সম্পাদকীয় আল্লাহ নিজে কোমল এবং তিনি কোমল স্বভাব পছন্দ করেন। -আল হাদিস

ডেঙ্গু এখন সারাদেশে

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-১০-২০১৮ ইং ০১:২৫:৫৭ | সংবাদটি ৭১ বার পঠিত

ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। এতোদিন ‘ রাজধানী কেন্দ্রীক’ ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও ইদানিং বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে রাজধানীর আশেপাশের জেলাগুলোতে এর প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে বেশি। তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অন্যত্র জেলাগুলোতেও। আর বিশেষজ্ঞগণ বলছেন আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এই রোগের প্রাদুর্ভাব থাকতে পারে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শুধু রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে; যা গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় আট হাজার রোগী। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রথম শুরু হয় ২০০০ সালে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকতে হলে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই।
ডেঙ্গু মশাবাহিত একটি রোগ। এডিস জাতীয় মশা ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস ছড়ায়। ডেঙ্গুতে রয়েছে চার ধরনের ভাইরাস। আর এই চার ধরনের ভাইরাসই বাংলাদেশে আছে। সাধারণত এই চার ধরনের ভাইরাসের মধ্যে যেকোন একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর একই ধরনের ভাইরাসে দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। কারণ মানুষের শরীরে ভাইরাসটির প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়। তবে অন্য তিন ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাছাড়া, যে সব রোগী দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কারণ নতুন ভাইরাসটি শরীরে পাঁচদিন থাকে। এ সময় শরীরে থাকা পূর্বের ভাইরাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নতুন ভাইরাসের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ফলে রক্তক্ষরণের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। যা থেকে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুও ঘটতে পারে। অর্থাৎ ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়াটা যে কোন রোগীর জন্য ভয়াবহ। কারণ প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বারের ভয়াবহতা প্রায় দু’শ গুণ বেশি। দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। রোগীর পেটে বা বুকে পানিও জমতে পারে। দ্বিতীয়বার আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হারও বেশি।
সবচেয়ে ভয়াবহ খবর হলো একবার যে দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে সে দেশ থেকে ডেঙ্গু চিরতরে বিদায় হয় না। সুতরাং ব্যাপারটি নিয়ে ভাবতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। প্রথমেই দরকার সর্বাত্মক সচেতনতা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেলেও দেখা গেছে এই রোগীরা ঢাকায় রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, প্রায় দুই দশকেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের কোন উপায় বের হয়নি; অথবা চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও উন্নতি ঘটেনি। অতীতে ম্যালেরিয়া, কলেরা, প্লেগ, গুটি বসন্ত প্রভৃতি সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এক পর্যায়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণের উপায় বের হয়। আমরা আশা করছি অচিরেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুচিকিৎসার যথাযথ পদ্ধতি আবিষ্কৃত হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT