প্রথম পাতা কাজিরবাজার মাদ্রাসা চত্বরে প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমানকে দাফন

আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১০-২০১৮ ইং ০৩:০৬:০৫ | সংবাদটি ১৬৪৬ বার পঠিত

নিজ মাদ্রাসার পাশের ফুলের গাছে বেষ্টিত কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে সিলেটের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানীয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমানকে। এর আগে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সিলেট সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বরেণ্য এ আলেমের জানাজা। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় মরহুমের ২য় পুত্র মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান ইউসুফ ইমামতি করেন। জানাজার পূর্বে দেশবরেণ্য আলেম উলামা ও রাজনীতিবিদরা প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান ছিলেন একজন সংগ্রামী আলেমে দ্বীন ও বহুগুণে গুণান্বিত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। দ্বীনি শিক্ষার প্রচার-প্রসার ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে ইসলামী রাজনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তাঁর অবর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত কাজিরবাজার মাদ্রাসা যেন সুচারূরুপে চলতে থাকে এজন্য তারা সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
শুক্রবার সকাল থেকে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার মসজিদের মাইকে প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমানের মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর তার ভক্ত অনুরাগীরা সিলেটের দূর দূরান্ত থেকে আসতে শুরু করেন। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ¯্রােত যেন উপচে পড়ে আলীয়ার মাঠে। বিকেল ৩টার আগেই কানায় কানায় ভরে উঠে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা ময়দান। এক পর্যায়ে জন¯্রােত আলীয়া মাদরাসা মাঠ ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ে চৌহাট্টা রিকাবি বাজার-সড়ক, দাঁড়িয়া পাড়া-জল্লারপাড় সড়ক, চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, মিরবক্সটুলা সড়কেও। মাদ্রাসার মাঠে মরহুমের মরদেহ রাখার জন্য জায়গা করলেও উপস্থিত মানুষের ¯্রােত সামলাতে না পেরে, মাঠের বাইরে একেবারেই পশ্চিম দিকের দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর মাজার সড়কে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা শেষে প্রিন্সিপাল হাবীবের মরদেহ কাজিরবাজার মাদরাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জানাযার আগে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী ও মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, বরুণার পীর মুফতি মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, কাজির বাজার জামেয়ার শায়খুল হাদিস আহমদ আলী, জামেয়া মাহমুদিয়া সুবহানীঘাটের মুহতামিম মাওলানা শফিকুল হক আমকুনী, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেন বাবুল, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদ উদ্দিন আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারী, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, মজলিস নেতা মাওলানা মামুনুল হক, রেঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান ও পরিবারের পক্ষে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের বড় ছেলে ও কাজিরবাজার মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা ছামিউর রহমান মুসা। সঞ্চালনা করেন কাজিরবাজার জামেয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দীন সিরাজ, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার আহমদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামিয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া, দরগা মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা জিয়া উদ্দীন, ভার্থখলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ, কাজিরবাজার মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার মাওলানা আব্দুস সুবহান, শিক্ষা সচিব মুফতি মাওলানা শফিকুর রহমান, রেঙ্গা মাদরাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা শিহাব উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমসহ দেশেবরেণ্য আলেম উলামা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে সিলেট নগরীর ঝেরঝেরি পাড়াস্থ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান। তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট নগরীর সুবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেল ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর পরই তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাত তিনটার দিকে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমানের মরদেহ জামেয়া মাদানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। গোসল সেরে লাশ পুনরায় বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের শেষ দেখার জন্য। গতকাল শুক্রবার সকাল দশটা থেকে আবার তার মরদেহ কাজির বাজার মাদরাসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক সহকর্মী, সমর্থক-অনুরাগী এবং সবমহলের দেখার জন্য মাদরাসায় আনা হয়। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগ্রামী জীবন ॥ রাজনৈতিক জীবনে নানা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান। নিজের আদর্শে অবিচল প্রিন্সিপাল হাবীব ধর্মীয় স্বার্থরক্ষার আন্দোলনে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭৪ সালের জুনে দেশের শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে সিলেটের কাজিরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসা। দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিতে পরিচালিত এই মাদরাসা শুরু থেকেই সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজিসহ সমসাময়িক বিষয় সমূহযুক্ত করে কওমী শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন ধারার সূচনা করেন তিনি।
অবিভক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ খেলাফত মসজিসের আমির নির্বাচিত হন প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান। ২০১২ সালে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করার পরে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে দলের আমির নিযুক্ত হন তিনি। প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমানের শিক্ষা জীবনের শুরু ফুলবাড়ির বইটিকর প্রাইমারি স্কুল থেকে। পরে কিছুদিন রুস্তুমপুর কওমি মাদরাসায় পড়ে ভর্তি হন ফুলবাড়ি আজিরিয়া আলিয়া মাদ্রাসায়। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ফুলবাড়ি মাদরাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে ফাজিল এবং ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করেন। সেই মাদ্রাসার মাঠেই গতকাল শুক্রবার তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুরমা নদীর তীরে কাজিরবাজার পেঁয়াজহাটা মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসাবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি মসজিদের পাশে প্রতিষ্ঠা করেন জামেয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা।
প্রিন্সিপাল হাবীব তার পিতার সূত্রে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (র.) কর্তৃক খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এতে যোগ দেন। খেলাফত আন্দোলন ভেঙে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠা করলে তিনি এতে যোগ দেন। মৃত্যুকালে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। দেশের রাজনীতিতেও তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এক হয়ে কাজ করেছেন। বিশিষ্ট আলেম প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমানের মৃত্যুতে গতকাল শুক্রবার সিলেট জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • বন্দুকের জোরে আ’লীগ ক্ষমতায়: মির্জা ফখরুল
  • প্রধানমন্ত্রী আজ ব্রুনাই যাচ্ছেন
  • পবিত্র শব-ই-বরাত আজ
  • তামাবিল স্থল বন্দরের অবকাঠামোর উন্নয়ন শিগগিরই শুরু হবে
  • হাওরবাসীর হতাশার কোনো কারণ নেই ----এলজিআরডিমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম
  • প্রবীণ আলেম মাওলানা শফিকুল হক আমকুনীর ইন্তেকাল
  • সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ মাস্টার আর নেই
  • শাবিতে তৈরি হবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ল্যাব
  • এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে বহিষ্কার ৫
  • হতাশ হবেন না, হতাশার কথাও বলবেন না: ফখরুল
  • ‘আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে’
  • প্রশ্নপত্রে পর্ণ তারকার নামের ঘটনায় ব্যবস্থা ----------শিক্ষামন্ত্রী
  • পদ্মা সেতুর রেলওয়ের গার্ডার স্থাপন শুরু
  • ‘আমার পিতা শেখ মুজিব’ উৎসবের উদ্বোধন আজ
  • কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী
  • শাল্লায় পণ্যবাহী নৌকায় আগুন বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে ছাই
  • বানিয়াচংয়ে মসজিদসহ ৫ প্রতিষ্ঠানে আগুন
  • নুসরাত হত্যায় ‘অংশ নেওয়া’ মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পিবিআই
  • তারেকের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সাধারণ রোগীর মত টিকিট কেটে চিকিৎসাসেবা নিলেন প্রধানমন্ত্রী
  • Developed by: Sparkle IT