সম্পাদকীয় যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) ‘আমীন’ বলে, আর আসমানের ফেরেশতাগণ ‘আমীন’ বলেন এবং উভয়ের ‘আমীন’ একই সময় হলে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। - আল হাদিস

ইঁদুর নিধন অভিযান

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-১০-২০১৮ ইং ০০:৪৭:২৮ | সংবাদটি ৭৬ বার পঠিত

বছরে সাতশ’ কোটি টাকার বেশি ফসল যাচ্ছে ইঁদুরের পেটে। সাধারণত ধান, চাল ও গমই বিনষ্ট করছে বেশি। ইঁদুরের আক্রমণে বছরে আমন ধানের শতকরা পাঁচ থেকে সাত ভাগ, গম চার থেকে ১২ ভাগ, গোল আলু পাঁচ থেকে সাত ভাগ, আনারস ছয় থেকে নয় ভাগ নষ্ট হয়। ইঁদুর মাঠ ফসলের পাঁচ থেকে সাত ভাগ, গুদামজাত শস্য তিন থেকে পাঁচ ভাগ ক্ষতি করে। ইঁদুর সেচ নালা নষ্ট করে সাত থেকে দশ ভাগ। এশিয়ায় ইঁদুর বছরে ১৮ কোটি মানুষের এক বছরের খাবার খেয়ে নষ্ট করে। বাংলাদেশে ইঁদুর ৫০ থেকে ৫৪ লাখ লোকের এক বছরের খাবার নষ্ট করে। আর এই প্রেক্ষাপটেই দেশে শুরু হয়েছে ইঁদুর নিধন অভিযান। মাসব্যাপী অভিযান চলবে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে।
সামনে আসছে অগ্রহায়ণ মাস-দেশে সর্বাধিক উৎপাদিত ফসল আমন তোলার মওসুম। আর এই মওসুমকেই সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছর এই অভিযান। ১৯৮৩ সাল থেকে এই অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে অগ্রহায়ণের পূর্ব মুহূর্তে যখন ফসলের মাঠে পানি থাকে, সেই সময়টিকেই বেছে নেয়া হয় ইঁদুর নিধনের জন্য। কারণ মাঠে ঘাটে পানি থাকলেও ইঁদুর ঝোপ ঝাড় বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়। আর এইসব স্থানে ইঁদুর নিধন সহজতর হয়। ইঁদুর যে শুধু ফসলের জন্য ক্ষতিকর, তা নয়। ইঁদুর জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। মানুষ ও পশু পাখির মধ্যে প্লেগ, জন্ডিস, টাইফয়েডসহ প্রায় ৩০ ধরনের প্রাণঘাতি রোগের বাহক হচ্ছে ইঁদুর। একটি ইঁদুর প্রতিদিন তার দেহের ওজনের প্রায় দশভাগ খাবার গ্রহণ করে। নষ্ট করে আরও কয়েকগুণ। স্তন্যপায়ী সর্বভূখ নিশাচর এই প্রাণীটি সেচ ব্যবস্থার সাত থেকে দশ ভাগ পানি অপচয় করে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক এ রেল লাইনের জন্যও এই প্রাণীটি ক্ষতিকর। বাংলাদেশে ১৭ প্রজাতির ক্ষতিকর ইঁদুর রয়েছে। সাধারণত ইঁদুর তার ছেদন দন্ত ঠিক রাখার জন্য সব সময় তার চেয়ে শক্ত জিনিস কাটে।
ফসলের শত্রু ইঁদুর। এটি সবার অজান্তে বছরে কোটি কোটি টাকা মূল্যের ফসল বিনষ্ট করছে। তাই দরকার ইঁদুরের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান। কিন্তু প্রতি বছর এই অভিযান পরিচালিত হলেও এর ফলাফল খুব একটা আশানুরূপ নয়। ইতোপূর্বে ইঁদুর নিধনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হতো। কিন্তু ইদানিং সেটা হচ্ছে না বললেই চলে। তাই প্রতি বছরই ইঁদুর নিধনের হার কমে আসছে। এই অবস্থায় প্রতি বছর ইঁদুর নিধন অভিযান ‘¯্রফে রুটিন ওয়ার্কে’ পরিণত হয়েছে। সুতরাং ইঁদুরের ক্ষতিকারক দিকটি তুলে ধরে ইঁদুর নিধনে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এর জন্য দরকার গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক প্রচারণা। আর চলতি ইঁদুর নিধন অভিযানেই এই উদ্বুদ্ধকরণ কাজটি শুরু হোক।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT