সম্পাদকীয়

জাতীয় যুব দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-১১-২০১৮ ইং ০০:২৪:০৮ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

জাতীয় যুব দিবস আজ। যুবসমাজ একটি জাতির চালিকাশক্তি। যুবকরাই গড়ে তুলতে পারে একটি সুখী সমৃদ্ধ সুশৃঙ্খল জাতি। জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই যুবসমাজের মেধা, প্রাণশক্তির বিকাশ ঘটানোর মাধ্যমে তাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার গুরু দায়িত্বটা হচ্ছে রাষ্ট্র এবং সমাজের। এই যুবসমাজের জন্যই নির্ধারিত একটি দিবস হচ্ছে পয়লা নভেম্বর। দেশের যুবসমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই জাতীয় যুব দিবসের ঘোষণা দেন। যুবসমাজের জন্য দিনটি আনন্দের-গৌরবের। যুবসমাজই পারে একটি দেশ ও জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে। আবার এই যুবসমাজের কারণে একটি জাতির অধঃপতনও ঘটতে পারে। তাই জাতির চালিকাশক্তি যুবসমাজের জন্য একটি দিবস নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। সেটা হলো জাতীয় যুব দিবস। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে : জেগেছে যুব গড়বে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।
আমাদের জনগোষ্ঠীর এক তৃতীয়াংশই হচ্ছে যুবসমাজ। সেই হিসেবে আমাদের ১৬ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে পাঁচ কোটির বেশিই যুবসমাজ। আর এরা মূলত গোটা সমাজকেই নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের শিক্ষাদীক্ষা, মেধা, মনন রাষ্ট্রের অগ্রগতির পেছনে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সকল ক্ষেত্রেই সংকট নিরসনে কিংবা সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে তারণ্যের অবদানই সবচেয়ে বেশী। আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে অতীত থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে জাতিকে পরিত্রাণ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তরুণরাই। একাত্তরের কাক্সিক্ষত মুক্তিযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রের অন্য যেকোন আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখে ছিলো তরুণরাই। তাই তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের তরুণদের বর্তমান অবস্থা কী? তারা কি সেই ইস্পিত লক্ষে এগোচ্ছে যথাযথভাবে? প্রশ্নগুলো আজ স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসে দাঁড়ায়। এই মুহূর্তে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমাদের এই অতি সম্ভাবনাময় তরুণের বড় অংশ বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের একটা অংশ মাদকাসক্ত, আরেক অংশ অপরাধ অপকর্মে জড়িত। বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত যেমন অনেক শিক্ষিত তরুণ, তেমনি অশিক্ষিত-স্বল্প শিক্ষিত তরুণরাও বেকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে চাকুরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন অনেক তরুণ-তরুণী। দেশি-বিদেশি সংস্থার জরিপের তথ্য হচ্ছে, বর্তমানে দেশে জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশই বেকার। আর বেকার জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই তরুণ। আবার শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তরুণদের এক-তৃতীয়াংশ। অশিক্ষা, বেকারত্ব আর হতাশার যাঁতাকলে পিষ্ট তরুণ সমাজের একটা অংশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।
এতোকিছুর পরও আমরা আশাবাদী। এতো দুঃসংবাদের ভিড়েও মাঝে মধ্যে আমাদের জন্য কিছু সুসংবাদ থাকে। বেকারত্ব, অশিক্ষা আর হতাশাকে ছাপিয়ে তরুণসহ সমাজের একটা অংশ সুশিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে তুলছে। তারা শুধু দেশে নেয়, দেশের বাইরে গিয়েও নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুনাম কুড়িয়ে আনছে। বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একটি প্রজন্ম দেশ-বিদেশে মানসম্মত পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সমাজের অনগ্রসর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে। এই ধরনের পরিবারের ছেলেমেয়েরা সুযোগ ও সামর্থ্যরে অভাবে বঞ্চিত হচ্ছে লেখাপড়া থেকে। এদের অনেকেই এক পর্যায়ে সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশের তরুণ সমাজকে সমাজ তথা দেশের কাজে লাগাতে হবে। এজন্য তাদের গড়ে তুলতে হবে সুশিক্ষিত সুনাগরিক হিসেবে। এই দায়িত্ব রাষ্ট্রের যেমন, তেমনি সমাজ-সচেতন ব্যক্তিদেরও।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT