পাঁচ মিশালী

হাওরাঞ্চলে গতি প্রকৃতি ও চালচিত্রে করণীয়

আনোয়ার হোসেন মিছবাহ প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১০-২০১৮ ইং ০০:২০:৪১ | সংবাদটি ১২৯ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
কিন্তু আজকাল হাওরাঞ্চল আর আমাদের মাঝে নেই। নষ্ট হতে চলেছে এর জীববৈচিত্রিক জীবন। নষ্ট হতে চলেছে এর প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ। হুমকির মুখে আজ তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য। তাই হাওরে জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক ভয়াবহতার যে চিত্র ধরা পড়েছে তা কল্পনাতীত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ। প্রথমতঃ হাওরের সকল বিলের সিংরা, পানিফল, ছিটকি, কেসইর, শাপলা, এরালী, শ্যাওলা, বিভিন্ন ছোট বড় পানা, গুল্মলতা ও জলজ উদ্ভিদ ও কীট পতঙ্গ ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
দ্বিতীয়তঃ হাওরের প্রতিটি বিলের পাড়ে থাকা শত শত হিজল গাছের বাগান ও লম্বা লম্বা সঞ্জীলতাসহ নাম না জানা লহাগুল্মোর গভীর ঝাঁড় বা অরণ্য ধ্বংস হয়ে যাওয়া। এক সময় সিংরা পানিফল, শ্যাওলা, লতাগুল্ম, শালুক এবং জলজপানা এমন ঘনভাবে সমস্ত বিলকে আচ্ছাদিত করে রাখতো যে, বিলকে দেখাই যেতো না। এদের ঘনত্ব এতো বেশি ছিলো যে, বিলে নামা বা সাঁতার কাটা অসম্ভব হয়ে পড়তো। অন্য দিকে বিভিন্ন জাতের শামুক, গুগাইল, ঝিনুক, কাঁকড়া সহ নানা জাতের কীটপতঙ্গ এর ভেতর বিচরণ করতো যা মাছও পাখির নির্ভরযোগ্য খাবার ছিলো। এছাড়া ছোট ছোট শামুক, গুগাইল, কীটপতঙ্গ, মাছও অতিথি পাখির উৎকৃষ্ট খাবার ছিলো। লতাগুল্মের গায়ে জমে থাকা পিচ্ছিল এক ধরণের জৈব পদার্থ মাছ ও পাখির জন্য পছন্দনীয় ও পুষ্টিকর খাবার ছিলো, এখন তা আর চোখে পড়ে না। হাওরের জলাশয়ে জলজ পাখিসহ অসংখ্য হাঁসের আবাসস্থল ছাড়াও বণ্য প্রাণীর নানা জাত ও পদের বনও আজ হারিয়ে গেছে। কয়েক বছর আগেও উপরে উল্লিখিত মাছগুলোর মধ্যে প্রায়গুলিই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়েছে জেলেদের জালে। এখন তারও দেখা পাওয়া যায় না। এরই মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১২ প্রজাতির মাছ। আর মোটামুটি বিলুপ্তির পথে ২৮ প্রজাতির মাছ। সূত্রমতে শুকনো মৌসুমে জলমহালকে পানি শূন্য করে রাসায়নিক সারও কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ ধরা, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার, জলমহাল ইজারা নীতিমালা না মেনে মাছ ধরায় প্রকৃত জেলেদের হাতে জলমহাল না থাকা, অভয়াশ্রমের অভাব, হাওরের বনজসম্পদ ধ্বংস, প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা ইত্যাদি কারণে হাওরে মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশি জাতের মাছের জন্য অভয়াশ্রমখ্যাত কিশোরগঞ্জের হাওর বেষ্টিত ইটনা, মিঠামইন, নিকলি ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় মিলছে না মাছ। চলতি বর্ষা মৌসুমেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। নদী ভরাট, ইঞ্জিন চালিত নৌকার ফুয়েল পানিতে পড়ে পরিবেশ বিপর্যয়। অবৈধ জালের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে হাওরে মাছ কমে গেছে। অন্য দিকে স্থায়ীদের কাছ থেকে শুনা গেছে হাওর বেষ্টিত অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত কালনী, কুশিয়ারা, ধনু, ঘোড়াউত্রা, নরসুন্দা ও সোইজনী নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এসব অঞ্চলের জীববৈচিত্র ধ্বংসের ফলেই দেশি প্রজাতির মাছের আকাল চলছে। এছাড়া কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার পদ্ধতিও এর জন্য দায়ী। শুধু তাই বলা যাবে না, বর্ষা মৌসুম শেষে টৈটম্বুর হাওর শুকিয়ে গেলে জেলেরা হাওরের গুরুত্বপূর্ণ খাল বিল ও নদীতে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধ কারেন্ট জাল ও বেড়া জাল বসিয়ে প্রচুর পরিমাণে মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন করে। প্রশাসনিক সুযোগ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ও স্থানীয়দের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বিশ্ব বিখ্যাত হাকালুকি হাওর থেকে জীববৈচিত্র্যের সবটুকু চিত্র আজ বিলীন হতে চলেছে। হাওরে বিষটোপ দিয়ে পাখি নিধন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ঠ জলাবন ধ্বংস হচ্ছে। হাওর থেকে জলাবন কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা, অবৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃষি উৎপাদন এবং কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন, উজান থেকে পলি মাটিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বিল। ফলে হাওর হারাচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। সেই সাথে কমে যাচ্ছে হাওরে পানি রক্ষণের ধারণ ক্ষমতাও। আরো আছে এক শ্রেণির মানুষের নব্য উৎপাত, তারা কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির সোনালী ফসল, মৎস্য প্রজনন, অতিথি পাখি অবাধে নিধন করে প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম বিনষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই অকাল বন্যায় কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সম্পদ আর হাওরাঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকার ¯েœহের ফসল। খননের অভাবে ভরাট হয়ে গেছে সিলেট অঞ্চলের সুমরা ও কুশিয়ারা নদী, ¯্রােতের তোড়ে নদীর পলিমাটি গিয়ে পড়ছে হাওরগুলোতে। নদী ও হাওরের পানি ধারণের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। নগরীতে বাড়ছে জলাবদ্ধতা, যার অন্যতম কারণ হলো উজান থেকে নেমে আসা অতি মাত্রার পাহাড়ি ঢল। ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত জুড়ি নদী মৌলভীবাজারে জুড়ী ও কুলাউড়া হয়ে হাকালুকি হাওর হয়ে সিলেটে প্রবেশ করছে। তাই ভারতীয় অংশে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই যৌথ এসব নদীর মাধ্যমে বাংলাদেশে গাড়িয়ে আসে। আমাদের উত্তরে ভারতের মেঘালয়, পূর্বে আসাম, মণিপুর আর দক্ষিণে ত্রিপুরা মিজোরামের পার্বত্যাঞ্চলের ঢালে অবস্থিত এ অঞ্চল দেশের সমতল অঞ্চলের চেয়ে একটু নিচু প্রকৃতির। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এ অঞ্চলের উচ্চতা মাত্র ৪ থেকে ৫ মিটারের মধ্যে। ফলে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হলেই গড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। এতে বয়ে নিয়ে আসে পানি, আর পলিতে ভরাট হয়ে যায় আমাদের নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়, হাওরাঞ্চল। শুধু তাই নয়, মনুষ্যসৃষ্ট আরো কাজের ফিরিস্তি দেওয়া যায়। মানুষের দ্বারাই নষ্ট হয়ে গেছে হাওরাঞ্চলের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ, স্লুইচ গেট নির্মাণ, সরকার প্রধানদের অবহেলা ও উদাসীনতায় নষ্ট হচ্ছে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণ বাড়িয়া, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক দেওয়ার ফলে বক সহ অন্য কোনো ধরণের উপকারি পাখি যে ফসলের জমিতে বসতে চাচ্ছে না। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ওদের খাদ্যাভাব থাকা সত্ত্বেও রয়েছে নিরাপত্তার অভাব। ফলে এদের চারণভূমি কমার সাথে সাথে কমে গেছে বকের সংখ্যাও। ফাঁদ পেতে, গুলি করে শিকার করছে এক ধরনের অসাধু মানুষ। ফলে ইদানিং বিভিন্ন গ্রামীণ বা শহুরে বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে এ সকল শিকার করা পাখিগুলো। বিষয়টি দেখার মতো কেউ আছে কি না সন্দেহ পোষণ করছে স্বয়ং শিকারীরা। তারা আরো বিপুল উৎসাহে এগুলো শিকার করে বেড়াচ্ছে। এখানেই শেষ নায়, বকের ডিম ও বাচ্চা বাসা থেকে নিয়ে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। আমাদের দেশে অতিথি পাখির নিরাপত্তা আইনের যথেষ্ট প্রয়োগ থাকলেও দেশীয় পাখির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে যেনো না রাজি আছেন প্রশাসনিক মহলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।
কাজেই ভূ-প্রকৃতিগত কারণে নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং সর্বোপরি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যলে দৃষ্টিকোণ গুরুত্বপূর্ণ হাওরাঞ্চলের জন্য বিল ও জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে এবং বিষয়টি আইনের আওতার মধ্যে এনে ধ্বংসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। বৈশাখ মাস থেকে আষাড় মাস এই মাসগুলো যেহেতু মাছের জন্য প্রজনন মাস তাই এই তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে। এতে করে অনেকাংশে মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটানো যাবে বলে মনে করা হয়।
বেশি বেশি করে মাছের জন্য অভয়াশ্রম সৃষ্টি করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। মৎস্য উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ শামুক, ঝিনুক রক্ষা করতে হবে। এগুলো হাঁস-মুরগির খামারের জন্য ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার জন্য যখন, তখন প্রয়ো নে অপ্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে। হাওরের জলাশয়ের নিজস্ব সম্পদ করচ, ভূই ডুমুর, নল খাগড়া, বনতুলশী, বলুয়া প্রভৃতি রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে।
প্রতি বছর যে ২০০ প্রজাতির প্রায় লক্ষাধিক অতিথি পাখির শিকার, বিক্রি বন্ধ করতে হবে। এসব পাখির জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে হবে। হাওরবাসীর প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বাকিরা মৎস্য আরোহণ, মৎস্য চাষ, ব্যবসা ও চাকুরিসহ অন্যান্য পেশায় জড়িত। তাদের দেখভালসহ বেকারদের কর্মসংস্থান গড়তে হবে। তাদের মধ্যে আরো সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। প্রতি বছর ডজনখানেক হাওরবাসী বজ্রপাতে খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে যেয়ে মারা যাচ্ছে। তাদের অস্বাভাবিক মৃত্যুরোধ, মাঠের পাশে স্থানে স্থানে লাইটেনিং এরস্টার স্থাপন করে বজ্রপাতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বর্ষায় প্লাবন সৃষ্টি করে সেই পানিকে কোথাও সংরক্ষণ করে তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হাওর এলাকায় প্রায় ২ কোটি লোক যুগ যুগ ধরে বছরের ৬ মাস বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তুলতে উন্মুক্ত জলাশয়ে, ঝড়িতে মৎস্য, মুক্তা চাষ, ভাসমান রক্তিম ভূমিতে, মাঁচায় সবজি চাষ, কুটির শিল্পের প্রসার, হাঁস পালন, সৌর বিদ্যুতের ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। মুক্ত জলাশয়ে ঘের পদ্ধতিতে মাছ চাষ এবং ভাসমান সবজি চাষের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এমন সব গাছ লাগানোতে উৎসাহ দিতে হবে, যেসব গাছ পানিতে বেঁচে থাকে এবং বাড়ে।
শুকনো মৌসুমে কিভাবে দুগ্ধ খামার বা গরু ছাগল মোটাতাজা করণ করা যায় তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শুকনো মৌসুমে পতিত জমিতে অবসরকৃত ৬ মাসের উপযোগী সবজি বা শাক ফলানোর ব্যবস্থা করে দিতে হবে। জমিতে রাসায়নিক সার নয় হাওরে হোক জৈব সার প্রয়োগ-এ স্লোগানকে মুখে মুখে ছড়িয়ে দিতে হবে। হাওরাঞ্চলে খাল, বিল, নদী-নালা যেগুলো পলি এসে ভরাট করে দেয় সেগুলো স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খনন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বন্যা প্রতিরোধকারী সামগ্রী যোগাড় করে রাখতে হবে। বন্যায় জমির দলিলসহ জরুরি কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। হাওরবাসীকে শুধু ধান চাষ নয় বহুমুখি শষ্য চাষেও আগ্রহী করে তুলতে হবে। শুকনো মৌসুমে হাওরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য বিশেষ ধরনের যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। হাওরাঞ্চলের পর্যটক সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফরে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পর্যটকদের এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিতে হবে এবং তাদের ব্যবহৃত ইঞ্জিন নৌকায় যাতে পানি দূষণ বা হাওরের গাম্ভির্যতা নষ্ট না হয় তার জন্য ইঞ্জিন নৌকায় শব্দ নিরোধ সাইল্যান্সার প্রয়োগ করতে হবে।
হাওরাঞ্চলের পর্যটকদের অব্যবহৃত জিনিষপত্র পানিতে ফেলে পরিবেশ নষ্ট না করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। হাওর এলাকায় পর্যটকদের রাত্রি যাপন বা আনন্দঘন পরিবেশে হাওর উদযাপনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। উন্মুক্ত জলাশয়ে মলমূত্র ত্যাগে হাওরবাসীকে নিরুৎসাহিত করে উঁচু স্থানে স্যানেটারি লেট্রিন ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। সম্ভাব্য উঁচু স্থানে কমিউনিটি ক্লিনিক, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ও স্কুল কলেজের ব্যবস্থা করতে হবে। অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্লুইচ গেট নির্মাণ, হিজর, করচসহ প্রাকৃতিক জলাশয় ধ্বংস, কৃষিজাত জমিতে অধিক কীটনাশক ও সারের ব্যবহার, কারেন্ট জালসহ নানান প্রকারের মৎস্য নিধন, খাল বিল ভরাট সহ ৫টি কারণে হাওরের সৌন্দর্য্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অত্র অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে তার দিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে।
অবৈধভাবে মা মাছ, পোনা মাছ, অপোক্ত মাছ শিকার বন্ধ করতে হবে। অবৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃষ্টি উৎপাদন ও কৃষিজ জমির শ্রেণি পরিবর্তন বন্ধ করতে হবে। হাওর খনন করে হাওরের নাব্যতা সহ নদ নদীর নাব্যতা বাড়াতে হবে। হাওরে পলিথিনের শপিং ব্যাগসহ প্লাস্টিকের জিনিষপত্রের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বিপুল গবেষণার মাধ্যমে হাওরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাওয়া মাছ ও বিলুপ্ত প্রায় মাছকে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে হাওরাঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা ও মাঠ পরিক্রমা চালু করতে হবে। অবশ্য বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে বহুমুখি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আমরা আশাকরি সরকার তার গৃহিত উদ্যোগকে বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত করে হাওরে জীববৈচিত্র্য রক্ষা সহ হাওরাঞ্চলকে ধ্বংসের হাত থেকে অচিরেই বাঁচিয়ে তুলবেন। আমরা তখন পর্যন্ত আশায় আশায় বুক পেতে রইলাম।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT