উপ সম্পাদকীয়

জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে

মোঃ জহিরুল আলম শাহীন প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১০-২০১৮ ইং ০০:৪১:৫৭ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

১ নভেম্বর হতে জেএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। তোমরা যারা পরীক্ষার্থী তোমাদের মা-বাবা, শিক্ষকরা আশা করে আছেন তোমরা এই পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করবে। তাদের আশা পূরণে তোমাদের পরিশ্রম করে ভালো মতো প্রস্তুতি নিতে হবে। মনে রাখতে হবে যার প্রস্তুতি যত ভালো তার পরীক্ষা ও ফলাফল তত ভালো হবে। আর ভালো ফলাফল করার পথকে আরো এগিয়ে দেয় পরীক্ষার খাতায় উত্তর ভালোভাবে উপস্থাপন।
সুন্দর উপস্থাপন বলতে বুঝায় খাতা পরিচ্ছন্ন, নির্ভুল, মানসম্মত এবং প্রশ্ন মোতাবেক যথাযথ উত্তর লিখা। পরীক্ষার জন্য সকল প্রকার ভয়ভীতি মন থেকে একেবারে সরিয়ে দিয়ে মুক্ত মনে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নাও। দৃঢ় মনোবল আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দাও অবশ্যই সফলতা আসবে। যেহেতু প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার পর মাধ্যমিক পর্যায়ে তিন বছর লেখাপড়ার পর এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছ। তাই অধীত বিদ্যা আরও অর্জিত জ্ঞানকে সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারার উপর নির্ভর করে পরীক্ষার সফলতা। এ সফলতা আরো সুন্দরভাবে বয়ে আনতে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানা ও শিখার জন্য তুলে ধরা হলো
পরীক্ষার আগের রাতে করণীয় ঃ পরীক্ষার সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থতার জন্য বেশী রাত জেগে পড়াশোনা করবে না। আগের পড়া বিষয়গুলো ভালো করে পড়ে নিবে। পরীক্ষার হলে ব্যবহৃত তোমার জিনিসপত্র গুলো যেমন কলম, বলপয়েন্ট কলম, সবুজ কালির কলম, স্কেল, কাঠপেন্সিল, মূল প্রবেশপত্র, মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড, হাত ঘড়ি, জ্যামিতি বক্স, ক্যালকোলেটর ইত্যাদি একটি স্বচ্ছ ব্যাগে ভরে রাখবে। সরকারি নির্দেশ মোতাবেক প্রতি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা আগে অবশ্যই পরীক্ষার হলে ঢুকতে হবে। সুতরাং তোমার বাসা-বাড়ি হতে যাতে সাড়ে নয়টার আগেই পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছা যায় এমনভাবে ঘর থেকে বের হতে হবে। পরীক্ষার খাতায় লাল কালি ও পরীক্ষার হলে যে কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি নিষেধ। তাই এ দুইটি জিনিস কোনো পরীক্ষার্থী সাথে নিবে না। পাবলিক পরীক্ষায় ক্যালকোলেটর ব্যবহার করা যায়। তবে যে ক্যালকোলেটারে পূর্ব থেকে কোন হিসাব বা তথ্য সংরক্ষণ করা যায় এবং পরে তা সংরক্ষণ থেকে এলে ব্যবহার করা যায়। এমন ক্যালকোলেটর নিষেধ। সাইন্টিফিক ক্যালকোলেটর ব্যবহার করা যায় তবে গ্রাফিক ডিজাইন করা যায় এমন ছাড়া। কেন্দ্রের ভিতরে যাওয়ার পর সিট বের করতে অসুবিধা হলে কর্তব্যরত কোনো শিক্ষককে বলবে তিনি তোমাকে সাহায্য করবে। তাছাড়া প্রতি কেন্দ্রের ভিতরে নোটিশ বোর্ডে রোল নম্বর অনুযায়ী কক্ষ নম্বর দেওয়া আছে তা দেখে নিলেই সিট পেয়ে যাবে।
পরীক্ষার খাতা হাতে পাওয়ার পর ঃ পরীক্ষার হলে প্রবেশের পর নিজ নিজ রোল নাম্বার লাগানো জায়গায় চুপ করে বসে থাকবে। হৈ চৈ করবে না। একে অপরের সাথে কথাবার্তা বলবে না। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে প্রত্যেক হলে কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষক তোমার হাতে খাতা তুলে দেবে। এখন খাতাটি পরিচ্ছন্ন সেলাই করা আছে কিনা বা ভিতরে পাতা ছিঁড়া কিনা দেখে নিবে। কোনো অসুবিধা থাকলে স্যারকে বলবে, তিনি বদলিয়ে দেবেন। খাতার প্রথম পাতাটি ছাপানো এবং রঙিন লেখা। এর নাম ওএমআর শীট। এ পাতার প্রথম অংশে শিক্ষার্থী তার তথ্য পূরণ করবে। সবার ওপরে জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষা ২০১ লিখা আছে তুমি ৮ লিখে পূরণ করবে। সর্ববাম দিক থেকে বোর্ড, রোল নং, রেজিঃ নং, বিষয় কোড লিখা আছে। এগুলোর বৃত্ত ভরাটের ওপরে কাঠপেন্সিল দিয়ে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। ভুল হলে রাবার দিয়ে মুছে সঠিকটি লিখে তারপর বলপয়েন্ট কলম দিয়ে ভরাট করে নিবে। কলম দিয়ে ভরাট করার পর ভুল হয়ে গেলে সাথে সাথে কক্ষ পরিদর্শক স্যারকে বলবে। তিনি শুদ্ধ করার ব্যবস্থা নিবেন। তোমার ভয়ের কিছু নেই। সর্ব ডান দিকে আছে অতিরিক্ত খাতার নম্বর। তোমার মূল খাতা শেষ হলে অতিরিক্ত খাতা নিলে তার নম্বর লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। তবে মনে রাখবে যে দিন যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সেই বিষয়ের বিষয় কোড প্রবেশপত্র দেখে লিখতে হবে। ওএমআর শীটের নিচের অংশে কোনো কিছু লিখা যাবে না।
খাতা প্রস্তুত করণ ঃ খাতার ওপরের পাতা অর্থাৎ ভরাট করা তথ্য সমন্বিত পাতাটি যাতে ভাঁজ না পড়ে তা খেয়াল রাখতে হবে। এ পাতাটি উল্টালেই পাওয়া যাবে ছাপানো বিষয়ের নাম, তারিখ ও বিষয় কোড লিখতে হবে। তারপর কাঠপেন্সিল দিয়ে খাতার প্রতিটি পৃষ্ঠার বামে ও উপরে ১ ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা রেখে পুরো খাতা মার্জিন করে নিবে।
প্রশ্ন হাতে পেয়ে এবং লেখা শুরু ঃ প্রশ্ন হাতে পেয়ে শান্তভাবে ধীরে ধীরে প্রশ্নের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে নিবে। তারপর যে প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পারো বা মনে পড়ছে তা দিয়ে উত্তর লেখা শুরু করবে। তার পূর্বে খাতার পাতার মাঝ বরাবর কত নং প্রশ্নের উত্তর লিখছ তা স্পষ্ট করে লিখবে। যেমন ১নং প্রশ্নের ‘ক’ এর উত্তর। তার সবুজ কালির কলম দিয়ে নিচে দাগ দিয়ে দিবে। গণিত ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্নে এক একটি প্রশ্নের ক, খ, গ, ঘ এই চার অংশ থাকবে। গণিতে ক, খ, গ এই তিন অংশ থাকবে। উত্তর করার সময় একই প্রশ্নের ক, খ, গ, ঘ পরপর ধারাবাহিকভাবে লিখতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লিখা শেষ হলে সরল রেখায় সমাপ্ত চিহ্ন দিতে হবে।
উত্তর যেভাবে লিখবে ঃ পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য উপায় হলো সহজ সরল সাবলিল ভাষায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে উত্তর লিখতে হবে। একই উত্তরে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ করা যাবে না। বানান শুদ্ধ করে শব্দ হতে শব্দ, লাইন হতে লাইনের দূরত্ব বজায় রেখে লাইন সোজা করে লিখতে হবে। অযথা প্রশ্নের উত্তর লম্বা করা যাবে না। উত্তরে অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখা যাবে না। লম্বা উত্তরই মূল্যবান নয়, মূল্যবান হচ্ছে উত্তরটুকু মান সম্পন্ন কিনা। সুতরাং প্রশ্নে যা চাওয়া হয়, তার উত্তর টুকুই লিখবে। লাইনেও শব্দ ঘষা মাজা, কাটাকাটি, এলোমেলো করা যাবে না। যদি কোনো শব্দ কাটতেই হয় তাহলে এক টানে কেটে তার শুদ্ধটি লিখে দিতে হবে।
সময়ের সাথে সম্পর্ক রেখে উত্তর ঃ পরীক্ষা শুরুতেই বহু নির্বাচনী বা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর খাতায় প্রথম পাতার অর্থাৎ ওএমআর শীটের নিচে ছাপানো ঘরে ঠিক চিহ্ন দিয়ে উত্তর দিতে হবে। ৩০টি প্রশ্নের জন্য ৩০ মিনিট সময় থাকবে। বাকী ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটে ১১টি প্রশ্নের মধ্যে ৭টি প্রশ্নের উত্তর লিখা শেষ করতে হবে। তাই লেখার সাথে সময়টা খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। কোনো প্রশ্নের উত্তর ভালো জানো বলে বড় করে লেখার দরকার নেই। এতে তোমার সময় নষ্ট হবে। যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেখা শেষ করা যায় এবং সব শেষে খাতার লেখাগুলো একবার রিভিশন দেওয়া যায় এমনভাবে লেখা শেষ করতে হবে।
ছক দেওয়া, চিত্র আঁকা ঃ কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তরে ছক ও চিত্র দিতে হয়। প্রশ্নের প্রয়োজনে যখনই পারবে ছক কিংবা চিত্র এঁকে দিবে। এতে তোমার উত্তরের গুণগত মান বাড়বে। এতে বেশী নাম্বার আসবেই। বিজ্ঞান বিষয়ে চিত্র বেশী প্রয়োজন। চিত্র এঁকে চিত্রের নিচে তার নাম লিখে দিবে। গণিতের উপপাদ্য, সম্পাদ্য নিখুঁতভাবে চিত্র অংকন করবে। কোনো প্রকার ঘষামাজা করবে না। সুন্দরভাবে চিহ্নিত করবে।
হাতের লেখা ও শুদ্ধ বানান ঃ সুন্দর হাতের লেখা একটি সম্পদ। স্পষ্ট অক্ষরে পরিচ্ছন্নভাবে সুন্দর করে লিখলে অবশ্যই ভালো নম্বর আসবে। এতে পরীক্ষক অতি সহজে উত্তরটি বুঝতে পারেন এবং খুশী হন। কোনো লাইন বা অনুচ্ছেদ কেটে দিতে হলে হিজিবিজি করা যাবে না। একটানে কেটে তার উপরে লিখে দিতে হবে। একই ভাবে কোনো শব্দ ভুল হলে তা কেটে তার ওপরে লিখে দিতে হবে। যে সব বানান সচরাচর ভুল হয় সেগুলো বেশী করে চর্চা করতে হবে। বিখ্যাত আর পরিচিত নামের বানান ভুল হলে পরীক্ষক বিরক্ত হন। এতে তোমার প্রাপ্ত নম্বর কমে যেতে পারে। বিশেষ করে তোমার পাঠ্য বইয়ের কবি, সাহিত্যিক, লেখকের নাম যেন ভুল না হয়। খেয়াল রাখবে।
মনীষীদের সংজ্ঞা ও উদ্ধৃতি ঃ প্রশ্নের উত্তরে কোনো মনীষী বা লেখকের সংজ্ঞা ও উদ্ধৃতি লেখার সময় লেখক বা মনীষী যেভাবে বলেছেন হুবহু সেভাবেই দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন সহ লিখবে। পরিবর্তন করে লিখা যাবে না।
সতর্কতা ঃ উত্তরপত্রে আপত্তিকর লেখা বা অসৌজন্যমূলক মন্তব্য বা কোনো প্রকার অনুরোধ, খাতা জমা না দিয়ে বেরিয়ে আসা, পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি বা শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনায় কোনো রূপ বাধা সৃষ্টি করা হলে পরীক্ষা বাতিলসহ এ পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। খাতার কোথাও নিজের নাম, রোল নম্বর, মোবাইল নম্বর, টেলিফোন নম্বর, বিদ্যালয়ের নাম, কেন্দ্রের নাম, কোনো অবস্থাতেই লেখা যাবে না।
শেষ কথা ঃ এ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে ভালো বা পূর্ণ নম্বর পাওয়া। তাই প্রতি বিষয়ের পাঠ্য বইটি ভালো করে পড়ে নিতে হবে। উত্তর দেওয়ার সময় ধীরে ধীরে পড়ে নিশ্চিত হয়ে উত্তরের বৃত্তটি ভরাট বা ঠিক চিহ্ন দিতে হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে উত্তর লেখা শেষ করতে হবে। তারপর খাতার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তর করা প্রশ্নের নম্বর ঠিক মতো লেখা হলো কি না, খাতার লেখা নম্বরের সাথে প্রশ্নের মিল আছে কিনা তা দেখতে হবে। প্রতি প্রশ্নের উত্তর ভালো করে রিভিশন দিতে হবে। খাতার কভার পাতায় বা ওএমআর শীটে কক্ষ পরিদর্শকের স্বাক্ষর, ছাত্র হাজিরা শীটে তোমার স্বাক্ষর হয়েছে কিনা তা দেখে এবং অতিরিক্ত খাতা নিলে তা মূল খাতার সাথে সেলাই করে খাতাটি কক্ষ পরিদর্শকের নিকট জমা দিয়ে আসতে হবে।
লেখক ঃ শিক্ষক ও কলাম লেখক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভর্তিযুদ্ধে লাঘব হোক ভোগান্তি
  • মানব সম্পদ উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা
  • ভোটের মাঠে তারকার মেলা
  • আয় বৈষম্য ও সামাজিক অসমতা
  • সামাজিক আন্দোলন : নিরাপদ সড়ক চাই
  • আলী হোসেন খান
  • মৃত্যুই দিয়েছে তাঁরে চিরমুক্তি!
  • আমেরিকা : ট্রাম্প শাসনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব
  • ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাব
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর কথা
  • এই অপসংস্কৃতির অবসান হোক
  • সৈয়দ সুমন আহমদ
  • Developed by: Sparkle IT