পাঁচ মিশালী

বহুমুখী প্রতিভার সমন্বয়ে একজন শাহ আলম

আবদুস সবুর মাখন প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-১০-২০১৮ ইং ০০:২২:৪২ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

যখন বললেন ‘আপনাকে আমি বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ শোনাই’- বলেই শুরু করলেন- ‘আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের ওপর/কাছে আমার অনুরোধ রইলো...।’ তখন অনেকটাই বিস্মিত হতে হয়েছে। শুনতে হয়েছে মন্ত্রমুগ্ধের মতো একাত্তরের রেসকোর্স ময়দানের সেই বজ্রকন্ঠের অবিকল অনুরণন। চোখ বুজে মনে হলো আমরা বুঝি বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের রেকর্ড শুনছি। শুধু তাই নয়, যেকোন কন্ঠকেই অবিকল নকল করতে পারদর্শী তিনি।
বলছিলাম যার কথা, তিনি শাহ আলম (৫৫)। সিলেটে কর্মরত একজন পুলিশ সদস্য। তার কন্ঠ যেমন বলিষ্ঠ, তেমনি বলিষ্ট তার চেহারা গড়ন। এই কর্মোদ্যম মানুষটির প্রতিভার শেষ নেই। অন্যের কন্ঠ অনুকরণ, অভিনয়, কিঞ্চিত লেখালেখি- এই সবকিছু ছাপিয়ে তিনি একজন সাঁতারু হিসেবেই সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। সাঁতার তার আশৈশব লালিত স্বপ্ন সাধনা। একান্ত নিজের চেষ্টায় তিনি সাঁতারের নানা কলাকৌশল রপ্ত করেছেন, এ ব্যাপারে তার কোন প্রশিক্ষক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। দীর্ঘ সাধনার পর তিনি আয়ত্ত করেছেন হাতপা না ছুড়ে সাঁতার কাটার বিরল কৃতিত্ব। তিনি হাত পা বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভেসে থাকতে পারেন অনেকক্ষণ। শুরুটা শৈশবে। চাঁদপুর জেলার বাগাদী গ্রামে ১৯৬২ সালের পয়লা জুলাই জন্মগ্রহণকারী শাহ আলম বিদ্যালয়ে থাকাকালীন লেখাপড়ার পাশাপাশি সাঁতারে আত্মনিমগ্ন হন। তখন তিনি বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়ে (ডি.এন. হ্ইাস্কুল) যেতেন নদী পথে সাঁতার কেটে। যাত্রী বোঝাই নৌকার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাঁতার কেটে, চলে যেতেন গন্তব্যে, আবার ফিরে আসতেনও তেমনি। অভিনব কায়দায় সাঁতার প্রদর্শনের জন্য তিনি সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশংসিত হয়েছেন। সিলেট পুলিশ লাইনস পুকুরে ২০১২ সালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সাঁতারু শাহ আলমের একক সাঁতার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি হাত পা বাঁধা অবস্থায় সাঁতার কেটে তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছ থেকে প্রশংসা পত্র লাভ করেন। এছাড়া, ১৯৯২ সালে তিনি দুঃস্থ মানবতার সাহায্যার্থে আয়োজিত সাঁতার প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে জেলা প্রশাসকের প্রশংসা পত্র লাভ করেন।
অভিনয়ের প্রতিও নেশা আছে শাহ আলমের। বিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় দুয়েকটা নাটকে অভিনয় করেছেন। এক পর্যায়ে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দী হওয়ার আকর্ষণে চলে যান ঢাকায়। এফডিসিতে তখনকার ‘জাম্বস ফাইটিং গ্রুপ (জুনিয়র)’-এর সদস্য হয়ে যান। ফাইটিং দৃশ্যে অভিনয় করেন শফি বিক্রমপুরী পরিচালিত ‘টারজান অব বেঙ্গল’, আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ সহ ‘বাহাদুর’ ‘দাতা হাতেমতাই’ প্রভৃতি ছবিতে। পাশাপাশি সিনেমার সংলাপ ডাবিংয়ে কন্ঠ দিতেন তিনি। নির্দিষ্ট শিল্পীর অনুপস্থিতিতে ওই শিল্পীর কন্ঠ তিনি অবিকল নকল করে ফেলতেন। বিশেষ করে তখন বেতার-টিভিতে নতুন চলচ্চিত্র মুক্তির প্রাক্কালে এই ছবির বিজ্ঞাপন প্রচার হতো। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এইসব বিজ্ঞাপনে কন্ঠ দিতেন বিশিষ্ট ঘোষক ও অভিনেতা নাজমুল হাসনাইন এবং মাজহারুল ইসলাম। এই বিজ্ঞাপনগুলো এডিটিংয়ের সময় অনেক স্থানে মূল কন্ঠ মুছে যেতো। এই অবস্থায়ই এই দুইজনের কন্ঠ অনুকরণ করে বিজ্ঞাপনের মুছে যাওয়া অংশটি পূর্ণ করতেন শাহ আলম। শুধু তাই নয়, তখনকার বিশিষ্ট সংবাদ পাঠকদের কন্ঠও তিনি অনুকরণ করতে পারেন। শাহ আলমের কবিতা, প্রবন্ধ লেখারও অভ্যাস রয়েছে; যদিও তা এখনও কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
শাহ আলমের একান্ত ইচ্ছে তার এই বিচিত্র প্রতিভা জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং তার জন্মভূমি চাঁদপুরে একটি সুইমিংপুল গড়ে তোলা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT