সাহিত্য

বাংলা সাহিত্যের আঞ্চলিক দায় শোধের অনন্য পদক্ষেপ

ফায়যুর রাহমান প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১০-২০১৮ ইং ০১:২৬:৪৪ | সংবাদটি ১১৩ বার পঠিত

আব্দুল মজিদ কাপ্তান মিয়া দেখলেন সব শেষ। দিল্লীর শাসন ক্ষমতায় এখন আর কোনো শাহজাহান নেই, আওরঙ্গজেব নেই। ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনে মুসলমানদের রাজা তো গেছেই, রাজ্যও গেছে, ভাষাও। এখন তারা রাজ্যহারা, আপন ভাষাহারা, সংস্কৃতিহারা। অফিস-আদালতে সেই ফার্সী ভাষা নেই, আগের সেই শিক্ষাব্যবস্থা নেই, সবকিছু বিদেশি ইংরেজদের হাতে। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত মুসলমানরা দুঃখে-অভিমানে ইংরেজের শিক্ষা গ্রহণ না করায় আজ তারা পিছিয়ে পড়েছে, সর্বক্ষেত্রে। তিনি পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের জীবনী শক্তি দানে উদ্যোগী হলেন।
কাপ্তান মিয়া ছিলেন অবিভক্ত ভারতের আসাম রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। ইংরেজি শিক্ষিত সিলেটি মানুষ ছিলেন। দরদি ছিলেন। স্বজাতির প্রেমে উদ্বেলিত ছিলেন। বিশ শতকে সিলেটের প্রথম ইংরেজি শিক্ষিতদের মধ্যে তিনিই একমাত্র সিলেট ত্যাগ করেননি। কর্মক্ষেত্র হিসেবে সিলেটকেই বেছে নিয়েছিলেন। অন্যরা উচ্চপদে সরকারি চাকুরি কিংবা আলীপুরে আইন ব্যবসায় চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি রয়ে গিয়েছিলেন স্বজাতির কল্যাণচিন্তায়।
১৮৯৬ সালের ২৩ মার্চ সিলেটে প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমানে ইসলামিয়ার সভাপতি কাপ্তান মিয়া ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করলেন মুসলিম ক্লাব। আঞ্জুমান ও মুসলিম ক্লাবের সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন দরগাহে হযরত শাহজালালের মোতওয়াল্লি সরেকওম আবু সাদ মো. আব্দুল হাফিজ। তিনি কাপ্তান মিয়ার অনুরোধে দরগার প্রধান ফটকের সামনে মুসলমানদের জাগরণী তৎপরতার জন্যে আঞ্জুমান সভাপতি বরাবরে একখন্ড জমি দান করলেন। সেটা ১৯১৫ সালের কথা।
যুগ যুগ ধরে আঞ্জুমানে ইসলামিয়া ও মুসলিম ক্লাবের আদর্শিক ধারাবাহিকতা বহন করছে আজকের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ। সেইকালে মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠায় যে সংগঠনটি অনুপ্রেরণা দিয়েছিলো, সেটি ১৯১১ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতি। বিশ শতকের মুসলিম মনীষা প্রধানত দুটো ধারায় বিকাশ লাভ করে। একটি ইংরেজ শাসকদের সাথে রাজনৈতিক দেনদরবারে, অন্যটি সমাজ-সংস্কৃতির উন্নয়নে বিভিন্ন সমিতি প্রতিষ্ঠা, পত্রপত্রিকা প্রকাশ এবং পুঁথিপুস্তক রচনার মাধ্যমে জাগরণের ক্ষেত্র প্রস্তুতে। এই দ্বিতীয় ধারারই ফসল কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ।
১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস)। বিশ শতকে সিলেটি মধ্যবিত্তের সেরা কীর্তি এটি। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, বহু মনীষার অবদানে, সৃজনে-মননে চারপাশ ভরিয়ে একুশ শতকে এই প্রতিষ্ঠান এখন মহীরুহ। প্রায় শতবর্ষের লালনে, চর্চায়, শীলনে, বহু প্রতিভার সৃজনে এ প্রতিষ্ঠান তার কল্যাণী দীপ্তিতে আলোকিত করেছে চারপাশ। তাই আজকের দিনে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, হয়ে উঠেছে জাতীয় ইতিহাসের এক সজীব ও অনন্য অধ্যায়। সিলেট মনীষার গৌরব ও গর্বের ধন। সংস্কৃতির পাদপীঠ।
১৯৩৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের জন্মের আগে সিলেটে সাহিত্যচর্চার উপযুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। মুসলমান সমাজে সাহিত্যচর্চার ব্যাপক প্রচলন, বৃহত্তর সিলেটের বাংলাভাষী অজ্ঞাতনামা কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্য সংকলন, প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ এবং মুসলিম সাহিত্যসেবীদের সাহিত্যচর্চার সুযোগ দিতে প্রতিষ্ঠিত হয় এই প্রতিষ্ঠান। মুহম্মদ নুরুল হক লিখেছেন, ‘১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর সংসদের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তখন আল ইসলাহর তৃতীয় বর্ষ আরম্ভ হয়েছে। আমাদের সিলেটের সাহিত্যিক দোহালিয়ার জমিদার বন্ধুবর দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ এক কাজে দরগাহ মহল্লায় তার বোনের বাড়িতে এলেন। ওই দিনই বন্ধুবর কবি আব্দুর রাজ্জাক আমার অফিসে বেড়াতে আসেন। আমি তাকে বললাম, কবি ভাই আমার সঙ্গে চলো। তোমাকে আজ একজন সাহিত্যিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব।’
সন্ধ্যার একটু পরেই তারা আজরফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন। কথায় কথায় দেওয়ান আজরফ বললেন, চলুন আমরা সিলেটে একটি সাহিত্য সমিতি গঠন করি। পরদিনই সমাজহিতৈষী এ জেড এম আব্দুল্লাহর বৈঠকখানায় একটি প্রস্তুতি সভা ডাকা হলো। এটিই ছিলো সংসদের প্রতিষ্ঠা সম্মেলন।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সংসদ তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনে একটি নব জাগৃতির আলোয় দীপ্ত হয়ে ওঠে। পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ, জাতীয়তাবোধ, আত্মপরিচয় অন্বেষণ এবং আত্মচেতনা জাগ্রত করতে এই প্রতিষ্ঠান যেমন পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্যে পাঠাগার আন্দোলন করে, তেমনি লেখালেখি ও সৃজনশীলতার বিকাশে পরিচালনা করে সাহিত্য আসর। প্রথম দিকে মাসিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯৪ সাল থেকে আসরটি সাপ্তাহিকে রূপ নেয়। এই সাহিত্য আসরগুলোই নবীন লেখকদের সামনে এগিয়ে যাবার পথ তৈরি করে দেয়। সাহিত্যের প্রতি এক বুক ভালোবাসা নিয়ে তরুণরা ভীড় জমান আসরগুলোতে। বৃহস্পতিবারের প্রতিটি সন্ধ্যা মুখরিত হয়ে ওঠে তরুণদের কোলাহলে। আসরগুলো হয়ে ওঠে আলোকের ঝর্ণাধারা। হৃদয়ের দৃপ্ত আবেগে তরুণরা আলোকের এই ঝর্ণাধারায় অবগাহন করেন। আসরে ঋদ্ধ হতে আসেন নানা মতের মানুষ। দ্বিধাহীন কণ্ঠে উচ্চারণ করেন আপন বিশ্বাস। সময়ের সাথে সাথে সমৃদ্ধির সেই আসরসংখ্যা হাজারে পৌছলো গত ১২ জুলাই (২০১৮)। আজ আমরা ১০০০ তম আসর উদযাপন করছি। ১০০০ তম সাহিত্য আসর উদযাপন নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। আমরা আজ সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। কেননা বাংলাদেশে হাজার তম সাহিত্য আসর উদযাপনের নজির দ্বিতীয়টি আছে কিনা, সন্দেহ।
কেমুসাসের দীর্ঘদিনের রীতি হলো, যারা সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক হন, তাদের সভাপতিত্বেই পরিচালিত হয় সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর। তারা সম্পাদনা করেন বাংলাদেশের প্রাচীনতম সাহিত্যপত্রিকা আল ইসলাহ। যে পত্রিকার বয়স এখন ৮৬ বছর। প্রত্যেক সাহিত্য সম্পাদক তাদের মেয়াদকালে গড়পড়তা ১০০টি সাহিত্য আসর পান। এই ১০০ আসরে নিয়মিত আসা তরুণদের মধ্য থেকেই নির্বাচক মন্ডলির মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা তিনজনকে দেওয়া হয় তরুণ সাহিত্য পুরস্কার। এ পর্যন্ত যারা কেমুসাসের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা হলেন, আবদুল হাই মিনার, আজিজুল হক মানিক, আবদুল হামিদ মানিক, সেলিম আউয়াল, নাজমুল আনসারী, সৈয়দ মবনু, আব্দুস সাদেক লিপন ও আব্দুল মুকিত অপি।
কেমুসাস প্রতি একশোটি সাহিত্য আসরে যে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে, তার মধ্যে তরুণ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অন্যতম। আসরে অংশগ্রহণকারী তরুণদের মধ্য থেকেই লেখার বিচারে তিন থেকে চারজন পান এ পুরস্কার। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে যে দুটো বিষয় লক্ষ রাখা হয়, তা হলো, লেখার সাহিত্যমান এবং নিয়মিত আসরে উপস্থিতি। এই দুটো দিক বিবেচনা করে এ পর্যন্ত যাদেরকে ‘কেমুসাস তরুণ সাহিত্য পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন : সিরাজুল হক, নুরুজ্জামান শাহরিয়ার, মতিউল ইসলাম মতিন, আশরাফ হাসান, আনোয়ার হোসেন মিছবাহ, আবিদ ফায়সাল, শাহাদাত আলিম, সাঈম চৌধুরী, তারেক আহমদ চৌধুরী, রহমান মুজিব, বাছিত ইবনে হাবিব, নাজমুল আনসারী, সাহেদ হুসাইন, আব্দুল মুকিত অপি, মামুন সুলতান, রিপন আহমদ ফরিদী, শাহ ইয়াসিন বাহাদুর, এস এম লুৎফুর রহমান, কামরুজ্জামান হেলাল, নিজামুল হক হামিদী, সুফিয়া জমির ডেইজি, উদয়ন বড়–য়া, জসীম আল ফাহিম, নজমুল হক চৌধুরী, শাহ সুহেল আহমদ, ইশরাক জাহান জেলী, ছাব্বির আহমদ অপু, মাহমুদ পারভেজ, বাশিরুল আমিন, দেলোয়ার হোসেন দিলু, মামুন হোসেন বিলাল, মাসুদা সিদ্দিকা রুহী, শাহ মিজান, মিনহাজ ফয়সল, শামীমা কালাম, শুভ্রা মনি, জীম হামযাহ, আকরাম সাবিত, মাহমুদ শিকদার ও সোহেল আহমদ।
সৃজনশীলতার প্রবহমান নদীতে আজ তারা প্রত্যেকেই একেকজন নাবিক। দু’একজন ছাড়া বাকি সবারই রয়েছে সৃজনশীল সম্ভার। একাধিক গ্রন্থ। আমাদের সাহিত্যে এ এক নতুন সংযোজন।
স্প্যানিশ লেখক লুইস বোর্হেস বলেছিলেন, রাইটিং ইজ নাথিং আদার দ্যান এ গাইডেড ড্রিম। আমরা যদি বোর্হেসের কথাকে সত্যি বলে মেনে নিই যে, লেখালেখি হলো পরিকল্পিত স্বপ্ন; তবে তার সাথে আমাদেরকে এও মেনে নিতে হবে যে, লেখালেখি ও সৃষ্টিশীলতা অন্তর্নিহিত প্রতিভা হলেও তাকে পরিপুষ্ট করতে প্রয়োজন দিকনির্দেশনা ও প্রণোদনা। সাহিত্যকে পরিকল্পিতভাবে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন তাকে ভালোভাবে গাইড বা পরিচর্যা করা। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক তরুণই আজ ভুল পথে হাঁটছে। নোংরামিকে ভাবছে শিল্প। আর নষ্টামিকে ভাবছে সৃষ্টিশীলতা। ফলে কাউকে এগিয়ে আসতেই হবে তাদের পথ দেখাতে। তরুণ লেখকদের উৎসাহ, পরিচর্যা, পরিশীলন ও মূল্যায়ন করতে হবে। আর এইসব অতি আবশ্যিক কর্মগুলি পরিচালনা করে আসছে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ।
সাহিত্যের সুষ্ঠু ও পরিশুদ্ধ ধারাকে গতিময়তা দিয়ে যাচ্ছে কেমুসাস সাহিত্য আসর। যেখানে পরিচর্যার পাশাপাশি রয়েছে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও। পদক একধরনের মূল্যায়নস্মারকও বটে। কেমুসাসের তরুণ সাহিত্য পদক প্রদান তাই বাংলা সাহিত্যের আঞ্চলিক দায় পরিশোধের একটি পদক্ষেপও।
এই সময়ের তরুণরা যখন ইন্টারনেট-প্রযুক্তরি নীল আলোয় নিজেদের মেধা-মন ও মনকে পুড়িয়ে দিচ্ছে, ভেতরকার প্রতিভাকে আবিষ্কার করার ক্ষমতা সর্ম্পূণরূপে হারিয়ে হতাশার উৎসমুখ হয়ে উঠছে, তখন সৃজনশীলতার প্রতি কেমুসাসের আহ্বান তাদেরকে আন্দোলিত করছে, প্রগাঢ়ভাবে। তারা উৎসাহিত হচ্ছে নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে উৎসারিত করতে, নিজেদের উৎসর্গ করতে কল্যাণ ও মানবতার জন্যে। আমাদের ধারণা, এই পদকটি সৃষ্টিশীল তরুণের মনে কিছুটা হলেও প্রত্যাশিত হয়ে উঠছে তার স্বাতন্ত্র্য ও মানের কারণে।
সাহিত্যের অনুশীলনে এক ধরনের সুস্থ ও ঈর্ষণীয় প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলছে কেমুসাস তরুণ সাহিত্য পদক। এই পদকের মাধ্যমে সৃজনশীল তরুণদের গাইডেড ড্রিমের একটি প্রারম্ভ ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। যেখান থেকে শুরু হবে তাদের প্রচেষ্টা ও প্রাপ্তির পদযাত্রা। তাদের ধরে নিতে হবে, এই পুরস্কার তাদের স্টার্টিং পয়েন্ট, তবে গন্তব্য বহুদূর।
আজ যারা পুরস্কৃত হচ্ছেন, কেমুসাসের হাজার তম আসরের উপঢৌকন এইসব মেধাবীরা। তারা কেবল কেমুসাসের নয়, পুরো সিলেট, এমনকি বাংলাদেশের নতুন স্বপ্ন। সাহিত্যে মেধা নির্বাচনের চলমান প্রক্রিয়ায় কেমুসাস বাংলা সাহিত্যের ঐতিহাসিক দায়িত্বটি পালন করছে। অন্য অর্থে বলা যায়, এই আসর হাজার তমে পৌঁছেছে এইসব তরুণের প্রাণোচ্ছ্বল উপস্থিতি ও সৃষ্টিশীল পদচারণার মাধ্যমে। ফলে সাহিত্য আসর এবং তরুণরা একে অপরের পরিপূরক।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের আসরগুলোতে তরুণদের আজকের উপস্থিতি ও ব্যাপক অংশগ্রহণ সম্ভাবনার একটি নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে। এই সম্ভাবনার নাম সৃজনশীলতার সম্ভাবনা। আগামি দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যে সৃজনশীলতা ও শুদ্ধচারীতার বড়ই প্রয়োজন।
’৭৫-পরবর্তী কালে ঢাকার দেয়াললিখনে একটি কবিতার পঙক্তি দেখা যেতো। কবিতাটি আসাদ চৌধুরীর। ‘তোমাদের যা বলার ছিলো, বলেছে কি তা বাংলাদেশ?’
না, বলেনি। কিন্তু অচিরেই বলবে। যে সমাজের তরুণরা পরিকল্পিত স্বপ্ন দেখে, যে সমাজে সৃজনশীল তরুণদের গাইডেড ড্রিম বিদ্যমান, সেই সমাজের তরুণরা যদি জেগে ওঠে, বাংলাদেশ কথা বলবেই। শহীদদের যা বলার ছিলো, বাংলাদেশ তা বলবেই। বলতেই হবে।
[২০ অক্টোবর, শনিবার, ২০১৮, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ১০০০ তম সাহিত্য আসর উদযাপন ও তরুণ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পঠিত প্রবন্ধ]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT