শিশু মেলা প্রাক্তন নেতৃবৃন্দের সম্মাননা অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি

ব্যবসা, শিল্প ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সিলেট চেম্বার

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-১০-২০১৮ ইং ০৩:১৭:৩৬ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

 দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রাক্তন নির্বাচিত সভাপতি, সিনিয়র সহ সভাপতি ও সহ সভাপতিবৃন্দের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেছেন, অতীতকে স্মরণ করে সিলেট চেম্বার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তা ব্যবসায়ীদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এ সম্মাননা একটি প্রশংসনীয় ও মহৎ উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেট চেম্বারের এই দৃষ্টান্ত এফবিসিসিআইতে চর্চা করা হবে।
তিনি বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়া আমাদের একটি প্রবণতা। কিন্তু সিলেট চেম্বার প্রাক্তন নেতৃবৃন্দকে সম্মানিত করে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চেম্বার কনফারেন্স হলে সিলেট চেম্বারের বর্তমান কমিটির উদ্যোগে এবং বর্তমান সভাপতির অক্লান্ত পরিশ্রমে আয়োজিত নির্বাচিত প্রাক্তন নেতৃবৃন্দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) সিলেট চেম্বারের কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী সংগঠন যার যাত্রা শুরু এফবিসিসিআই এর আগে। সিলেট চেম্বার এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি সিলেট অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে বলেন, বিপুল পরিমাণ জমি এবং গ্যাস থাকার পরও আশানুরূপ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তিনি এ ব্যাপারে সিলেট চেম্বারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৮তম সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন বলেই আমরা ব্যবসায়ীরা আজ স্বাধীনভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারছি। ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বাজেটের সিংহভাগ অর্থই ব্যবসায়ীরা যোগান দিয়ে থাকেন। তাই সব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মূল্যায়ন করেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ব্যবসায়ীদের অধিকারে আমি মাথা উঁচু করে কথা বলি। আমরা কথা বলেছিলাম বলেই প্রধানমন্ত্রী তা বুঝতে পেরেছিলেন এবং সংসদে তিনি ভ্যাট আইন স্থগিত করেছেন।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণ করেন সাবেক সভাপতি মরহুম খন্দকার আব্দুল মালিকের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন, মরহুম এম. এ. মুমিনের পক্ষে সানজিদা খানম, সাবেক সভাপতি এম. এ. ছালাম চৌধুরীর পক্ষে আহমদ আল সাবির, এম. এ. রাজ্জাক চৌধুরী, ফখর উদ্দিন আলী আহমদ, মুহাম্মদ সাফওয়ান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে সাহেল হাসান, সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিছবাহ ও সালাহ্ উদ্দিন আলী আহমদ। সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতির সম্মাননা গ্রহণ করেন মরহুম আব্দুল হান্নান চৌধুরী’র পক্ষে মো. রেজা চৌধুরী, মরহুম ফারুক আহমেদের পক্ষে আহমদ মেহেদী হাসান, প্রয়াত সুনীল রঞ্জন দাসের পক্ষে প্রশান্ত কুমার দাস, মরহুম এস. এম. ইসমাইলের পক্ষে ফারজানা আরেফিন, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ্ আলম, নাসিম হোসেইনের পক্ষে সাকির হোসেন, মো. লায়েছ উদ্দিনের পক্ষে রাজু আহমেদ জামাল। সাবেক সহ সভাপতির সম্মাননা গ্রহণ করেন মরহুম আব্দুল বাকী চৌধুরীর পক্ষে ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সহ সভাপতি মতিউর রব, মরহুম হাবিবুর রহমানের পক্ষে কয়েছ রহমান, মরহুম আব্দুল মজিদের পক্ষে রিয়াদ আহমদ, মঞ্জুর আহমদ ও ইয়াদ-এ-এলাহীর পক্ষে সাইদুর রহমান নাহিন, সাবেক সহ সভাপতি ফরিদ বক্স, মো. আতিকুর রহমান, আলহাজ্ব মো. দিলওয়ার হোসেনের পক্ষে আরিফ হোসেন, আলা বক্স, জুবায়ের আহমদ চৌধুরী ও হাজী ইফতেখার আহমদ সোহেল।
সম্মাননা গ্রহণ করে প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ বলেন, চেম্বারের বর্তমান সভাপতি ও পরিচালনা পরিষদের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। সাবেক নেতৃবৃন্দকে নতুন প্রজন্মের সামনে এনে পরিচিত ও সম্মাননা দিয়ে একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করলো বর্তমান কমিটি। এটি অতীতের সাথে বর্তমানের মিলনমেলা।
বক্তারা এটিকে একটি মহৎ কাজ উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ ও পরিচালনা পরিষদ এব্যাপারে যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন সেজন্য আমরা তাকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানে ২৯ জন প্রাক্তন নেতৃবৃন্দকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, আজকের দিনটি সিলেট চেম্বারের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। ১৯৬৬ থেকে বর্তমান পর্যন্ত চলার পথে যাদের অবদান ও ত্যাগ রয়েছে তাদের কথা আমি স্মরণ করছি এবং যারা আমাদের মধ্যে নেই তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা এবং আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি।
তিনি চেম্বারের বিভিন্ন কার্যক্রমের চালচিত্র উল্লেখ করে বলেন, সিলেট চেম্বার সিলেটে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং ব্যবসায়ীদের কল্যাণে বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও মতবিনিময় সভা আয়োজন করে আসছে। সিলেট হাই-টেক পার্ক নিয়ে লন্ডনে ও সিলেটে সেমিনারের আয়োজন করে প্রবাসীদের সিলেটে বিনিয়োগের আহবান জানানো হয়েছে। তিনি সিলেটে বিমানের সান্ধ্যকালীন ডমেস্টিক ফ্লাইট নিয়মিত চালু রাখার আহবান জানান। তিনি সিলেট চেম্বার ভবনে আধুনিকায়নে এফবিসিসিআই সভাপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ন ম শফিকুল হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাফওয়ান চৌধুরী, ফারুক আহমদ মিছবাহ, সালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ্ আলম, সাবেক সহ সভাপতি মতিউর রব, ফরিদ বক্স, জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, সানজিদা খানম ও মাহজাবিন জহুরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, পরিচালক জিয়াউল হক, মো. সাহিদুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ভূট্টো), মুশফিক জায়গীরদার, আমিরুজ্জামান চৌধুরী, এহতেশামুল হক চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মো. আব্দুর রহমান জামিল, হুমায়ুন আহমেদ, মুজিবুর রহমান মিন্টু, সিলেট চেম্বারের সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং প্রেস ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT