স্বাস্থ্য কুশল

কম বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি

ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-১১-২০১৮ ইং ০১:২২:৫২ | সংবাদটি ১৯২ বার পঠিত

শুধু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণেই নয়, বংশগত কারণেও শরীরে কোলেস্টেরলের আধিক্য হতে পারে, এ অবস্থাকে ফ্যামিলিয়াল বা পারিবারিক হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া বলে। বাবা কিংবা মা থেকে এ জিন পেলে তাকে হেটারোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া এবং বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকে এ জিন পেলে তাকে হোমোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া বলে। এদের অনেকের ছোট বেলায় হৃদরোগ ও পরে হার্ট অ্যাটাক হয়
প্রতি বছরের মতো গত ২৪ সেপ্টেম্বর পালিত হয়েছে ফ্যামিলিয়াল হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া সচেতনতা দিবস। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- একটি মিনিট, একটি পরিবার। অর্থাৎ কম বয়সে হদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে একটি পরিবারকে বাঁচাতে একটি মিনিট যথেষ্ট।
রোগটা আসলে কী
শুধু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণেই নয়, বংশগত কারণেও শরীরে কোলেস্টেরলের আধিক্য হতে পারে, এ অবস্থাকে ফ্যামিলিয়াল বা পারিবারিক হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া বলে। বাবা কিংবা মা থেকে এ জিন পেলে তাকে হেটারোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া এবং বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকে এ জিন পেলে তাকে হোমোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া বলে। এদের অনেকের ছোট বেলায় হৃদরোগ ও পরে হার্ট অ্যাটাক হয়।
রোগের তীব্রতা
এসব ক্ষেত্রে কোলেস্টেরলের উচ্চমাত্রা পারিবারিক হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা এলডিএল রিসেপ্টর জিনের এক ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে রোগের সৃষ্টি করে। অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগটির হেটারোজাইগাস ফর্মগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি বা সম্ভাব্যতা প্রতি ৫০০ জনের মধ্যে একজন। তবে হোমোজাইগাস গোত্রগুলোর সম্ভাব্যতা অনেক কম। দশ লাখে একজন। রোগের জিন বহনকারী নিকটতম আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সম্পর্ক হলে হোমোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া দেখা দেয়।
অসুখটি সাধারণত একটি এলডিএল রিসেপ্টর জিন প্রতিটি পিতা-মাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়। এ ধরনের কোলেস্টেরলের আধিক্যের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ খাবার বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। সে ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের পাশাপাশি ওষুধের প্রয়োজনে শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
শরীরে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের স্বাভাবিক মাত্রা টোটাল কোলেস্টেরল বলতে সাধারণত এইচডিএল, এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের ০.২ গুণের সমষ্টিকে বোঝায় অর্থাৎ টোটাল কোলেস্টেরল=এইচডিএল+ এলডিএল+০.২ ট্রাইগ্লিসারাইড।
টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০ মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ৬.২ মিলি মোল/লিটারের নিচে হওয়া ভালো, তবে ২৪০ মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ৬.২ মিলিমোল/লিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা ৬০মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ১.৬ মিলিমোল/ লিটারের চেয়ে বেশি হওয়া আবশ্যক আর এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ১০০ মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ২.৬ মিলিমোল লিটারের চেয়ে কম হতে হবে। আদর্শ ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ১৫০ মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ১.৭ মিলিমোল/লিটারের নিচে হওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • মলদ্বারের রোগে পেটের সমস্যা
  • ব্যথার ওষুধ খাবেন সাবধানে
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলদেহী প্রসঙ্গ
  • স্বাস্থ্য রক্ষায় খতনা
  • আপনিই সুস্থ রাখতে পারেন আপনার কিডনি
  • এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
  • মুখের আলসার ও টুথপেস্টের রসায়ন
  • গলার স্বর বসে গেলে
  • মেছতার আধুনিক চিকিৎসা ডাঃ দিদারুল আহসান
  • স্ক্রিনে দীর্ঘসময় শিশুর মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে
  • প্রকৃতির মহৌষধ মধু
  • তাফসিরুল কুরআন
  • প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ
  • শ্বাসকষ্ট কোনো রোগ নয়!
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • শীতে বয়স্কদের সমস্যা
  • শিশু কিশোরদের মানসিক সমস্যা
  • এইচআইভি সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়
  • গর্ভবতীর পাইলস চিকিৎসা
  • কান পাকা : সচেতনতা জরুরি অধ্যাপক
  • Developed by: Sparkle IT