প্রথম পাতা

শিক্ষকদের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ডাক ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১০-২০১৮ ইং ০২:৫৬:৫৩ | সংবাদটি ৯৫ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে উন্নয়নের বর্তমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে আগামী নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, যাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চলমান গতি বজায় থাকে এবং আমাদের শুরু করা উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলো শেষ করা যায়। কারণ, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণে আমাদের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল।’
শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন (এফবিইউটিএ) আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে হয়তো নির্বাচিত হয়ে আসবো। আর যদি নাও দেয় তাহলেও কোন আফসোস থাকবে না কারণ, বাংলাদেশে উন্নয়নের যে ধারাটা আমরা শুরু করেছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে তা আপনারাই নিশ্চিত করবেন, সেটাই আমি চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর একটা লক্ষ্যই ছিল টানা দুই মেয়াদে যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পারে তবে উন্নয়নটা দৃশ্যমান হবে যেমনটি নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তারপরেও সামনে যেহেতু নির্বাচন এবং নির্বাচনে সকলেই যেমন ভোট চায়, আমরাও ভোট চাই। যাতে করে আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে।’
২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণে উন্নয়নের ধারাটি পিছিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন এবং দারিদ্র বিমোচনের কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথাও এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
৩২শ’ মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করায় তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘তাঁর সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রাম-গঞ্জের মানুষ এখন যে পাচ্ছে, মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা যে বেড়েছে সেটা ধরে রাখতে হবে। কাজেই বাংলাদেশের জনগণ যদি মনে করে উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে হবে- আমি আশাকরি হয়তো তাঁরা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাঁদের আবার সেবা করার সুযোগ দেবে।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
এফবিইউটিএ’র সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবায়তুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
দেশের শিক্ষা সম্প্রসারণে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ সমুহ নিয়ে অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি প্রামাণ্য চিত্রও পরিবেশিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে চাই কিন্তু আমি বিশ্বাস করি একটি শিক্ষিত জাতি ছাড়া কোন দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত হতে পারে না।
তাঁর সরকার এজন্য শিক্ষাকে সব চেয়ে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা শিক্ষক, আপনারা মানুষ গড়ার কারিগর। আপনাদের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা।’
‘অবশ্যই আপনারা এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, কাজেই আপনাদের হাতে দেশের ভবিষ্যত রয়েছে, জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ার কারিগর সোনার ছেলে-মেয়েদেরকে আপনারাই গড়ে তুলবেন।’
শেখ হাসিনা শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষকদের কল্যাণে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে পারলে তাঁদের বিভিন্ন দাবি পূরণের ইঙ্গিত দেন এবং তাঁদের দাবিগুলো লিখিত আকারে তাঁর কাছে দেয়ারও পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান স্মরণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নেরও তাগিদ দেন।
তিনি এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেবর বেশি না বাড়িয়ে বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যাতে বিভিন্ন এলাকার ছেলে-মেয়েরা ঘরে বসেই লেখাপড়া করতে পারে, সে পরিকল্পনা তাঁর সরকারের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের উল্লেখ করে তাঁর সরকারের গড়ে তোলা সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সেটা করতে হলে শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকলে মিলেই করতে হবে, সরকারের একার পক্ষে সম্ভব হবে না, সমগ্র সমাজকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
তাঁর সরকারের কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ১৪/১৫ লাখ ছেলে-মেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষায় সম্পৃক্ত। তাঁরাও যেন উচ্চশিক্ষা পায়, তাঁরাও যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মত মানুষ হয়ে নিজেদেরকে কর্মপেযোগী করে গড়ে তুলতে পাওে, সেটাও আমরা ব্যবস্থা করেছি।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • বন্দুকের জোরে আ’লীগ ক্ষমতায়: মির্জা ফখরুল
  • প্রধানমন্ত্রী আজ ব্রুনাই যাচ্ছেন
  • পবিত্র শব-ই-বরাত আজ
  • তামাবিল স্থল বন্দরের অবকাঠামোর উন্নয়ন শিগগিরই শুরু হবে
  • হাওরবাসীর হতাশার কোনো কারণ নেই ----এলজিআরডিমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম
  • প্রবীণ আলেম মাওলানা শফিকুল হক আমকুনীর ইন্তেকাল
  • সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ মাস্টার আর নেই
  • শাবিতে তৈরি হবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ল্যাব
  • এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে বহিষ্কার ৫
  • হতাশ হবেন না, হতাশার কথাও বলবেন না: ফখরুল
  • ‘আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে’
  • প্রশ্নপত্রে পর্ণ তারকার নামের ঘটনায় ব্যবস্থা ----------শিক্ষামন্ত্রী
  • পদ্মা সেতুর রেলওয়ের গার্ডার স্থাপন শুরু
  • ‘আমার পিতা শেখ মুজিব’ উৎসবের উদ্বোধন আজ
  • কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী
  • শাল্লায় পণ্যবাহী নৌকায় আগুন বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে ছাই
  • বানিয়াচংয়ে মসজিদসহ ৫ প্রতিষ্ঠানে আগুন
  • নুসরাত হত্যায় ‘অংশ নেওয়া’ মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পিবিআই
  • তারেকের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সাধারণ রোগীর মত টিকিট কেটে চিকিৎসাসেবা নিলেন প্রধানমন্ত্রী
  • Developed by: Sparkle IT