সম্পাদকীয়

স্যানিটেশন সচেতনতার মাস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-১০-২০১৮ ইং ০০:৪৪:৫৯ | সংবাদটি ৬৯ বার পঠিত

২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অঙ্গীকার নিয়ে সারা দেশে চলছে জাতীয় স্যানিটেশন মাস। ২০০৩ সাল থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ অক্টোবর মাসকে জাতীয় স্যানিটেশন মাস হিসেবে পালন করে আসছে। এবার জাতীয় স্যানিটেশন মাস-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘টেকসই উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন’। ২০০৩ সালে যখন জাতীয় স্যানিটেশন মাস পালন শুরু হয় তখন দেশের ৩৩ শতাংশ মানুষ ছিলো স্যানিটেশনের আওতায়। বর্তমানে এই কাভারেজ দ্বিগুণের বেশি বলে ধারণা করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শতাব্দী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের মাধ্যমে স্যানিটেশন সুবিধায় বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি সাধন করেছে। সরকারের বক্তব্য হচ্ছে শতভাগ স্যানিটেশন অর্জনের লক্ষে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্যানিটেশন টাস্কফোর্স গঠন।
সরকার অবশ্য শতভাগ স্যানিটেশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালে প্রণয়ন করা হয় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন এর জাতীয় নীতিমালা। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্যানিটেশন কৌশল ও পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন খাতের মেট্রো ডেভলাপমেন্ট প্ল্যান্ট (২০১১-২০১৫) প্রণয়ন করা হয়। তাছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১০ সালে পানি ও স্যানিটেশনকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রতিটি সরকারই সকলের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তারপরেও আমাদের স্যানিটেশন ব্যবস্থা যে খুব একটা ভালো অবস্থানে চলে এসেছে, সেটা বলা যায় না, যদিও সরকারিভাবে এ ব্যাপারে সাফল্যের নানা তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বের একটি অনুন্নত দেশ, যেখানে জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগেরই বসবাস দারিদ্র্যসীমার নীচে। যারা খেয়ে পরে বেঁচে থাকার সংগ্রামেই কাটিয়ে দিচ্ছে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত। এই অবস্থায় নিরাপদ পানি আর স্যানিটেশন নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় থাকে না অনেকেরই। তারপরেও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে সেটা বলতেই হয়।
তবে সরকার থেকে যতোই প্রচারণা চালানো হোক, অনেক সময়ই বাস্তবের সঙ্গে সরকারি পরিসংখ্যানের অমিল থেকে যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে স্যানিটেশনের ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তোলার গতি অত্যন্ত মন্থর। এর প্রধান কারণ দারিদ্র্য। অসংখ্য পরিবার সামর্থ্যরে অভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন কিংবা বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে না। এই অবস্থায়ই শতভাগ স্যানিটেশন অর্জনের জন্য নানা রকম উদ্যোগ আয়োজন অব্যাহত আছে। ফলে সারাদেশে সার্বিকভাবে স্যানিটারী ল্যাট্রিন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। অবশ্য তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনসংখ্যাও। এই প্রেক্ষাপটে স্যানিটেশন ক্ষেত্রে সাফল্য যেটা হচ্ছে তা মোটেই সন্তোষজনক নয়। দরিদ্র নি¤œ আয়ের মানুষের স্যানিটেশন উন্নয়নে সরকারি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT