প্রথম পাতা

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১০-২০১৮ ইং ০৩:০০:৫৯ | সংবাদটি ৭৯ বার পঠিত

সিলেটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এক দিকে আনন্দ, অন্যদিকে বিষাদের সুরে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শান্তি আর ভ্রাতৃত্বের বাণী শুনিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে চলে গেছেন স্বর্গ শিখরে কৈলাসে স্বামীগৃহে। তিনি গেলেও পেছনে রেখে গেছেন ভক্তদের আনন্দ-বেদনা আর আগামী বছর ফিরে আসার প্রত্যয়। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকেই নগরীর বিভিন্ন মন্দির থেকে উৎসবের আবহে প্রতিমা নিয়ে সুরমা নদীর চাঁদনীঘাটের পথে যাত্রা করেন পুণ্যার্থীরা। ট্রাকযোগে প্রতিমা নিয়ে আসার সময় তরুণদের রং খেলায় উল্লাস করতে দেখা গেছে। তেল-সিঁদুর পরিয়ে, মুখে মিষ্টি আর পান খাইয়ে মা দুর্গাকে বিদায় জানাতে সিলেটের সুরমা নদীর চাঁদনীঘাট তখন হাজারো পুণ্যার্থীর আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে। এদিকে, প্রতিমা বিসর্জন(নিরঞ্জন) শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে ছিলো প্রশাসনের কড়া নজরদারী। ব্যাপক নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে দমকল বাহিনীর ডুবুরী দলও প্রস্তুত ছিল।
বিকেল ৪টা থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ট্রাকে করে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় চাঁদনীঘাটে। এসময় ভক্তরা ঢাকঢোল বাজিয়ে, সংগীতের মুর্ছনায় নেচে গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভক্ত, পূজারীরা, দর্শনার্থীসহ বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত মানুষ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম উপলক্ষে সিলেট মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী চাঁদনীঘাটে স্থাপিত ‘সুবোধমঞ্চ’। সেই মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগরের ব্যবস্থাপনায় বিকেল ৪টা শুরু হয় অনুষ্ঠান। পরিষদের জেলা সভাপতি এডভোকেট নিরঞ্জন কুমার দে এর সভাপতিত্বে জেলা ও মহানগরের সম্পাদক এডভোকেট রঞ্জন কুমার ঘোষ এবং রজত কান্তি গুপ্তের যৌথ সঞ্চালনায় প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। সিলেটের কয়েকটি বিষয় নিয়ে গর্ববোধ করে তার মধ্যে অন্যতম সম্প্রীতি। বক্তারা বলেন, সকল বাধা দূর করে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে আগামির বাংলাদেশ গড়তে হবে। তারা সমস্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জাতিসংঘের বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানস, অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, অধ্যাপক বিজিত কুমার দে, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা ভবতোষ রায় বর্মন রানা, সিলেট জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল কুদ্দুস, এসএমপির অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ কান্তি ঘোষ, উপ-কমিশনার সদর কামরুল আমীন, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ দাস, এডভোকেট দিলীপ কুমার চৌধুরী, সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসিত বরণ দাস গুপ্ত, কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, বিক্রম কর সম্রাট, শওকত আমিন তৌহিদ, মহানগর আওয়ামীলীগের তথ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক তপন মিত্র, জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এডভোকেট রনজিত সরকার, মহানগর ঐক্য পরিষদের সম্পাদক প্রদীপ কুমার দে, শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, শ্যামল ধর, চন্দন দাস, নীলেন্দু দে অনুপম, শৈলেন কর, ধনঞ্জয় দাস ধনু, রতীন্দ্র দাস ভক্ত, জ্যোতি মোহন বিশ্বাস, অরুন বিশ্বাস, মিঠু মোহন দেব, নিখিল দেব, টিপু দত্ত পুরকায়স্থ, এডভোকেট এস কে পাল, সত্যজিত দাস, চন্দন পাল, জয়ন্ত ভট্টাচার্য্য, বিন্দু মজুমদার প্রমুখ।
এবার সিলেট জেলা ও মহানগরে ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন মিলিয়ে মোট ৫৯১টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে সার্বজনীন ৪৮টি এবং ব্যক্তিগত ১৪টি মন্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়। প্রতি মন্ডপে সমগ্র জাতির মঙ্গল ও কল্যাণ কামনায় ও মানুষের মধ্যে বিরাজমান আসুরিক শক্তিকে বিনাশের জন্য প্রার্থনা করা হয়।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উৎযাপনে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
জকিগঞ্জে প্রতিমা নিরঞ্জনে কুশিয়ারার দুইতীরে মানুষের ঢল :
এদিকে জকিগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, শেষবারের মতো তেল-সিঁদুর পরিয়ে, চোখের জলে দুর্গতিনাশিনী মা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন জকিগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটা থেকে উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ থেকে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব- দেবীকে শোভাযাত্রাসহ জকিগঞ্জ কাস্টমস্থ প্রতিমা নিরঞ্জন ঘাটে নিয়ে আসা হয়। মেতে ওঠে সীমান্ত ঘেঁষা কুশিয়ারা নদীপাড়ের নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ। হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় একে একে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে কুশিয়ারা নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়।
দেবী দুর্গার বিদায়কে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকা জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর ভারত ও বাংলার দুই তীরে বসেছিলো দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা। নদীর দুই তীরে জড়ো হন হাজারো পূজারী ভক্ত অনুরাগী, দর্শণার্থী ও শুভার্থীরা। হিন্দু, মুসলিমের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে জকিগঞ্জ শহরের কাস্টম ঘাট ও ভারতের কাষ্টমঘাটস্থ অখন্ড মন্ডলী মন্দিরের প্রাঙ্গণ। পুজার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জকিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। যে কোন ধরণের দুর্ঘটনাা এড়াতে পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল, আনসার সদস্যরা ছিল সতর্ক অবস্থায়।
লক্ষ্য করা গেছে, ভারতের করিমগঞ্জেও আইন শৃংখলা বাহিনী ছিলো সতর্ক অবস্থায়। ঢাকঢোল, কাসর, করতাল, মন্দিরা, বাঁশি এবং শঙ্খ’র ধ্বনিতে মুখরিত হয় গোটা এলাকা। মর্ত্যলোক থেকে কৈলাশে দেবীকে বিদায় জানাতে নেচে গেয়ে মাতোয়ারা হন ভক্তরা। ভক্তরা সেজেছিলেন উৎসবের বর্ণিল রঙে। কুশিয়ারা নদীর উভয় পারের প্র্রতিমা বিসর্জনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ উৎসব চলে আসছে ভারত ও বাংলাদেশের কুশিয়ারা নদীর দুই তীর এ ভাবেই।
এদিকে, প্র্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে কাস্টমঘাটে উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি সঞ্জয় চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বিশ্বাসের সঞ্চালনায় এক অনুষ্ঠান মঞ্চে ভক্ত অনুরাগী, দর্শণার্থী ও শুভার্থীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির, সিলেট বিভাগীয় আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোস্তাক আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ, জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন, জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম হায়দর, মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও জেলা পরিষদের সদস্য সাজনা সুলতানা হক চৌধুরী, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত পাল, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী সামছ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন সুহেল, জেলা পূজা পরিষদের সদস্য জ্যোতিষ চন্দ্র পাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক বিভাকর দেশমূখ্য, যুগ্ম আহবায়ক অপূর্ব পাল প্রমুখ।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • ঘোষণা করা হবে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  • নিরপরাধীদের হয়রানি করা হবে না: মনিরুল
  • পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে শেখ হাসিনা
  • কুলাউড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবক খুন ॥ আটক ৪
  • সিলেটে আলোচনায় শমসের মবিন, সুলতান মনসুর ও এম এম শাহীন
  • পৃথিবীর কোথাও ‘শতভাগ সুষ্ঠু’ নির্বাচন হয় না : ইসি
  • মামলা-গ্রেপ্তার: ইসির হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপির চিঠি
  • বিএনপি নেত্রী নিপুনসহ সাতজন রিমান্ডে
  • সুষ্ঠু ভোটের জন্য সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইল ঐক্যফ্রন্ট
  • আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা ---------ওবায়দুল কাদের
  • ‘নির্বাচন আর পেছাবে না’
  • আগুন সন্ত্রাস আবার শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
  • সিকৃবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে লড়বে ২২ শিক্ষার্থী
  • সিলেটে আয়কর মেলার ৩য় দিনে আদায় ১০ কোটি টাকা
  • চার দিনে বিএনপি’র মনোনয়ন ফরম বিক্রি ৪ হাজার, জমা ১ হাজার ২৪৯
  • বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত
  • চিরনিদ্রায় শায়িত নাগরী স্যার
  • ভোটের সাত থেকে দশদিন আগে মাঠে সেনা মোতায়েন থাকবে : ইসি সচিব
  • বালাগঞ্জ ওসমানীনগরে ১৬হাজার হেক্টর জমিতে বাতাসে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ
  • Developed by: Sparkle IT