উপ সম্পাদকীয়

সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব

এডভোকেট মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১০-২০১৮ ইং ০০:৪৪:৩৬ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

গণতন্ত্রের অর্থই হল গণ তথা জনগণ এবং তন্ত্র শাসন ও উন্নয়ন অর্থাৎ দেশের জনগণের শাসন ও উন্নয়ন। যেহেতু গণতান্ত্রিক দেশের মালিক দেশের জনগণ তাই জনগণকেই দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নের ব্যবস্থা নিতে হয়। অন্যথায় গণবিরোধী শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠে। গণতান্ত্রিক দেশে শাসন মানে সুশাসন যা জনগণ নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করেন যাতে দেশে দ্রুত সুশাসন উন্নয়ন হয়। কারণ উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মের সংস্থান করতে হয় যাতে দেশ দ্রুত বেকার ও দরিদ্রমুক্ত হয়ে জনগণ সুখি হয়, সম্মানিত জীবন উপভোগ করে মুক্তি ও স্বাধীনতার সুফল ভোগ করে। বেকার ও গরিব জাতি মুক্ত স্বাধীন সম্মানিত ও গণতান্ত্রিক থাকতে পারে না।
গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া যেখানে দেশের মালিক তথা জনগণকে দেশের মালিকানা সম্বন্ধে সদা-সর্বদা সচেতন থাকাই মুখ্য বিষয়। জনগণের এ সচেতনতাকে ক্রিয়াশীল রাখতে ও বিকশিত করতে দেশের সুপরিচালনা ও উন্নয়নের ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসুচি নিয়ে সমমনা কর্মী ও নেতাদের নিয়ে গঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সোচ্চার থাকতে হয়। এখানেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। এ নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্যে দলে ও দেশে নির্দিষ্ট সময়ান্তে সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য্য। নির্বাচন মানে দেশের সুপরিচালনা ও উন্নয়নের স্বার্থে জনগণের পছন্দের মাধ্যমে কর্মকান্ড ও দক্ষতার ভিত্তিতে দল ও দেশে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করা যারা নিজ স্বার্থের উর্ধ্বে থেকে দল দেশ ও জাতিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিবেন। মনে রাখতে হবে গণতান্ত্রিক দেশ পরিচালনা মানে সুশাসন ও সুবিচারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করে দ্রুত দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেওয়া। গণতান্ত্রিক দেশে উপনিবেশিক আমলের ন্যায় শাসন নয় জনসেবার মাধ্যমেই নেতৃত্ব দিতে হয়। কারণ সেবা করার ওয়াদা দিয়েই ভোট নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের গণতান্ত্রিক দেশ সংবিধানের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। দেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই জনগণের ইচ্ছানুযায়ী রচিত সংবিধানের বিধানমতে প্রণীত আইনানুযায়ি দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের সংবিধানুসারে আইনানুযায়ি দেশের সবাই সমান এবং দেশের সবাই সুশাসন, সুবিচার এবং সুষম উন্নয়ন প্রাপ্তির অধিকারী যা দেশের জনগণ নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং প্রদত্ত করের টাকায় লালিত আমলাগণ কর্তৃক নিশ্চিত হতে হয়। সর্বোপরি সংবিধান মতে দেশ ও সমাজ পরিচালনা ও উন্নয়নের ব্যাপারে জনগণের সচেতন অংশকেই চিন্তা করতে, কথা বলতে হয়। সমমনাদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা হয় যাতে দেশের জাতীয় সংবিধানের আলোকে নিজেদের সংবিধান রচনা করে সংগঠন গড়ে তোলে দেশের সুপরিচালনা, সুবিচার ও উন্নয়নের জন্য নিজ নিজ সংগঠনের কর্মসূচি প্রণয়ন করে সে সম্বন্ধে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে অবহিত করে জাতীয় নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা অন্যান্য দলের নির্বাচিতদের সাথে মিলিত হয়ে নিজেদের দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের নিমিত্তে দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হয়। এসবই তদারকি করে সংবিধান অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য সংবিধান অনুযায়ি আমাদের দেশ বহুদলীয় অবাধ গণতান্ত্রিক দেশ যেখানে জনগণের প্রকাশ্যে ও মুক্তভাবে কথা বলার অধিকারী হওয়ার সাথে সাথে দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নে নিজ নিজ কর্মসূচি অনুযায়ী ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে নির্দিষ্ট সময়ান্তে বা প্রয়োজনমতে সবাই অংশ নিতে পারে।
কিন্তু উপনিবেশিক আমলে গড়ে উঠা আমাদের সামন্ত ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার নেতা গণতন্ত্রের নামে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ন্যায় রাজনৈতিক দল গঠন করে নিঃস্বার্থ দেশ সেবার রাজনীতিকে রাতারাতি ক্ষমতাবান ও সম্পদশালী হওয়ার মাধ্যমে পরিণত করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতাগণ দলের বিভিন্নস্তরে দলীয় সংবিধানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ান্তে দলের সর্বস্তরে নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব সৃষ্টি না করে দলকে রাজনৈতিক জমিদারীতে পরিণত করেছেন এবং জাতীয় নির্বাচন আসলে প্রায় ক্ষেত্রে যোগ্য ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদেরকে মূল্যায়ন না করে নিজেদের অনুগত ঘনিষ্ঠজনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে যেন-তেন প্রকারে একটি জাতীয় নির্বাচনের প্রহসন করে দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নে জনগণ প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদ দলীয় করার ব্যবস্থা করার সাথে সাথে নানাবিধ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দখলকৃত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদকে চিরস্থায়ী করার প্রয়াস চালান। মনে রাখতে হবে ক্ষমতাই দুর্নীতির উৎস এবং ক্ষমতার ব্যক্তি দলীয় ও দীর্ঘকরণ দুর্নীতির ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে অতি ত্যাগে অর্জিত মুক্তি ও স্বাধীনতা ব্যাহত করে।
রাজনৈতিক সচেতন ও উন্নত দেশে বিভিন্ন পেশার জনগণ জনসেবা ও দেশ সেবার তাগিদে প্রাথমিকভাবে নির্দলীয় হিসাবে বিভিন্ন রকমের জনসেবার মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন পরবর্তীতে নিজেদের পছন্দমতে রাজনৈতিক দলে যোগ দেন যাতে বৃহৎ পরিসরে জনসেবা ও দেশের সেবা করতে পারেন। দল ও কর্মীদের অতীত সমাজসেবাকে মূল্যায়ন করে তৃণমূল পর্যায় থেকে কর্মীগণ নতুন নতুন ধারা ও উদ্দেশ্য নিয়ে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নেতৃত্বে এসে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেন। সর্বক্ষেত্রেই তৃণমূল কর্মীগণই দলের ভিত্তি হিসাবে কাজ করেন। ফলে দলে কোন স্থায়ী স্বার্থ বা স্বৈরতন্ত্র সৃষ্টির সুযোগ থাকে না।
আমাদের দেশে রাজনীতি একটি পেশা এবং রাতারাতি ক্ষমতাবান ও সম্পদশালী হওয়ার সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে অথচ রাজনীতি হল নিঃস্বার্থ তবে অতি সম্মানী জনসেবা ও দেশসেবা। এখানে জনসেবার নামে জনগণ থেকে ভোটের/নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা নিয়ে তা দুর্নীতির মাধ্যমে অপব্যবহার করে সম্পদ আহরণের সুযোগ থাকে না। জনসেবা ও জনসেবার নীতিকে অনুসরণ করাই রাজনৈতিকতা যা ছাড়া সঠিক নেতৃত্ব হয় না এবং দেশ ও জাতিও এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের দেশে প্রায় সকল রাজনৈতিক দলই ব্যক্তি ও পরিবার কেন্দ্রিক হওয়ায় দলগুলি প্রায় দলদাসে পরিণত হয়েছে ফলে দেশ পরিচালনা ও উন্নয়ন জনগণ প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদ নির্বাচনের নামে প্রহসন করে যেন-তেন প্রকারে দখল ভোগ লুট ও পাচার করার কারণে দেশে বেকার সমস্যা, দারিদ্র্য, সম্পদের অসম বন্টনসহ সম্পদের অপচয় বাড়ায় সাথে সাথে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদ দখল করার গণ বিরোধী তৎপরতা বাড়াছেই বাড়ছে। মনে রাখতে হবে সকলেরই ক্ষমতা ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতা আছে এবং গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একই সূত্রে বাধা। গণতন্ত্র অর্থাৎ নেতৃত্ব পছন্দের স্বাধীনতা না থাকলে নির্বাচিতদের দায়বদ্ধতা থাকে না বিধায় সঠিক নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না ফলে দেশ ও জাতি এগুতে পারে না।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সর্বাবস্থায়ই আইনমতে নির্দিষ্ট সময়ান্তে কর্মীদের মধ্যে থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি/পরিবর্তন করতে হবে যাতে দল ও দেশ পরিচালনায় যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়ে দেশ ও জাতি দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ডাক বিভাগ ফিরে পাচ্ছে প্রাণ
  • আমরা সবাই ভালো হলে দেশ ভালো হবে
  • ‘জাতীয় বীর’ কৃষকদের নিয়ে কিছু কথা
  • ভর্তিযুদ্ধে লাঘব হোক ভোগান্তি
  • মানব সম্পদ উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা
  • ভোটের মাঠে তারকার মেলা
  • আয় বৈষম্য ও সামাজিক অসমতা
  • সামাজিক আন্দোলন : নিরাপদ সড়ক চাই
  • আলী হোসেন খান
  • মৃত্যুই দিয়েছে তাঁরে চিরমুক্তি!
  • আমেরিকা : ট্রাম্প শাসনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব
  • ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাব
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • Developed by: Sparkle IT