উপ সম্পাদকীয়

আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা

শেখ মোঃ মঈনুদ্দিন নুমান প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-১০-২০১৮ ইং ০০:৪৯:৫০ | সংবাদটি ৫১ বার পঠিত

দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের জনগোষ্ঠির একটা উল্ল্যেখযোগ্য অংগ হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিশু। তাদের জন্য তথা আমাদের জীবনে অর্থের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য। তাই অর্থ ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। প্রাচীন কাল থেকেই অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রথমস্তর সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে মানবজাতি। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকের ধারণা সৃষ্টি। পৃথিবীতে ব্যাংকের জন্ম একদিনে হয়নি। শত শত বছরের নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ব্যাংক বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। অনেকের ধারণা, ব্যাংক (ইঅঘক) শব্দটি ইতালীয় শব্দ থেকে এসেছে। ইঅঘঈঙ শব্দটির অর্থ হচ্ছে বেঞ্চ বা লম্বা টুল। আগেকার দিনে স্বর্ণকার ও পুরোহিতরা ধনী ও বিশ্বস্ত হওয়ায় তাদের কাছে মূল্যবান সম্পদ জমা রাখা হতো। এভাবে দীর্ঘদিন যাবত তাদের কাছে মূল্যবান সম্পদ জমা থাকত ফলে প্রয়োজনের সময় অনেকেই তাদের নিকট কর্জ চাইত। তখন স্বর্ণকারেরা সুদের বিনিময়ে অভাবী মানুষকে কর্জ দিত। পুরোহিতরাও একইভাবে মানুষকে ঋণ দিয়ে আয় করা শুরু করলেন। স্বর্ণকার ও পুরোহিতদের এ ব্যবসা যখন জনপ্রিয় হয়ে উঠল, তখন তারা জমাকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য লাভের একটা অংশ তাদের দেওয়া শুরু করলেন। এভাবেই প্রাচীন আমলে শুরু হয় ব্যাংক ব্যবসা। স্বর্ণকার, পুরোহিতদের হাত ধরে ব্যাংকব্যবসা এক সময় ব্যবসায়ী ও মহাজনশ্রেণীর হাতে চলে আসে। অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পর ১১৫৭ সালে সরকারি উদ্দ্যোগে প্রথম ব্যাংক “ব্যাংক অব ভেনিস” অত্মপ্রকাশ করে।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের চিত্রও একই রকম। ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক সেবায় বীমা, এনজিও এবং লিজিং প্রতিষ্ঠান সমূহও দায়িত্ব পালন করে চলছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্ট বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির সবল ও শক্ত ভীত বিনির্মানে ব্যাংক সমূহের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তখন তৎকালীন ১২টি ব্যাংককে পূনর্গঠন করে ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রানীতি তৈরী করে। তাছাড়াও নোট ছেপে বাজারে ছাড়ার কাজটিও কেন্দ্রিয় ব্যাংক করে থাকে। বাংলাদেশের টাকা ছাপানোর কারখানার নাম “দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড”।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমনঃ ১. কেন্দ্রীয় ব্যাংক * ২. তফসিলি ব্যাংক * ৩. অ-তফসিলি ব্যাংক * ৪. অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান * ৫. বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান
তফসিলি ব্যাংক সমূহকে ব্যাংক কোম্পানী আইন-১৯৯১ এর আওতায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়। নি¤েœ বিভিন্ন ধরনের তফসিলি ব্যাংক নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ- ১. বাংলাদেশে বর্তমানে ৬টি রাষ্ট্রায়াত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। এগুলো হলোঃ- অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, বিডিবিএল এবং বেসিক ব্যাংক। ২. বাংলাদেশে বর্তমানে ৭টি রাষ্ট্রায়াত্ব বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে। এগুলো হলোঃ- কৃষি ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যান ব্যাংক এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। ৩. ৩২টি বেসরকারি বানিজ্যিক ব্যাংক। ৪. ৮টি ইসলামী শরীয়াভিত্তিক বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক। ৫. ৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
আমাদের দেশের ব্যাংক সমূহ বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি অধিবাসীগণকেও ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে অর্থবাজারে কাজ করে। এরা জনসাধারণের নিকট থেকে কম সুদে আমানত গ্রহণ করে, অধিক সুদে তা ঋণ হিসাবে দেয়। বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ মূল্যবান সম্পদ নিরাপদে জমা রাখে, বৈদেশিক বাণিজ্যে সাহায্য করে, টাকা-পয়সা দেশে-বিদেশে স্থানান্তরে সাহায্য করে। তবে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃব ঝড়পরধষ জবংঢ়ড়হংরনরষরঃু-র আওতায় বেশ কিছু কার্যক্রমে আত্মনিয়োগ করেছে। যেমন- গরীব মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদান, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা প্রদান, শীতার্তদেরকে শীতবস্ত্র প্রদান ইত্যাদি। বাণিজ্যিক ব্যাংকে হিসাব খুলে যে কেউ লেনদেন করতে পারেন। ব্যাংকের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে নিজের সঠিক ও পূর্ণ পরিচয় দিয়ে ব্যাংকে হিসাব খোলা যায়। বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠি, কৃষক সমাজ এবং ছাত্র-ছাত্রীরা দশ টাকা জমা দিয়েও ব্যাংকে হিসাবে খুলতে পারেন। ব্যাংক হিসাব খুললে একটি চেকবই পাওয়া যায়। ব্যাংকে টাকা জমা থাকলে প্রয়োজন অনুসারে টাকা তোলা যায়। চেকের পাতায় টাকার অঙ্ক লিখে তাতে সই করে ব্যাংকের কাউন্টারে জমা দিলে ব্যাংক নগদ টাকা প্রদান করে। চেকের পাতায় লিখা তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেমন- অগ্রিম তারিখযুক্ত চেক পরিশোধ করা যায়না আবার ছয় মাস পূর্বের তারিখযুক্ত তামাদি চেকও পরিশোধ করা যায় না। চেকের উপর কোনরূপ ঘষামাজা গ্রহণযোগ্য নয়। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে ব্যাংক অধিক হারে মুনাফা দেয়। বিভিন্ন ব্যাংকের বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় বিনিয়োগ স্কিম রয়েছে। এগুলো সম্পর্কে ভাল করে জেনে লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে হয়।
টাকার যেকোন ধরনের অপব্যবহারকে মানিলন্ডারিং বলে। মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী কাজে যেন টাকার ব্যবহার না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
লেখক : ব্যাংক কর্মকর্তা।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ডাক বিভাগ ফিরে পাচ্ছে প্রাণ
  • আমরা সবাই ভালো হলে দেশ ভালো হবে
  • ‘জাতীয় বীর’ কৃষকদের নিয়ে কিছু কথা
  • ভর্তিযুদ্ধে লাঘব হোক ভোগান্তি
  • মানব সম্পদ উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা
  • ভোটের মাঠে তারকার মেলা
  • আয় বৈষম্য ও সামাজিক অসমতা
  • সামাজিক আন্দোলন : নিরাপদ সড়ক চাই
  • আলী হোসেন খান
  • মৃত্যুই দিয়েছে তাঁরে চিরমুক্তি!
  • আমেরিকা : ট্রাম্প শাসনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব
  • ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাব
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • Developed by: Sparkle IT