উপ সম্পাদকীয়

প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী

মোঃ নুরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-১০-২০১৮ ইং ০০:৪৮:২৬ | সংবাদটি ৩৪ বার পঠিত

পুজিবাজার থেকে পুজি সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন সময়ে আই.পি.ও এর ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এতে বি.ও হিসাব ধারীরা শেয়ার পাওয়ার আশায় আবেদন করে থাকেন। যদি শেয়ারের সংখ্যার চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয় তখন আই.পি.ও লটারীর মাধ্যমে শেয়ার বন্টন প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন হয়। লটারীর মাধ্যমে শেয়ার পাওয়া একটি ভাগ্যের ব্যাপার। কারণ এই সব শেয়ার যখন সেকেন্ডারী মার্কেটে আসে তখন তার মূল্য শুরুতে অনেক বেশি হয়। কাজেই এতে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে, বাস্তবেও তাই। যার ফলে আমরা দেখতে পাই পুজিবাজারে নতুন আই.পি.ও এলে প্রচুর সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। বর্তমানে পুজিবাজারে ২০/৩০ লক্ষ বি.ও হিসাবধারী আছে। পত্রিকা পড়ে যে তথ্য মিলে তাতে এই ধারণাই পাওয়া যায় যে, অনেক বি.ও হিসাবধারী সেকেন্ডারী মার্কেটে কোন ট্রেড করেন না। শুধু আই.পি.ও লটারীতে অংশ নিয়ে থাকেন। এমন কি লটারীতে প্রাপ্ত শেয়ার তাৎক্ষণিক বিক্রি করে আবার আই.পি.ও লটারীতে অংশ নেওয়ার অপেক্ষা করেন। যারা প্রথম থেকে নানা কৌশলে একাধিক বি.ও হিসাব খোলে (কেউ কেউ ১০০ হইতে তারও অনেক উপরে) নিজেদের আয়ত্ত্বে রেখেছেন তারাই উক্ত লটারীতে সফলতা পেয়ে থাকেন। আর যারা ২/১টি হিসাব খোলে সেকেন্ডারী মার্কেটে ট্রেড করেন তারা আই.পি.ও লটারীতে হতাশ হন।
পুজিবাজারে ঝুঁকি রয়েছে। জেনেশুনে ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই সেকেন্ডারি মার্কেটে ব্যবসা করে থাকেন। অথচ এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী মৌসুমী ব্যবসায়ী কোন ঝুঁকিতে না গিয়ে বাজারে যখন আই.পি.ও আসে তখন হাউজে এসে হাজির হন। পুজি বাজারে যে ট্রেড হয় সেখানে তাদের কোন অংশ নেই। বর্তমানে সেকেন্ডারী মার্কেটে ট্রেড এর মাত্রা তলানীতে আছে। ব্রোকার হাউজে যতজন কর্মকর্তা/কর্মচারী আছেন হাউজে ততজন বিনিয়োগকারী এখন দেখা যায় না। তাই নানা কৌশল প্রয়োগ করে হলেও সব হিসাবধারী যাতে পুজিবাজারে সেকেন্ডারি মার্কেটে ট্রেড করেন তা নিশ্চিত করা চাই। এতে ট্রেইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তাই প্রস্তাব রাখছি যে সমস্ত বি.ও হিসাবে একনাগাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে কোন ট্রেড হয়নি তা বন্ধ করে দেওয়া। আর যা কার্যকর করতে হবে তা হলো প্রতিটি বি.ও হিসাবধারীর হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে ২০,০০০/- টাকা স্থিতি বা তা সমমূল্যের শেয়ার থাকা নিশ্চিত করা। উপরোল্লেখিত দুইটি প্রস্তাবের পাশাপাশি আরো একটি প্রস্তাব রাখছি :
সাধারন বিনিয়োগকারীদের জন্য আই.পি.ও লটারীতে শেয়ারের সাইজ বা কোটা নির্ধারণ করা আছে। সেই শেয়ারের সাইজের বা যে কোটা আছে তার বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
১। সাধারণ বিনিয়োগকারী : যারা সেকেন্ডারী মার্কেটে ট্রেড করেন না বা ট্রেড করলেও বিনিয়োগের স্থিতি গড়ে প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকার নিচে।
২। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী : সেকেন্ডারি মার্কেটে যাদের বিনিয়োগের স্থিতি গড়ে প্রতি মাসে ২০,০০০/- টাকা বা তার উপরে কিন্তুু ১ লক্ষ টাকার নিচে।
৩। সক্রিয় বিনিয়োগকারী : যাদের বিনিয়োগের স্থিতি গড়ে প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা বা তার উপরে।
উপরোল্লিখিত এই তিন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের পুজিবাজারের যার যার ভূমিকার গুরুত্ব বিবেচনা করে আই.পি.ও লটারীতে আলাদা আলাদা শেয়ার কোটা বা লট তৈরী করা চাই যেভাবে আছে ক্ষতিগ্রস্থ ও অনাবাসীদের জন্য।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ডাক বিভাগ ফিরে পাচ্ছে প্রাণ
  • আমরা সবাই ভালো হলে দেশ ভালো হবে
  • ‘জাতীয় বীর’ কৃষকদের নিয়ে কিছু কথা
  • ভর্তিযুদ্ধে লাঘব হোক ভোগান্তি
  • মানব সম্পদ উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা
  • ভোটের মাঠে তারকার মেলা
  • আয় বৈষম্য ও সামাজিক অসমতা
  • সামাজিক আন্দোলন : নিরাপদ সড়ক চাই
  • আলী হোসেন খান
  • মৃত্যুই দিয়েছে তাঁরে চিরমুক্তি!
  • আমেরিকা : ট্রাম্প শাসনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব
  • ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাব
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • Developed by: Sparkle IT