ধর্ম ও জীবন

সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ : ইসলাম কী বলে

মো. আব্দুল মালিক প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১১-২০১৮ ইং ০১:২৮:৫৬ | সংবাদটি ৫৬ বার পঠিত

সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করা মারাত্মক গুনাহ ও জঘন্য অপরাধ। সাধারণ আত্মসাতে সম্পদের মালিক যেহেতু নির্দিষ্ট থাকে, সেহেতু তিনি তা ক্ষমা করে দিলে আত্মসাৎকারী মাফ পেয়ে যায়। কিন্তু সরকারি সম্পদ আত্মসাতের ক্ষেত্রে এ সুযোগ নেই। কারণ এ সম্পদের মালিক দেশের সকল জনগণ। আর সকলের কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়া অকল্পনীয়। তাই এ অন্যায়ের গুনাহ অনেক বেশি।
হাদিসে আছে; হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে খায়বার যুদ্ধে গমন করি। যুদ্ধে আমরা গণিমত হিসেবে কোন স্বর্ণ বা রৌপ্য লাভ করিনি। তবে বিভিন্ন মালামাল, খাদ্যদ্রব্য ও কাপড় লাভ করেছি। এরপর আমরা এক উপত্যকায় চলে যাই। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর একটি গোলাম ছিল। গোলামটি তাঁকে জুযাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি উপঢৌকন হিসেবে দিয়েছিল। উপত্যকায় পৌঁছে আমরা যখন কাফেলা থেকে অবতরণ করলাম, তখন সেই গোলামটি উ’্রবহরে অবস্থান করছিল। এমন সময় কোথা থেকে নিক্ষিপ্ত একটি তীর তার শরীরে বিদ্ধ হয় এবং তাতে তার মৃত্যু ঘটে। আমরা বলাবলি করতে লাগলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! লোকটির কী সৌভাগ্য! সে শাহাদাতের মর্যাদা পেয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, কখনো নয়। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, নিশ্চয় সেই লম্বা চাদরটি আগুন হয়ে তার দেহ দগ্ধ করছে, যেটি সে খায়বার দিবসে গণিমত বণ্টনের পূর্বে গোপনে তুলে নিয়েছিল।
বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবিগণ এ কথায় ভীষণ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং যার কাছে একটি বা দু’টি জুতার ফিতা ছিল তাও এনে জমা দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, একটি জুতার ফিতা আগুনের অংশ, দু’টি জুতার ফিতা-এগুলোও আগুনের অংশ। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, মুনযিরী)।
হযরত যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে জনৈক ব্যক্তি কোন দ্রব্য আত্মসাৎ করে। পরে সে মারা গেলে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে তার জানাযা পড়াননি। বরং বললেন, তোমাদের এ সঙ্গী আল্লাহর পথের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তার জিনিসপত্র তল্লাসী করে তাতে একটি রেশমি বস্ত্র পেলাম, যার মূল্য হয়তো দুই দিরহাম হবে। (মুয়াত্তা, আবু দাউদ, নাসাঈ, মুনযিরী, ইবনে মাজা)।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, আমাকে হযরত উমর (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, খায়বার যুদ্ধের দিন মহানবী (সা.) এর সাহাবিগণের একটি দল রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সম্মুখের দিকে এগিয়ে গেল। তারপর তাঁরা ফিরে এসে বললেন, অমুক শহীদ হয়েছেন, অমুক শহীদ হয়েছেন। অবশেষে তাঁরা এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, অমুক শহীদ হয়েছেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) বলে উঠলেন, না, তা হতে পারে না। আমি তো তাকে দেখেছি সে একটি ‘চাদর’ আত্মসাতের দায়ে জাহান্নামের আগুনে জ¦লছে। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে ইবনুল খাত্তাব! যাও, মানুষের মধ্যে ঘোষণা করে শুনিয়ে দাও যে, মুমিনগণ ব্যতীত অন্যরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হযরত উমর বলেন, আমি বের হলাম এবং ঘোষণা দিলাম যে, সাবধান! মুমিনগণ ব্যতীত অন্যরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (তিরমিযী, মুসলিম, মুনযিরী)। এই হাদিস দ্বারা মনে হয় অন্যের সম্পদ আত্মসাৎকারী মুমিনই নয়।
আজকাল অনেকেই যেখানে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, ঘুষ, চাঁদাবাজির সুযোগ আছে সেখানেই চাকরি খোঁজেন। অনেক মা বাবা মেয়ের বিয়ের সময় যেসব পাত্রের অতিরিক্ত আয় রোজগারের সুযোগ আছে, তাদেরকে পছন্দ করেন। অথচ ইসলামে শিরকের পরে সবচেয়ে কঠিন গুনাহের কাজ হচ্ছে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা কোরআন শরীফের বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন-‘শিরককারীকে ক্ষমা করবেন না’ আর অন্যের হক এর ব্যাপারে বলেছেন, ‘যার হক সে মাফ না করে দিলে আমি তা মাফ করতে পারি না’। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যা মাফ করতে পারেন না তা যে কত বড় গুনাহের কাজ সহজেই অনুমেয়। অথচ অনেকেই উপরোক্ত উপায়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে শেষ জীবনে মক্কা-মদিনায় গিয়ে বার বার হজ্জ-ওমরা করেন, পীর আউলিয়ার মাজারে যান, বেশি বেশি দান খয়রাত করেন, তাওবা ইস্তেগফার পড়েন এই আশায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে যে পাপ করেছেন তাহা থেকে মাফ পাওয়ার জন্য। আসলে কী এ পদ্ধতিতে মাফ পাওয়া যায় বা যাবে? কুরআন ও হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী পাওয়া যাবে না। একমাত্র পথ যার মাল বা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে যদি মাফ করে দেয় তখনই মাফ পাওয়া যাবে। আর এই মাফ নিতে হবে দুনিয়া থেকে। কারণ শেষ বিচারের দিন সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সে দিন পিতা-মাতা সন্তানকে, সন্তান পিতা-মাতাকে, ভাই বোনকে, বোন ভাইকে, স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে চিনবে না। কেউ কাউকে ক্ষমা করবে না। অথচ আমরা এ ব্যাপারে খুবই উদাসীন।

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • শতবর্ষের স্থাপত্য সিকন্দরপুর জামে মসজিদ
  • তাফসিরুল কুরআন
  •  আত্মার খাদ্য
  • মানব জীবনে আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা
  • সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ : ইসলাম কী বলে
  • মৃত্যুর আগে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করি
  •   তাফসীর
  • ইসলামে বিনোদনের গুরুত্ব
  • কুরআনে হাফিজের মর্যাদা
  • মদীনা রাষ্ট্রের যাবতীয় কর্মকা-ের কেন্দ্র ছিল মসজিদ
  • তাফসিরুল কুরআন
  • এতিম শিশু
  • বার্মিংহামে আল কুরআনের হাতে লেখা প্রাচীন কপি
  • রাসুলের সমগ্র জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয়
  • মৌল কর্তব্য আল-কুরআনের বিধান
  • তাফসিরুল কুরআন
  • ওলীগণের লাশ কবরে অক্ষত থাকে
  • ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার
  • কওমি সনদের স্বীকৃতিতে কী লাভ
  • ইসলামে সংখ্যালঘুর অধিকার
  • Developed by: Sparkle IT