স্বাস্থ্য কুশল

  নীরব ঘাতক রক্তচাপ

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২২-১০-২০১৮ ইং ০১:৩১:০৭ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

রক্তচাপ এমন একটি রোগ যা বিশ্বব্যাপী প্রতি ৩ জন বয়স্কের মধ্যে একজনকে প্রভাবিত করে। লক্ষ লক্ষ লোক উচ্চ রক্তচাপের ফলে মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অপূরণীয় ক্ষতিকারক ষ্ট্রোক এবং অনিরাময় হৃদয় এবং কিডনী তাদের রোগের কারণ হতে পারে।
যেহেতু পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমাগত বয়স্ক হচ্ছে ও বৃদ্ধি পাচ্ছে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, ভারসাম্যহীন খাদ্যাভাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অ্যালকোহল এর ক্ষতিকারক দ্রব্যের ব্যবহার এবং এর সঙ্গে মানসিক চাপযুক্ত জীবন যাপনÑএই প্রতিটি উপাদানে উচ্চ রক্তচাপ তৈরি করার সহায়ক। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চল এর দ্বারা প্রভাবিত।
উচ্চ রক্তচাপকে চিকিৎসা করে নিরাময় এবং প্রতিরোধ দুটোই করা সম্ভব। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এই রোগকে প্রাথমিক অবস্থায় চিহ্নিত করা যায়। প্রতিটি দেশের উচিত সুস্থ জীবন যাপনের সকল ধরণের ব্যবস্থা সকল স্থানে উপলব্ধি করান। উৎকৃষ্ট মানের ওষুধের সহজলভ্যতা, যা কার্যকরীই শুধু নয় সস্তাও, এই রোগের জন্য অত্যাবশ্যক, বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার স্থানে।
এ বছরের অভিযান আমাদের একটি সুযোগ করে দিয়েছে রক্ত চাপকে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। ভবিষ্যতে এর ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমানো সম্ভব।
রক্তচাপ কি?
রক্তচাপ হচ্ছে রক্তের নালিকার ভেতরে রক্তের শক্তি। এই শক্তি তৈরি হয় হৃদয়ের দ্বারা রক্ত পাম্প করার ফলে। রক্তচাপ মাপা হয় পারদ বা মার্কারির মিলিমিটারের বা একে রেকর্ড করা হয় সাধারণত দু’টি সংখ্যাকে একে ওপরের নীচে লিখে। যখন হৃদয়ের স্পন্দন হয় তখন রক্তনালিকার ভেতর সর্বাধিক চাপের সংখ্যাটিকে ‘সিসটোলিক’ রক্তচাপ বলা হয় যা উপরে লিখা হয়, ‘ডায়াসটোলিক’ রক্তচাপ বা রক্তচাপের নিম্নচাপ যা হৃদয় স্পন্দন এবং শিথিলতার সময় রেকর্ড করা হয়, একে নীচে লেখা হয়। সাধারণ অবস্থায় একজন বয়স্ক লোকের রক্তচাপ ‘সিসটোলিক’ ১২০ এমএম এইচজি এবং ‘ ডায়াসটোলিক’ ৮০ এমএম এইচজি হয়ে থাকে। সাধারণত ‘সিসটোলিক’ এবং ‘ডায়াসটোলিক’ রক্তচাপ শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ যেমন হৃদয়, মস্তিষ্ক এবং কিডনির জন্য এবং অবশ্যই সম্পূর্ণ সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
জনস্বাস্থ্যের প্রভাবÑ
কার্ডিওভাসকুলার (হৃদয় ও রক্তনালিকার) রোগ বিশ্বে সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ। এই রোগে আনুমানিক ১ কোটি ৭০ লক্ষ লোক প্রতি বছর বিশ্বে প্রাণ হারান। উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা, যাকে আমরা হাইপারটেনশন বা রক্তের বর্ধিত চাপ বলি এর ফলে বিশ্বে আনুমানিক ৯০ লক্ষ লোকের মৃত্যু হয় প্রতি বছর। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মারা যান হার্টঅ্যাটাক ও সেরিব্রাল ষ্ট্রোকে। বিশ্বে প্রায় ৩ জন বয়স্কের মধ্যে ১ জনের উচ্চ রক্তচাপ আছে, যা ৫০ বছর বয়সের উর্ধ্বে উত্তরোত্তের বৃদ্ধি পায়-তখন ২ জনের মধ্যে ১ জনের উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়। উচ্চ রক্তচাপসহ মানুষের সংখ্যা ১৯৮০ সালে ছিল ৬ কোটি যা ২০০৭ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে বেড়ে ১০ কোটিতে পরিণত হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে নিঃশব্দ মৃত্যু, যা যে কোনও ব্যক্তিকেই আক্রান্ত করতে পারে। অনেক সময় রোগীর শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা যায় না এবং অনেকেই মোটেই সচেতন নন যে তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভোগছেন এবং এর সঙ্গে কী কী স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে। ফলে বেশিরভাগ ব্যক্তিই রোগ চিহ্নিত হওয়ার আগেই মারা যান। আবার যাদের হয়ত চিহ্নিত করা গেছে কিন্তু তাদের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছায় না বা তারা দরিদ্র শ্রেণীর।
সতর্কতা : সেলফ কেয়ার- এর মানে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রণালীতে কী কী করেন তা এই রোগে একটি জরুরি ভূমিকা পালন করে থাকে।
এই রোগের একটি সামাজিক মূল্যও কাজ করে। বেশ কিছু দেশের জনগণ তাদের মূল স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রায় ৫ শতাংশ ব্যয় করেন কার্ডিওভাসকুলার রোগের পেছনে। তবু লক্ষাধিক লোক প্রাথমিক অবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের যতœ নিতে সক্ষম হন না, কারণ তারা এই চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করতে অক্ষম যা পরিবার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। কমবয়সী মৃত্যু, শারীরিক অক্ষমতা, ব্যক্তিগত জীবনে বা পারিবারিক জীবনে বাধা, আর্থিক লোকসান, ক্ষয়কারক কার্যশক্তি এবং এদের চিকিৎসার ব্যয়ভার পরিবার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
তাড়াতাড়ি রোগ নিরাময়ে উচ্চ রক্তচাপ রোধের চাবিকাঠি। এর সঙ্গে আছে জনস্বাস্থ্য পরিষেবা যা জনগণকে শিক্ষিত এবং সাহায্য করে যাতে তারা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত না হন এবং যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা কিভাবে এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করবেন তা বোঝাতে।
নন কমিউনিকেবল ডিজিস বা ছোঁয়াচে নয় এমন রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রয়োজন উচ্চ রক্তচাপকে প্রাথমিক পর্যায়ের পরিষেবা দেওয়ার বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
প্রতিবছর স্বাস্থ্যদিবস পালন করার অন্যতম লক্ষ্য হলো হার্টঅ্যাটাক এবং ষ্ট্রোক সম্বন্ধে মানুষের সচেতন করা। যেমন - এই অভিযানগুলোর বিশেষ উদ্দেশ্য হলÑ১) উচ্চ রক্তচাপের কারণ এবং পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি। ২) উচ্চ রক্তচাপকে প্রতিরোধ এবং এর জটিলতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সরবরাহ। ৩) প্রত্যেক বয়স্ক লোকের নিজের রক্তচাপ সম্পর্কে জানা দরকার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। ৪) উচ্চ রক্তচাপকে প্রতিরোধ করতে স্বয়ং যতœবান হতে উৎসাহিত করা। ৫) রক্তচাপকে পরিমাপের ব্যবস্থার সুযোগ সবার জন্য সুলভ করা। ৬) জাতীয় এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় প্রকৃত পরিবেশ তৈরি হয়।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • কম বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি
  • শিশুর কয়েকটি অসুখ ও পরামর্শ
  • হাড়ক্ষয় রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা
  • শীতে নাক কান গলার সমস্যা ও সমাধান
  •   নীরব ঘাতক রক্তচাপ
  • গর্ভাবস্থায় কী খাবেন
  •   মাতৃস্বাস্থ্য ও মাতৃমৃত্যু কিছু কথা
  • সচেতন হলেই প্রতিরোধ ৬০ শতাংশ কিডনী রোগ
  •   হৃদরোগীদের খাবার-দাবার
  • ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়
  • মুখে ঘা হলে করণীয়
  • পায়ের গোড়ালি ব্যথায় কী করবেন
  • নীরব রোগ হৃদরোগ
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে অর্শের চিকিৎসা
  • অনিদ্রার অন্যতম কারণ বিষন্নতা
  • রক্তশূন্যতায় করণীয়
  • চোখে যখন অ্যালার্জি
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
  • রোগ প্রতিরোধে লেবু
  •  স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন
  • Developed by: Sparkle IT