ধর্ম ও জীবন

এতিম শিশু

মো. মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১০-২০১৮ ইং ০০:৫০:১৭ | সংবাদটি ৬৬ বার পঠিত

সৃষ্টির নিয়ম অনুযায়ী ‘জন্মিলে মরিতে হইবে’। এই চিরন্তন উক্তি থেকে কেহই আজ পর্যন্ত পরিত্রাণ পায়নি। গরিব, ধনী, রাজা, বাদশাহ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নবী, রাসুল কেহই না। আবার মৃত্যু সিরিয়ালে আসে না। ছেলে মেয়ের আগে বা পরে কিংবা ছেলে মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করার পর মৃত্যু আসবে এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। ছেলেমেয়েদেরকে ছোট ছোট রেখেই অনেক মা-বাবার মৃত্যু হয়। ফলে বাচ্চারা হয়ে যায় এতিম। পিতৃ-মাতৃহীন ছেলে মেয়েকেই এতিম বলে। এতিম শিশুরা অন্যের কাছে লালন পালন হয়। অন্যের ইচ্ছামতো তাদের বড় হতে হয়। কখনো বা চাচা, চাচী, ফুফা, ফুফু, খালা, খালু এদের কোলে পিঠে মানুষ হতে হয়। এক কথায় মা-বাবার অতি আদর এতিম শিশুদের ভাগ্যে খুব একটা হয় না এবং মা বাবার মতো এমন আদর যতœ করার এ পৃথিবীতে অন্য কেহ আছে কি? জসিম তার মা বাবার একমাত্র ছেলে। জসিমের বয়স যখন নয় বছর তখন তার বাবা রোড এক্সিডেন্টে মারা যান। জসিমের বাবা হারুন মিয়া একটি ব্যাংকে চাকুরি করতেন। জসিমের মা আমিনা স্বামীর মৃত্যুর পর পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েন। জসিমের বয়স মাত্র নয় বৎসর, কি করবেন, কোথায় যাবেন, কিভাবে ছেলেকে মানুষ করবেন, শুধু এমনটাই ভাবছেন। হারুন মিয়ার কিছু টাকা ব্যাংকে ছিলো, প্রায় দুই লক্ষ টাকা। মনে মনে আমিনা খুশি হয়, এই টাকায় ভরসা করে। একদিন আমিনা চেক বই নিয়ে ব্যাংকে যায়। তার স্বামীর টাকার উত্তরাধিকারী সে। এই চেক বই নিয়ে গেলে তার একটা সুখবর সে পাবে। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে দেখে তারা স্বামীর হিসাব নং এর নমিনী হচ্ছে হারুন মিয়ার ছোট ভাই মুমিন মিয়া। কারণ এই হিসাব যখন খুলেছিলেন তখনো হারুন মিয়া বিয়েই করেন নি। তাই তার ছোট ভাই মুমিনকে বাধ্য হয়ে তিনি নমিনী দিয়েছেন। ব্যাংক থেকে ফেরত এসে আমিনা সব মুমিনকে বললে মুমিন দুই লক্ষ টাকার লোভ সামলাতে পারে না। সে বেঁকে বসে, সে এই টাকা তাদেরকে দেবে না বলে জানায়। আমিনার চোখে মুখে হতাশার ছাপ। ছোট বাচ্চা জসিমকে নিয়ে তিনি অন্ধকার দেখছেন। মুমিন মিয়া যদি টাকাগুলি ফেরত দিত তবে অভিভাবকহীন এই পরিবারের একটা উপায় হতো। আসলে বর্তমান সমাজে হৃদয়বান ও সৎ মানুষের বড় অভাব। দুঃখ কষ্টে আমিনার সংসার চলতে লাগল। আমিনা কিছু দিন তার বাবার বাড়ি আর স্বামীর বাড়ি থাকেন যার যেমন ইচ্ছা সেভাবেই তাদের খাবার দেন। স্বামীর মৃত্যুর ছয় মাস পরই তারও মৃত্যু ঘটে। এতিম হয়ে যায় সাড়ে নয় বৎসরের বালক জসিম। মৃত্যু কার কোন সময় আসে তা কেহ বলতে পারে না। জসিমের সামনে এখন কঠিন সময়। জসিম অবহেলায়, অপমানে বড় হতে থাকে তার চাচার পরিবারে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে ভর্তি হয়েছিলো। এখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। চাচার সংসারে ৫ম শ্রেণি পাশ করে আর পড়তে দেননি চাচা মুমিন। জসিমকে দিয়ে ক্ষেতের কাজ করানো হয়। জসিমের দাদার কিছু জমি ছিলো, সে জমিতে জসিম চাচার সাথে হালচাষে সাহায্য করে। অনাথ এতিম শিশু জসিম চাচা চাচীর মর্জি মতো চলতে হয়। জসিমের চাচাতো ভাই বোন ঠিকই স্কুলে পড়ালেখা করছে। মা বাবা নেই বলে আজ সবই তার খোয়া গেছে। নিজের মা বাবার মতো অন্য মানুষ হয় না। দুঃখে কষ্টে জসিমের দিন চলে। জসিম শুনতে পায় তার দাদার জমিতে সেও পাওনাদার। জসিম বড় হয়ে একদিন তার চাচাকে বলল চাচা আমি বিদেশ যাব। জমিসের চাচা বলেন বিদেশ যেতে টাকার প্রয়োজন, টাকা কোথায় পাবি? জসিম বলে আপনি টাকা দিয়ে পাঠাবেন। চাচা বলেন আমার এতো টাকা নেই। তখনি জসিম বলল তাহলে চাচা আমার বাবা বা আমি দাদার নামের জমিতে যে অংশ পাই তা বিক্রি করে বিদেশ যাব। মুমিন রাগ করে বলল আজ থেকে তোর খাওয়া আমার ঘরে বন্ধ। জসিম কেঁদে কেঁদে তার নানার বাড়িতে চলে গেল। মুমিন মিয়া জসিমের বাবার টাকা ও জমি আত্মসাৎ করে ফেলল। এতিম শিশুরা এভাবেই সমাজে নিগৃহীত হয়ে চলেছে।

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রাহ.) ও সাদাকায়ে জারিয়া
  • রাসূলের সাথে জান্নাত
  • মাতা-পিতার অবাধ্যতার শাস্তি
  •  তাফসিরুল কুরআন
  • বিশ্বনবীর কাব্যপ্রীতি
  • শতবর্ষের স্থাপত্য সিকন্দরপুর জামে মসজিদ
  • তাফসিরুল কুরআন
  •  আত্মার খাদ্য
  • মানব জীবনে আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা
  • সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ : ইসলাম কী বলে
  • মৃত্যুর আগে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করি
  •   তাফসীর
  • ইসলামে বিনোদনের গুরুত্ব
  • কুরআনে হাফিজের মর্যাদা
  • মদীনা রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকা-ের কেন্দ্র ছিল মসজিদ
  • তাফসিরুল কুরআন
  • এতিম শিশু
  • বার্মিংহামে আল কুরআনের হাতে লেখা প্রাচীন কপি
  • রাসুলের সমগ্র জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয়
  • মৌল কর্তব্য আল-কুরআনের বিধান
  • Developed by: Sparkle IT