পাঁচ মিশালী

ভ্রমণ পিপাসী মন

মোহাম্মদ আব্দুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১১-২০১৮ ইং ০০:১৮:৫৮ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

ভ্রমণ আনন্দ দেয়, শিক্ষা দেয়, দেয় জ্ঞান। ভ্রমণে প্রকৃতিজ গুরুর দীক্ষা পাওয়া যায় সুবোধ হয়ে নিসর্গের প্রেমে মনোযোগী হলে। ভ্রমণে বের হয়ে বলুন, আমাকে শিক্ষা দাও, জ্ঞান দাও, দীক্ষা দাও হে বিশাল জ্ঞান ভান্ডার অধিকারী। আমি প্রচন্ড ক্ষুধার্ত, আমি তৃষ্ণায় কাতর, আমাকে দাও তোমার ভান্ডারের সৌন্দর্য সুখ। প্রকৃত সত্য হলো, ভ্রমণ থেকে প্রাণ ভরে কিছু পেতে হলে ক্ষুধিত মন ও তৃষিত দৃষ্টি নিয়ে ঘর ছাড়তে হয়। ভ্রমণ পিয়াসু একজন মানুষ শিখেই ঘরে ফিরে।
ভ্রমণ কেবল দূরে গমন নয়; বরং কাছের সবুজ ঘাসের মাঠ, পুকুর পাড়, নদী কূল, রাস্তার পাশে গাছ, খাল, বিল, হাওড়, জলেভাসা শাপলা দেখার জন্যেও ঘর থেকে বের হওয়া এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে মজা পাওয়া যায়। এইতো আমাদের বাংলাদেশের টাঙ্গুয়ার হাওড় আমাদেরকে খুব টানে। আমরা দূরের ও কাছের বিভিন্ন জেলার মানুষ ছুটি টাঙ্গুয়ার হাওড়ের মায়ায়। সিলেটে শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে টাঙ্গুয়ার হাওড় পুরোটাই পানির জগৎ এবং জলজ উদ্ভিদের সাম্রাজ্য। এমন জলের ভান্ডার মানে শতো শতো প্রজাতির মাছের বাড়ি। কিভাবে যাওয়া যায় তা আপনি জেনে যাবেন এই লেখা পড়েই। গাড়ি দাঁড়ানো সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অভিমুখী পয়েন্ট সুবিদ বাজারে। একে একে প্রায় সবাই গাড়িতে উঠে বসেছি। দুই চারজন একটু দূর থেকে আসতে গিয়ে দেরী হয়েছে। এখানে বলে রাখছি এই ভ্রমণে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলেও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রধান আয়োজক আমার বড়ো ভাতিজি হ্যাপী ও জামাই ইত্তিহাদ এয়ারলাইন্স ম্যানেজার আব্দুল্লাহ জাহেদ চাচার কাছেই সবার জিজ্ঞাসা ছিলো নানান বিষয়ে।
সকাল আটটায় গাড়ি ছাড়ার কথা থাকলেও প্রায় ২৮ সদস্যের টিম নিয়ে গাড়ি ছাড়ে নির্দিষ্ট সময়ের একঘন্টা পরে সকাল নয়টায় সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে। আমি কাগজ-কলম পকেটে নিয়ে বাসা থেকে বের হই। প্রত্যেকেই সাথে করে নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী কাপড়ের ব্যাগ নিয়েছি। ওষুধ, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট ইত্যাদি একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিজেকে ভাবতে হয়। খাবার, পানি, হালকা নাস্তা ইত্যাদি সম্মিলিত আয়োজনে হয়েছে। সাথে করে মিনারেল ওয়াটার নেয়া হয়েছে বায়ান্ন লিটার ভ্রমণ পথে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মিটাতে। গাড়ি চলেছে সুনামগঞ্জের পথে। আমাদের গাড়ি ছত্রিশ আসনের। সুনামগঞ্জ থেকে আমাদের আরো দশ বারোজন আত্মীয় আমাদের সাথে গাড়িতে উঠবেন।
আগে থেকেই বলে দেয়া হয়েছে তারা যেনো আব্দুজ জহুর সেতুর পূর্ব পাড়ে থাকে। সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ যেতে যেতে রাস্তার দুই পাশে গাছের সারি এবং বিল ও হাওড় দেখে ভ্রমণের আগ্রহ বাড়ে। আমরা একঘন্টা চল্লিশ মিনিটে সুনামগঞ্জ পৌঁছি এবং আব্দুজ জহুর সেতুর কাছে আমাদের সুনামগঞ্জের আত্মীয় যারা অপেক্ষায় ছিলেন তাদেরকে গাড়িতে উঠাই। এখন আর গাড়িতে জায়গা হচ্ছেনা। ছত্রিশ সিটের গাড়িতে শিশু বৃদ্ধ মিলিয়ে মোট বিয়াল্লিশ জন। তবে আনন্দের কমতি নেই। এবার গাড়ি সেতুর উপর দিয়ে সুরমা নদী পাড় হয়ে ছুটে চলেছে তাহিরপুর উপজেলার অভিমুখে। সবাই কথা বলছে, হাসছে, মজা করছে।
সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর যাওয়ার পথে মাঝে আমরা পাই বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদর। এখনও অবহেলিত এই এলাকাটি। উন্নয়নের ছোঁয়া তেমন লাগেনি। গাড়ি ছুটে চলেছে তাহিরপুরের দিকে। রাস্তা সরু তাই ড্রাইভার সাহেব একটু সতর্ক হয়ে কিছুটা ধীর গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তাহিরপুরের কাছাকাছি যেতেই সড়কের পাশে বিশাল হাওড়। আমার বড়োভাবী তাহিরপুরের মানুষ। সাথেই আছেন। তাই বিভিন্ন হাওড় ও নদীর নাম জেনে নিচ্ছি তাঁকে জিজ্ঞেস করে। এ হচ্ছে শনির হাওড়। আমরা শনির হাওড় দেখে দেখে তাহিরপুর পৌঁছি দুপুর দুইটার আগেই। সবাই গাড়ি থেকে নেমে খাবারের প্যাকেট, পানি, নিজ নিজ ব্যাগ সমেত প্রায় পনেরো মিনিট হেঁটে যাই তাহিরপুর থানা ঘাটে, যেখানে বৌলাই নদীতে আমাদের ভাড়া করা বড়ো নৌকা প্রস্তুত আছে। ওই ঘাটে ছোট, মাঝারী, বড়ো নৌকা সবসময় মিলে। যার যার প্রয়োজন ও সুবিধা মতো পছন্দের নৌকা নিতে পারা যায়। এ মৌসুমে পর্যটকরা প্রতিদিন বেড়াতে আসেন সারাদেশ থেকে। তাই এখানকার অনেক মানুষের আয়ের পথ প্রসারিত হয়। যেহেতু হাওড়ে যাবো, তাই তাহিরপুর বাজার থেকে পানিতে ভাসতে পারা ও সাঁতার কাটার জন্যে বেশ কয়েকটি একধরনের ‘সাঁতার জ্যাকেট’ ভাড়া নিই। আমাদের নৌকা যথাসময়ে ঘাট ছাড়ে এবং আমরা নদী পথে অল্প পথ এগিয়ে একটি হাওড়ে প্রবেশ করি।
বিশাল হাওড়। মনে হতে পারে এটি বুঝি টাঙ্গুয়ার হাওড়। কিন্তু না। এ হচ্ছে মাটিয়ান হাওড়। আমরা সকলেই বিশাল নৌকার ছাদের উপর উঠে বসি। নৌকায় রেলিং দেয়া আছে, রেলিং এর সাথে বেঞ্চ যুক্ত আছে। এছাড়া পর্যাপ্ত চেয়ার আছে। রোদ থেকে রক্ষা পেতে মাথার উপর আছে রঙিন সামিয়ানা। এবার খাওয়ার পালা। আগে থেকেই বিরানি আনা ছিলো কাগজের প্যাকেটে। আমরা সচেতন আছি যাতে পলিথিন বা প্লাস্টিক জাতীয় কিছু পানিতে না ফেলি। আমি ছোট ছোট নাতি নাতিন ফারদিন, নাজিফ, ইহান, জান্নাত, জাবির সহ সবাইকে বুঝিয়ে দিই পলিথিন ও প্লাস্টিক ফেললে হাওড়ের পরিবেশ নষ্ট হবে এবং তারা বড়ো হলে আর এমন সুন্দর দেখতে পাবেনা। ছোটরা ব্যাপারটা বুঝেছে। আমাদের ভ্রমণ সঙ্গী তরুণদের মধ্যে ছিলো সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ নেতা তিয়াস, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র এবং সুনামগঞ্জ বিএনসিসির তপু, তরুণ ফটোগ্রাফার সুমন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ছাত্র স্কাউট মাহদী, সুনামগঞ্জের নবীন গায়ক দীপু, লিডিং ইউনিভার্সিটি ছাত্রী তাহিয়াত, আনন্দ নিকেতনের মেধাবী ছাত্র ফারদিন সহ অনেকেই। তারা সবাইকে বিরানি প্যাকেট, ওয়ান টাইম প্লেট, ওয়ান টাইম গ্লাস ও পানি সরবরাহ করে। এখানে বলা দরকার ওয়ান টাইম প্লেট ও গ্লাস এবং পানির কন্টেইনার আমরা ফেলে দেইনি। বরং ধুয়ে বারবার ব্যবহার করেছি ফিরে আসা পর্যন্ত। আর খালি হওয়া পানির বোতলে পরের দিন ফিরতি পথে ট্যাকেরঘাট থেকে নলকূপের পানি ভরে নিয়েছি। আমাদের পারিবারিক আনন্দ ভ্রমণ সঙ্গী আরো আছেন লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক নজরুল ইসলাম, ব্যাংকার ভাগ্নি সিম্মী, সাবেক ব্যাংকার সুনামগঞ্জের ভাগ্নি জেনিস, সুনামগঞ্জের তরুণ ব্যবসায়ী সোয়েব, সিলেটের তরুণ ব্যবসায়ী তামিম, শাবি প্রথম ছাত্র সংসদের ভিপি টিটু, রাহি, রিগান, ঢাকার এক ভাতিজা রিফাত সহ একঝাঁক তারুণ্য। এক কথায় প্রায় সকলেই পরিবেশ রক্ষায় থেকেছি সচেতন।
একসময় আমাদের নৌকা এসে পড়েছে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে। দুইপাশে কড়ছ গাছ ও হিজল গাছের সারি মাঝে আমাদের নৌকাখানি। এখানে শুরু হয় সবার ছবি তুলায় ব্যস্ততা। হবেনা কেন! আমাদের সঙ্গীদের প্রায় সকলেই এক বা একাধিকবার কক্সবাজারে সমুদ্রের বিশালতা দেখেছে। তবে আমাদের সিলেট বিভাগের এমন বিশাল জলরাশি অনেকেই আগে কখনও দেখেনি। হ্যাঁ আমাদের মতো পর্যটকদের এখানে মাটিয়ান ও টাঙ্গুয়াকে আলাদাভাবে চিনা সম্ভব নয় যদি মাঝির সহযোগিতা না নেয়া হয়। এ যেন সমুদ্রসৈকত বিহীন সমুদ্রসম জলাধার। এভাবে আমরা দেড়ঘন্টা হাওড়ে মায়ায় ভাসতে ভাসতে এসেছি একটি 'ওয়াচ টাওয়ার' এর কাছে। সেখানে আরো অনেক ছোট বড়ো নৌকা ভিরেছে। আমরা একে একে বিয়াল্লিশ জন নৌকা থেকে নেমে প্রায় পঞ্চাশ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠি। এ এক বিরল দৃশ্যরূপ। চারপাশে হিজল, কড়ছ ও আরো নাম না জানা গাছের সবুজবাগ যেন ভাসছে, দুলছে, হাসছে জলের উপর। আহ্ আমি যদি শিল্পী হতাম!
মনেমনে ভাবলাম, আমাদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন কিংবা শিল্পী কামরুল হাসান যদি এখন থাকতেন তবে নিশ্চয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মটি করে ফেলতেন তাঁদের রঙ ও তুলি দিয়ে। কিছু ছবি প্রত্যেকেই উঠেছি যার যার স্মার্ট ফোন ক্যামেরায়। আর আমাদের ফটোগ্রাফার সুমনতো আছেই। সে গ্রুপ ছবিও তুলছে, আবার যার যার চাহিদামতো ক্যামেরা ক্লিক করে চলেছে। টাওয়ার থেকে নামার সময় ওখানকার একটি বারো - চৌদ্দ বছরের ছেলে বললো, স্যার গান শুনবেন। খালি গায়ে শুধু একটি প্যান্ট পরনে। বুঝতে অসুবিধা হয়নি সে এখানে পর্যটকদেরকে গান শুনিয়ে কিছু পয়সা পায়। আমরা তার কন্ঠে একটি প্রেমের গান শুনলাম এবং তাকে পাঁচ টাকা, দশ টাকা করে দিয়ে নামলাম। এখানে বলে রাখছি এতো উঁচু একটি টাওয়ার রেলিং মাত্র দেড়ফুট তোলা যা কোনোমতেই নিরাপদ নয়। আমি কর্তৃপক্ষীয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করছি, কোনো অঘটন ঘটার আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
টাওয়ার থেকে নেমে কাছাকাছি একটি জায়গায় আরো অনেকের মতো আমাদের নৌকাও একটি হিজল গাছের সাথে বাঁধা হয়। এখানে পানি স্বচ্ছ এবং তিন থেকে চারফুট। যেহেতু সুইমিং জ্যাকেট সাথে আছে, তাই যারা সাঁতার জানেনা তারা জ্যাকেট পড়ে নিলো এবং সবাই মিলে প্রায় আধাঘন্টা পানিতে সাঁতরে গোসল করি। আমাদের সবার মুরুব্বি বড়োভাবি ও রতœা আপা নৌকাতেই বসে ছিলেন। জোঁকের ভয় ছিলো। তবে কোনো জোঁক কাউকে ধরেনি। মজা কেমন হয়েছে তা লিখে বর্ণনা করতে পারা যাবেনা । এক কথায় অপূর্ব এক আনন্দময় সাঁতার ঘন্টা। এবার গোসল শেষে চা হলে মন্দ হয়না। আমাদের বড়ো নৌকায় চায়ের আয়োজন ছিলো। এবার পড়ন্ত বিকেল বেলা আমরা রওয়ানা দিই কয়লা সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল ট্যাকেরঘাট অভিমুখে। সন্ধ্যার আগেই নৌকা ট্যাকেরঘাটে শহিদ স্মৃতিসৌধের কাছে ভিরে। এখানে দেখতে পাই আরো ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশটি ছোটো বড়ো নৌকা। প্রতিটি নৌকায় পর্যটক। অনেকেই এসেছেন রাজধানী ঢাকা থেকে। একটি নৌকায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুঝা গেলো। আমরা নৌকা থেকে নেমে ছুটি লেকের উদ্দেশ্যে। চমৎকার একটি লেক। কিন্তু আমাদের দেরি হয়েছে, সূর্য প্রায় অস্তপাঠে তাই লেকের জলের সৌন্দর্য সঠিক উপভোগ করতে পারিনি। মাগরিবের আজান শুনতে শুনতে ফিরছি। একটি নলকূপ পাই। ওজু সেরে নিয়ে স্মৃতিসৌধের সিঁড়িতে বসে কেউ কেউ নামাজ আদায় করি। এখানে যে হ্রদ বা লেকটি আছে তাকে কেউ কেউ নীলাদ্রি ডাকে। তবে প্রকৃত সত্য হলো, লেকের পাড়ে নোটিশ বোর্ডে লেখা আছে, ‘শহিদ সিরাজ লেক'। আমি পর্যটকদের অনুরোধ করছি, একজন শহিদের নামের বিকল্প নামকরণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য।
টেকেরঘাটে এখনও থাকার মতো রেস্ট হাউস হয়নি। তাই যারা ভোরের হাওড় ও পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্ত পাহাড়ের সকালি শোভা দেখতে চায় তারা নৌকায় রাত কাটায়। আবার পূর্ণিমা রাত উপভোগ করতে রাতে নৌকায় থাকার আগ্রহ সবারই হয়। আমরা পূর্ণিমা পাইনি এবং সাথে ছোট ছোট বাচ্চা যার সবচেয়ে ছোটটি হচ্ছে দুই বছর বয়সী ইনায়া। তাই আগে থেকেই ছয় রুমের একটি বাড়িতে রাত কাটানো হবে এমন ব্যবস্থা করে রেখেছিলো ভাগ্নি জামাই সোয়েব। তাকে ও বাড়ির মালিক তার বন্ধুকে ধন্যবাদ। রাতের খাবার ওই বাড়িতে মাটির চুলায় রান্নাকরে করা হয়েছে। তারপর রাত্রি যাপন। ভোরের টেকেরঘাট দেখার সৌভাগ্য হলোনা। ঘুম ভেঙে সবাই দেখলাম বৃষ্টি হচ্ছে এবং সকাল দশটা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি। সকালে আবার মাটির চুলায় রান্নাকরা খিচুরি খেয়ে আমরা সবাই নৌকায় উঠি। (এখানে আমরা বিশেষ সম্পর্কের কারণে যে বাড়িতে থাকা ও খাওয়া উপভোগ করেছি তা সকল পর্যটকদের জন্য সহজলভ্য নয়, মনে রাখতে হবে।) যে কথাটি বলা হয়নি, আমাদের বড়ো নৌকায় তিনটি টয়লেট ছিলো এবং তা পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ। দূরের পর্যটকদের ভয়ের কিছু নেই, সব প্রস্তুতি নিয়ে আসলে নৌকায় রান্না করে খেতে পারবেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT