকে চারটি হবে বড় ধরণের। একই সময়ে এতো বেশি ঝড়ের জন্য বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ঝড় বেশি হচ্ছে। এমনকি একই সময়ে বিশ্বে একাধিক ঝড়েরও তৈরি হচ্ছে।
বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং এল নিনোর নিরপেক্ষতার কারণে সাগরের পরিবেশগুলোও অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। যেমন ভারত মহাসাগরে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা এক দুই ডিগ্রি বেশি উষ্ণ ছিল।
এসব কারণে এখানে ঝড়গুলো দ্রুত তৈরি হচ্ছে। তার অনেকগুলো পরবর্তীতে বড় হয়ে যাচ্ছে, অনেকগুলো আর বাড়ছে না। তিনি বলছেন, যতদিন পর্যন্ত এসব সাগরের উষ্ণতা যথেষ্ট মাত্রায় নীচে নেমে না আসবে,ততদিন এসব ঝড়ের দেখা পাওয়া যাবে।
‘সাইক্লোনের পরিবেশ তৈরির একটি বড় কারণ সাগরের ওপরের তাপমাত্রা ২৬.৫ বা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকা। এখন বিশ্বের অনেক এলাকার সমুদ্রেই এমনটা দেখা যাচ্ছে।’
তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, নভেম্বর মাস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে দুর্বল এল নিনোর তৈরি হতে পারে। এল নিনো তৈরির জন্য তারা ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন।
মি. মান্নান বলছেন, এল নিনো তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য এলাকায় সাগরের উষ্ণতা কমে যাবে। তখন এসব সাগরে ঝড়ের প্রবণতাও কমবে। তবে সেটি বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধিকে আবার প্রভাবিত করবে।
‘গত বছর ঝড় কম হয়েছে। এবার আবার বেশি হচ্ছে। এভাবে আবার একটি মৌসুম আসবে, যখন দেখা যাবে ঝড়ের প্রবণতা অনেক কমে যাবে।’
‘বিশেষ করে এল নিনো (পেরুর উপকূলে সমুদ্রের উপরের পানি গরম হয়ে যাওয়া, যা সেখানে মেঘ সৃষ্টি আর প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, দুই বা সাত বছর পরপর তৈরি হয়) তৈরি হলে সেটি বিশ্বের অন্যান্য এলাকায় একযোগে ঝড়ের প্রবণতা অনেক কমে যাবে,’ তিনি বলছেন।
সমুদ্রের উষ্ণ পানির কারণে বায়ু উত্তপ্ত হঠাৎ করে এসব ঝড়ের তৈরি হয়।
তখন তুলনামূলক উষ্ণ বাতাস হালকা হয়ে যাওয়ার কারণে ওপরে উঠে যায়, আর ওপরের ঠান্ডা বাতাস নীচে নেমে আসে। এসে নীচে বায়ুমন্ডলে বায়ুর চাপ কমে যায়। তখন আশেপাশের এলাকার বাতাসের তারতম্য তৈরি হয়।
সেখানকার বাতাসের চাপ সমান করতে আশেপাশের এলাকা থেকে প্রবল বেগে বাতাস ছুটে আসে। আর এ কারণেই তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়ের।
এর ফলে প্রবল বাতাস ও ¯্রােতের তৈরি হয়। যখন এসব এই বাতাসে ভেসে ঝড়টি ভূমিতে চলে আসে, তখন বন্যা, ভূমিধ্বস বা জলোচ্ছ্বাসের তৈরি করে। এর সবগুলো ঝড়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এগুলোকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন আটলান্টিক, ক্যারিবিয়ান সাগর, মধ্য ও উত্তরপূর্ব মহাসাগরে এসব ঝড়ের নাম হ্যারিকেন।
উত্তর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সেই ঝড়ের নাম টাইফুন।
বঙ্গোপসাগর, আরব সাগরে এসব ঝড়কে ডাকা হয় সাইক্লোন নামে।
যদি কোন নিম্নচাপ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করে, তখন সেটি আঞ্চলিক ঝড় বলে মনে করা হয় এবং তখন সেটির নাম দেয়া হয়। কিন্তু সেটি যদি ঘণ্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল) গতিবেগ অর্জন করে, তখন সেটি হ্যারিকেন, টাইফুন বা সাইক্লোন বলে ডাকা হয়।
এগুলোর পাঁচটি মাত্রা হয়েছে। ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করলে সেটির সর্বোচ্চ ৫ মাত্রার ঝড় বলে মনে করা হয়। তবে অস্ট্রেলিয়া ঝড়ের মাত্রা নির্ধারণে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে।
যেমন ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার আটটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ওমান।
এসব দেশের প্রস্তাব অনুসারে একটি তালিকা থেকে একটির পর একটি ঝড়ের নামকরণ করা হয়।
যেমন তিতলির নামকরণ করেছে পাকিস্তান। এর পরের ঝড়টির নাম হবে গাজা, থাইল্যান্ডের প্রস্তাব অনুসারে।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • অসমাপ্ত উন্নয়ন সমাপ্ত করতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন ----- মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি
  • মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের নেতৃত্বে মহানগর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ১০নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ
  • দলমত, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে ---মুহিবুর রহমান মানিক এমপি
  • বিজয় দিবসে জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মসূচি
  • মৌলভীবাজারে ধানের শীষের গণসংযোগে সিসিক মেয়র আরিফ
  • নবীগঞ্জ-বাহুবলকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করবো ---------------- মিলাদ গাজী
  • স্বেচ্ছা শ্রমে দিরাই-শাল্লা সড়কের দাড়াইন সেতুর মাটি ভরাট
  • দক্ষিণ সুরমায় শফি চৌধুরী’র দিনভর গণসংযোগ
  • আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসা নয়, উন্নয়নে বিশ্বাসী
  • আওয়ামীলীগ এখন জনবিচ্ছিন্ন -আব্দুল মুক্তাদির
  • জগন্নাথপুরে একই মঞ্চে জনতার মুখোমুখি ৩ প্রার্থী
  • শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা
  • জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল হান্নানের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন
  • ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে
  • শাল্লায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রসাদ খেয়ে শিশুর মৃত্যু ॥ অসুস্থ ১৫৭
  • লিডিং ইউনিভার্সিটিতে অটোমেশন সিস্টেম উদ্বোধন
  • সিলেটে অর্থমন্ত্রীর উন্নয়ন নিয়ে বিএনপির মিথ্যাচার দুঃখজনক
  • ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত
  • অপশাসনের পতন ঘটাতে ধানের শীষে ভোট দিন
  • শেখ হাসিনা সরকার নারীর ক্ষমতায়নের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে ------------শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ
  • Developed by: Sparkle IT