সম্পাদকীয় যে নিজে সতর্কতা অবলম্বন করে না, দেহরক্ষী তাকে বাঁচাতে পারে না। -হযরত আলী (রা.)

আর্সেনিকের আগ্রাসন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-১১-২০১৮ ইং ০১:২১:৩৫ | সংবাদটি ৭১ বার পঠিত

আর্সেনিকের আগ্রাসন বাড়ছে। আর্সেনিক আক্রান্ত পানি পান করছে, এমন মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে দিন দিন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুই কোটি মানুষ পান করছে আর্সেনিক আক্রান্ত পানি। বর্তমানে ৪২টি জেলার প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ রয়েছে আর্সেনিক ঝুঁকিতে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরে আর্সেনিক দূষণের কারণে প্রতি ১৮ জনে একজনের মৃত্যু ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হওয়ার দুই যুগ পরও এই সমস্যা প্রতিকারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এখনও। তাছাড়া, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার প্রাক্কালে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো আর্সেনিক দূষণমুক্ত পানির সংস্থান করার। কিন্তু একটানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ আর্সেনিক দূষণযুক্ত পানি পান করছে। খবরটি প্রকাশিত হয় গত শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে।
নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের দূষণ ধরা পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের বলা যায় আশিভাগ অঞ্চলেই মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কমপক্ষে ৬০টি জেলায়ই রয়েছে আর্সেনিকের দূষণ। আর্সেনিক জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ থেকে প্রাণঘাতি রোগের জন্মও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করলে তা বের করা খুবই কষ্টসাধ্য। আর আর্সেনিকের কারণে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে, তা কোনভাবেই আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। ফলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত বা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে। বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হয় ত্বক। সর্বোপরি আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করলে মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার পানিতে একশ’ ৫০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক পান করার ফলে ক্রণিক ডিজিজ বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস প্রভৃতি। এসব রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে ৬৪ শতাংশ। তাছাড়া, আর্সেনিক অসুস্থতায় প্রতি বছর প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ মারা যায়। ২০০৩ সালে এক জরিপে দেশের দু’শ ৭১টি উপজেলার ৫০ লাখ নলকূপ পরীক্ষা করে ২৯ ভাগ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায়। কিন্তু এর পরে আর কোন জরিপ করা হয়নি।
বিশুদ্ধ পানির অন্যতম উৎস হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি। কিন্তু এই পানি এখন নিরাপদ নয়। আর্সেনিকের ‘বিষাক্ত ছোবলে’ এখন ‘বিষাক্ত’ ভূগর্ভস্থ পানি। কিন্তু এই সমস্যা নিরসনে দীর্ঘদিনেও কোন উপায় বের করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য এর মধ্যে সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য ব্যয় হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। কিন্তু দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ জরিপই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি; আর পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করার বিষয়টি তো অনেক দূরে। তবে এই পর্যায়ে একটি সুসংবাদ হচ্ছে, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে আর্সেনিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে এক হাজার নয়শ’ ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সরকারের এই পরিকল্পনাও যাতে সফল হয়, বিপুল পরিমাণ অর্থ যাতে যথাযতভাবে ব্যয় হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT