সম্পাদকীয় আগুন যেমন ধাতুকে পুড়িয়ে খাঁটি করে, দুঃখও তেমন আত্মাকে একেবারে আয়নার মতো করে সাফ করে দেয়। -কাজী নজরুল ইসলাম

পতিত জমিতে চাষাবাদ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-১০-২০১৮ ইং ০১:১০:৩৫ | সংবাদটি ৬৬ বার পঠিত

আর কিছুদিনের মধ্যেই নুতন ধানের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে উঠবে গ্রাম-বাংলার মানুষ। তার প্রস্তুতিই চলছে এখন। মাঠে মাঠে সবুজ ধানের সমারোহ। অপেক্ষায় আছে রং বদলানোর। ক্রমান্বয়ে সবুজ মাঠ হয়ে উঠব সোনালী বরণ। অগ্রহায়ণে জমে উঠবে বাঙালির চিরায়ত নবান্ন উৎসব। এমনি একটি সুন্দর প্রাণবন্ত সময়ে আরেকটি সুখবর। সেটা হলো পতিত জমিতে নতুন জাতের ধান উৎপাদনে সাফল্য নতুন জাতের নেরিকা আউশ ধান ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে পতিত জমিতে। মাত্র একশ’ দিনে এই ধান চাষ করে ঘরে তোলা যায়। বোরো ফসল কাটার পর বেশ কিছু দিন জমি থাকে অব্যবহৃত। অন্য ফসল লাগানোর পূর্বে প্রায় সাড়ে তিন মাস পতিত থাকাকালীন এই নতুন জাতের ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। এবার সারাদেশে প্রায় আট লাখ ২৫ হাজার মণ নেরিকা ধান উৎপাদিত হয়েছে। তাই নেরিকা ধান দেশের কৃষি উৎপাদনে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে আমাদের কৃষিতে এসেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। মোটামুটি সব ধরনের ফসলেরই উৎপাদন বেড়ে চলেছে। দিন দিন কৃষি জমির পরিমাণ সংকুচিত হওয়ার পরও ধান উৎপাদন বাড়ছে। আর এই সাফল্যের পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে উচ্চ ফলনশীল নতুন জাতের ধান। এর মধ্যে রয়েছে দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বেশ কিছু উচ্চ ফলনশীল জাত, আর কিছু আমদানী করা হয়েছে বিদেশ থেকে। নেরিকা একটি উচ্চ ফলনশীল ও অন্তর্বর্তীকালীন আউশ মওসুমের ধান। গত অর্থ বছরে দেশে ৪০ জেলার কৃষকদের নেরিকা আউশ আবাদের জন্য সাত কোটি ২৯ লাখ টাকা মূল্যের বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বোরো ও আমনের মাঝামাঝি সময় মাত্র একশ দিনে নেরিকা ধান উৎপাদন সম্ভব বলে কৃষকেরা এর দিকে ঝুঁকছেন।
দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। স্বাধীনতা পরবর্তীতে যেখানে দেশে বার্ষিক খাদ্য উৎপাদন ছিলো এক কোটি মেট্রিকটনের কিছু বেশি। আর বর্তমানে এই উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। গত অর্থ বছরে চালের উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৬২ মেট্রিকটনের বেশি। সেটা চার কোটি মেট্রিকটনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজন সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কৃষিজমি রক্ষায় এগিয়ে আসা। নানা কারণে প্রতিদিনই কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। এই ধারায় ছেদ বসাতে হবে। সেই সঙ্গে কৃষকদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নত করতে নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কৃষি প্রধান দেশে কৃষকরা বাঁচলে দেশ বাঁচবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT