সম্পাদকীয় যা নিজের বিষয় নয়, তাতে লক্ষ না করা প্রকৃত মুসলমানের লক্ষণ। -আল হাদিস

ধর্মঘট নিষিদ্ধে আইন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১১-২০১৮ ইং ০১:২০:৩২ | সংবাদটি ৮০ বার পঠিত

ধর্মঘট নিষিদ্ধে আইন চান বিশেষজ্ঞরা। এই খবরটি একটি জাতীয় দৈনিকের। গত সপ্তাহে সড়কপথে যে নৈরাজ্য ঘটেছে, তার প্রেক্ষিতে এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। পরিবহন ধর্মঘটের নামে দেশের সড়ক মহাসড়কে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো পরিবহন শ্রমিকের নামধারী দুর্বৃত্তরা। তারা যানবাহন ভাংচুর, যাত্রীদের অপদস্থ করাসহ ‘হত্যাকান্ডের’ মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। আর এর প্রেক্ষিতে দেশের বুদ্ধিজীবী মহল মনে করছেন আইন করে ধর্মঘট নিষিদ্ধ করা উচিত। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। আবার সংবিধান নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিজ পেশা বা ব্যবসা চালানোর অধিকারও সংবিধানে সংরক্ষিত রয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ বলছেন-প্রতিবাদ জানানো বা দাবি আদায়ের নামে হরতাল, অবরোধ, ধর্মঘট বা কর্মবিরতির নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মসূচি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণপরিবহনকে জরুরি সেবার আওতায় রাখা হয়েছে। সেসব দেশে যখন তখন কর্মবিরতি বা ধর্মঘটের সুযোগ নেই।
সড়কপথে অব্যাহত দুর্ঘটনা রোধে সরকার প্রণয়ন করেছে পরিবহন আইন। জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়েছে। আইনে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আর এই আইনটি মানতে রাজী নয় পরিবহন মালিকÑশ্রমিকেরা। তারা এর প্রতিবাদে ডেকেছে ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট। এই ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে সড়ক-মহাসড়কে চলেছে নজিরবিহীন অরাজকতা। শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এমন কোন অপকর্ম নেই যে তারা করেনি। তারা প্রাইভেট কারের যাত্রী, চালক, শিক্ষার্থীদের অপদস্ত করেছে, তাদের গায়ে ছিটিয়ে দিয়েছে পোড়া মবিল। তারচেয়ে ভয়ংকর হলো, মুমূর্ষ শিশু বহনকারী এম্বুলেন্স আটকিয়ে রেখেছে। এতে মারা গেছে শিশুটি এম্বুলেন্সেই। আরেকটি অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে কোন যানবাহনই যেতে চায়নি। শেষে সেই শিশুকে রিক্সায় করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেও দুর্বৃত্তরা আটকিয়ে দেয় রিক্সা। অবশেষে এই শিশুটিও মারা যায়। এই দুটি ঘটনা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সংঘটিত হয়। এর বাইরে অন্যত্র ঘটেছে নানা ধরনের বর্বরতা। রোগী বহনকারী এম্বুলেন্স কিংবা রোগী বহনকারী অন্য কোন যানবাহন আটকিয়ে রোগীকে জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করার ঘটনাকে রীতিমতো হত্যাকান্ড বলেই অভিহিত করেছেন অনেকে। আর এজন্য দায়ী করা হয়েছে ধর্মঘটকারীদের। তাই ‘ধর্মঘট’ আহবানকারীদের বিরুদ্ধে রীতিমতো হত্যা মামলা দায়ের করা উচিত বরে মনে করছেন বিশেষজ্ঞমহল।
বাস্তবতা হলো, পরিবহন মালিকÑশ্রমিকেরা সভ্য সমাজের কোন আইন-কানুন মানবেনা মানতে রাজী নয়। তারা ইচ্ছামতো সড়কে অরাজকতা করবে, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে কেড়ে নেবে তাজা প্রাণ; অথচ এর জন্য তাদেরকে দায়ী করা যাবে না। তাদের এই আইন না মানার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ যাত্রী সাধারণকে। পরিবহণ ঘর্মঘট বা হরতাল বা অন্য কোন কর্মসূচিতেও, এমন কি যুদ্ধক্ষেত্রেও রোগী বহনকারী এম্বুলেন্স চলাচলে বাধা থাকেনা। অথচ পরিবহন শ্রমিকেরা এম্বুলেন্সকে রোগী নিয়ে যেতে দেয়নি। তাই এই ধর্মঘটকারীদের ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধতো নেই-ই বরং এদেরকে বর্বর অন্ধকার যুগের প্রাণী বললেও অত্যুক্তি হবে না। তবে জেগে উঠছে মানুষ এদের বর্বরতার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন স্থানে এদের বিরুদ্ধে হয়েছে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি। সচেতন মানুষ জেগে উঠলে অচেতন-বর্বররা টিকতে পারবে না।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT