সম্পাদকীয়

চোরাকারবারীদের অভয়াশ্রম

প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-১০-২০১৮ ইং ০১:০৭:৩৮ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

পণ্য চোরাচালানের জন্য নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে এখন রেলওয়ে। ট্রেনে চোরাচালানের পণ্য পরিবহনের মাত্রা বেড়ে চলেছে দিন দিন। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়- রেলপথ এক প্রকার উন্মুক্ত হওয়ায় অপরাধীদের নিরাপদ ট্রানজিটে পরিণত হয়েছে এটি। ট্রেনের টয়লেট, ট্যাংক, সিট এবং যাত্রীর লাগেজ, জুতা এমনকি পেট থেকেও অবৈধ স্বর্ণ, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। একই ট্রেনে শতশত যাত্রী থাকায় যৎসামান্য রেল পুলিশ দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া দেশের কোন রেলওয়ে স্টেশনেই স্ক্যানার মেশিন বা যাত্রী তল্লাশীর কোন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। রেলওয়ে পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে-পুলিশের চরম সংকট রয়েছে। সংকট আছে সরঞ্জামেরও। যেখানে কমপক্ষে ১৪ হাজার পুলিশ দরকার, সেখানে আছে মাত্র চারশ’। তারপরেও অবৈধ মালামালসহ অপরাধীদের আটকের হার পাঁচ থেকে দশ শতাংশ।
রেলপথে চোরাচালানের পণ্য পরিবহনের ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেনে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে তল্লাশী করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মাদকদ্রব্যসহ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারকে আটক করার পর বিষয়টি নিয়ে একটু বেশি বলাবলি হচ্ছে। এই জেলারকে আটককারী ওসির বক্তব্য হচ্ছে-এই প্রথম অবৈধ মালামাল সহ এক জেলার আটক হলো। তিনি বলেন, রেলপথ উন্মুক্ত; শুধু লাইনগুলো নয় বিভিন্ন স্টেশনে যথাযথ বেড়া কিংবা ওয়াল নেই। ফলে অপরাধীদের আটক করতে অনেক সময়ই ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। জানা গেছে, রেলওয়েতে প্রতিদিন পৌণে চারশ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ যাত্রী যাতায়াত করছেন। ট্রেন ও স্টেশনে যথাযথ তল্লাশী না থাকায় অপরাধীরা যাত্রীবেশে ট্রেনে ভ্রমণ করছে। মহিলা যাত্রীরাও অবৈধ পণ্য বহন করছে। অথচ মহিলা পুলিশ কম থাকায় তাদের শরীর তল্লাশী করা সম্ভব হচ্ছে না। রেলপথকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ স্ক্যানার মেশিনের ব্যবস্থা করা দরকার প্রতিটি রেলস্টেশনে।
পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকার পাশাপাশি অত্যাধুনিক স্ক্যানার মেশিন ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকায় রেলওয়ে হয়ে ওঠেছে চোরাকারবারীদের অভয়াশ্রম। এর পাশাপাশি একটি বিষয় উল্লেখ করতেই হয়। রেলওয়ে বিভিন্ন রুটে মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য চোরাচালান পণ্যের পরিবহণে দুর্নীতিবাজ রেল পুলিশসহ দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রেলপথে চোরাচালান বন্ধে রেলওয়েতে গড়ে ওঠা এই দুর্নীতিবাজ চক্রের মূলোৎপাটন করতে হবে। এই চক্রের কারণে অবাধে চোরাচালানতো হচ্ছেই, সেই সঙ্গে লুটপাট হচ্ছে রেলের সম্পদ। এদের কারণেই বছরের পর বছর রেলওয়েকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT