উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়

ঝরনা বেগম প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১০-২০১৮ ইং ০০:১৫:৪২ | সংবাদটি ১০২ বার পঠিত

এই দিন দিন নয় / আরও দিন আছে / এই দিনেরে নিবো আমরা সেই দিনেরও কাছে / এ-এ-এ ছয় বছর বয়স অইলে আর ছাড়া নাই / ইস্কুলেতে যাইতে অইবে মনে রাখা চাই / আ-আ-আ-আই---
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ স্যারের লেখা এবং বাউল গানের স¤্রাট কুদ্দুস বয়াতীর গাওয়া সেই গানটি বাংলাদেশের অনেক বাবা-মাকে তাঁদের ছেলে ও মেয়ে শিশুকে স্কুলে পাঠাতে এক সময় অনুপ্রাণিত করেছে এবং এখনও করছে বলে আমি মনে করি। তা নাহলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে এতো ছাত্র-ছাত্রীর ভীড় থাকতো না।
প্রতিটি বাবা-মাই চায় তাঁদের সন্তান শিক্ষিত হোক। তাই সন্তানের মৌলিক অধিকারের মধ্যে বাবা-মা আগে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেন। সন্তান ছেলে হোক অথবা মেয়ে হোক, সেই সন্তানের জন্মের পর বাবা-মা বড় বড় স্বপ্ন দেখেন। যেমন-ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, জজ, ব্যারিস্টার, পাইলট-হবে তাঁদের সন্তান এমনও স্বপ্ন দেখেন অনেক বাবা-মামা। কারো কারো স্বপ্ন হয়তো পূরণ হয়, আর কারো স্বপ্ন হয়তো মুকুলেই ঝরে যায়। কারো সন্তান হয়তো মা-বাবা কল্পনার বাইরে কিচ্ছু হয়ে যায়, যা দেখে তাঁরা বিস্মিত হন। পত্রিকায় ‘টপ টেরর’ পোলার ছবি দেখে অনেক মা বিড় বিড় করে বলেন, এই ছাওয়ালরে মুই পেটে ধরছি?-এই রকম স্বগোতোক্তি করেন দরদী মা!
উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে চলেছে সত্য কিন্তু এই যাত্রাকে অগ্রযাত্রা হিসেবে বজায় রাখতে হলে মানবসম্পন্ন শিক্ষার বিকল্প নেই। এসডিজি বা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষা-মূলত মানসম্পন্ন শিক্ষা। আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তিতে প্রায় শতভাগ সফল, মাধ্যমিকে ঝরে পড়া কমানোয় অনেকাংশে সফল হতে পেরেছি; কিন্তু সর্বস্তরে শিক্ষার মান কেবল আশানুরূপ স্তরে নেই যে তারা নয়, দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো এ মান ক্রমাগত নি¤œগামী।
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ভিশন পরিচালিত এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশের স্কুলগুলোতে প্রাথমিকে ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের বই পড়তে পারে না, বুঝতে পারাতো দূরের কথা। জরিপে শিক্ষার্থীদের পাঠের, বোঝার ও বিশ্লেষণের সামর্থ্য যাচাই করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মোট ছাত্রের অর্ধেকই তাঁদের পাঠ্য বিষয়টি পড়তেই পারে না। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন আমাদের জন্য দুরূহ হবে বলে মনে হয়।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজ অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন, কেবল মুখস্থ ও পরীক্ষা নির্ভর শিক্ষা ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞানের স্ট্রাকচার বা ভিত্তি দৃঢ় করতে পারে না। তাছাড়া এ ধরণে তাৎক্ষণিক ফলের চাপে থাকলে শিক্ষার্থীরা অধীত বিষয় স্মৃতিতে ধারণ করে রাখতে পারে না। দেখা যাচ্ছে ওপরের শ্রেণীতে উত্তরণের পর আগেকার শ্রেণীর সব পড়াই তাঁরা ভুলে যায়। কিন্তু শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পূর্ববর্তী জ্ঞান স্মৃতিভান্ডারে সঞ্চিত হবে এবং তার ভিত্তিতেই তাঁদের বিশ্লেষণের ক্ষমতা অর্জিত হবে। জ্ঞান যদি সঞ্চিত না হয় তা হলে কিছু কিছু তথ্য বড়জোর মনে থাকবে, তাতে কোনো বিষয় বিশ্লেষণের যোগ্যতা অর্জিত হবে না।
অতএব, প্রাথমিক থেকেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থী যেকোনো বিষয় সহজে আত্মস্থ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের সেই সময় এবং সেভাবে আলোচনা ও বিশ্লেষণের অবকাশ বিদ্যালয়েই দিতে হবে। আশার কথা পাঠ্যবইয়ের মান ইদানিং যথেষ্ট উন্নত হয়েছে, কিন্তু শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের পদ্ধতি পরিবর্তন না হলে তাতে অভীষ্ট উপকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া ছাত্র ঃ শিক্ষক অনুপাত ও অন্তত পক্ষে ১ ঃ ৩০-এ নামাতে হবে। প্রতিটি স্কুলে পাঠাগার, বিজ্ঞান গবেষণাগার, খেলার মাঠসহ শিল্প-সাহিত্য চর্চার সুযোগ-সুবিধাও থাকতে হবে। এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে আমাদের দেশের স্কুল শিক্ষাকে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি।
দেশের স্কুল পর্যায়ের সব শিক্ষা শিশুদের জন্য আনন্দময় হোক। সব স্কুল হোক শিশুদের জন্য মজার স্কুল। ‘তাই রে নাই রে! নাই রে নাই রে না-আ-আই-বলে বলে সকল স্কুলগামী শিশুরা স্কুলে যাক সচেতন নাগরিক হিসেবে এমনটাই আশা করছি। সব স্কুলগুলো আনন্দের বাগান হোক। আর শিক্ষার্থীরা হোক সেই বাগানের ফুল। তাই এই সব শত ফুল ফুটতে দাও! করো সে সব ফুলের পরিচর্যা।
লেখক : আইনজীবী, কলামিস্ট

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সিলেটে প্রবাসী বিনিয়োগ
  • সাম্প্রতিক কথকতা
  • উত্তম বন্ধু নির্বাচনের গুরুত্ব
  • শিক্ষকদের কাছে প্রত্যাশা
  • শিশুদের সুরক্ষায় চাই সামাজিক প্রতিরোধ
  • ডা. আর.কে দাস
  • দুই দশকেও আন্তর্জাতিক হলো না ওসমানী বিমানবন্দর
  • সিরিয়া সংকট ও রাশিয়ার হস্তক্ষেপ
  • আমাদের ছেলেমেয়েদের মেধার ঐশ্বর্য
  • নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা
  • নৈতিক মূল্যবোধ
  • শান্তি সুখের সন্ধানে
  • কী চাই, কী চাই না
  • প্রসঙ্গ : প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি বিরোধী অঙ্গীকার
  • সাংবাদিক কামরুজ্জামান চৌধুরী
  • প্রাইভেট টিউশন বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি
  • ফসল রক্ষা বাধ ও নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা
  • সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
  • রেল ভ্রমণ কবে স্বস্তিদায়ক হবে
  • অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান
  • Developed by: Sparkle IT