পাঁচ মিশালী

আমার স্বপ্নের সিঁড়ি

মো. আব্দুস ছালাম প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-১০-২০১৮ ইং ০০:১৮:১৪ | সংবাদটি ১৬৪ বার পঠিত

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’-চিরসত্য এ প্রবাদটি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় মানুষের হৃদয়কে। স্বপ্ন দেখেছিলামÑএ বিশ্বকে নিয়ে; যখন হাঁটিহাঁটি পা পা করে বড়ো হতে থাকি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের নিভৃত পল্লি, সোনাতলা গ্রামে মা মোমেনা শুকুর মাহমুদের কোলে। দেখেছিলাম স্বপ্নÑপৃথিবী অনেক সুন্দর হবে। যে সুন্দর ভুবনে বিচরণ করবো হরিণ শাবকের মতো চঞ্চলতা নিয়ে, নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে। নিরন্তর খুঁজছি আমি সেই পৃথিবী যেখানে স্বপ্ন মিলে যায় প্রশান্তির মোহনায়। কিন্তু হতাশ হই বারংবার, নেই যেন সুখবর। পৃথিবীর বয়স যত বাড়ছে, জলবায়ুর উষ্ণতার ন্যায় কলঙ্কের কালিমা যেন ক্রমাগত গ্রাস করে চলেছে তাকে। মুক্তির আশে অবিরাম ছুটাছুটি, সকল দেশের সকল ভাষাভাষীর একটাই দাবিÑফিরিয়ে দাও সেই শান্তি, চলতে চাই প্রশান্তি নিয়ে, স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে, আমার স্বপ্নীল পৃথিবীতে।
পৃথিবীর সকল শিক্ষকের সেরা শিক্ষক আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বাণী ও আদর্শের মাঝে রেখে গেছেন মানবজীবনের মৌলিক শিক্ষা। তাঁর সামাজিক সংস্কার ও শিক্ষায় সন্ধান মেলে স্বর্গীয় শান্তি। কেবল তাঁর যথার্থ অনুকরণ ও অনুসরণের মাঝেই নিহিত আছে মনুষ্যত্বের উন্নতি, মানবতার মুক্তি। অথচ স্বপ্নের পৃথিবীতে আজ ভালোবাসার বড্ড হাহাকার। কেউ ভালোবাসে না পৃথিবীর মানুষকে। ভালোবাসা আজ স্বার্থের দ্বন্দ্বে আর অবস্থানের সংঘাতে ক্ষত-বিক্ষত। চারদিকে শুধুই ষড়যন্ত্র, অস্ত্রের ঝন-ঝনানি আর হুমকি-ধামকি নিদারুণ উত্তাপ ছড়িয়ে আতঙ্কিত করে তুলেছে শান্তিপ্রিয় মানুষকে, বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।
কবির ভাষায়Ñ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/মানবের তরে আমি বাঁচিবারে চাই।’
কিন্তু কীভাবে সম্ভব? কবির সেই স্বপ্নের পৃথিবী আজ খুঁজে পাওয়া দায়। এ ধরায় মানুষ তার নিজস্ব ধারায় চলতে চায়। কিন্তু পারে কি? অনেক বাঁধা-বিঘœ রয়েছে তার সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মীয় অনুশাসনে। নানা অনাচারে অতিষ্ট সে। পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র এমনকি বিশ্বের সর্বত্রই যেন একই সূত্রে গাঁথা।
আকাশে মুক্ত বিহঙ্গ ঘুরে বেড়ায়। আপন স্বরলিপি গেয়ে মুগ্ধ করে মানুষকে। তরুলতা ছায়া দান করে নিজ মহিমায়। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছিÑআঠারো হাজার মাখলুকাতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এই মানবজাতি। সুন্দর পৃথিবী গড়ার সমস্ত কর্মকা- মানুষের হাতেই বন্দি। জ্ঞান-বিজ্ঞানে, সমাজ সংস্কারে সর্বত্রই যেন এক বিশাল দায়িত্বভার এই মানুষের কাঁধে। মানুষই পারে এ পৃথিবীকে সুন্দর করে সাজিয়ে বসবাসের উপযোগী করে গড়তে। তাই কর্মসংস্থান আজ কোনো বিষয় নয়। শুধু একটি সুন্দর পরিকল্পনা সাজিয়ে-গুছিয়ে দিতে পারে বিশ্বের সকল অবহেলিত মানুষের জীবনকে। আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ খুঁজে নিবে সঠিক পথের সন্ধান। আমরা নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে স্বপ্নের সিঁড়ি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
সারাক্ষণ ভাবিÑআমাদের এই সুন্দর ভুবনে মা, মাটি ও মানুষ হয়ে উঠবে উৎফুল্ল। সোনালি স্বপ্নের ডানা মেলে “বাক্ কুম কুম” করে আহ্বান করবে প্রেমিক-প্রেমিকাকে, উচ্চকণ্ঠে বলবেÑআমি ভালোবাসি পৃথিবীকে। সেইসাথে ভালোবাসি তোমাকেও। আমিও আমার স্বপ্নযাত্রায় সঙ্গী করে পেতে চাই পৃথিবীর সকল মানুষকে। বেঁচে থাকতে চাই আজীবন, একে অপরের হৃদয়ে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে।
পৃথিবীর অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ জকিগঞ্জের এই জনপদ থেকে সবার প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বানÑজাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল অহংকার আর ভেদাভেদ ভুলে মিশে যাই শান্তির ছায়াতলে, যতদিন থাকবে পৃথিবী, উচ্চারিত হবে আমাদের স্বপ্নের সিঁড়ি, বিশাল কর্মযজ্ঞে। যা মানুষের জন্য বয়ে আনবে সর্বজনীন উন্নতি আর অনাবিল শান্তি। আমি তখনই হবো ধন্য। আমার স্বপ্নের পৃথিবী হবে সুন্দর আর স্বার্থক।
আর স্বপ্ন যদি স্বার্থক নাই হয়, তবে কবির ভাষায় বলে যেতে চাইÑপৃথিবীর সকল মানুষের তরেÑ

Let me live

Unseen, unknown

Let me die

Not a stone in the world, where I lie.

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT