স্বাস্থ্য কুশল

কম বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি

ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-১১-২০১৮ ইং ০১:২২:৫২ | সংবাদটি ৫১ বার পঠিত

শুধু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণেই নয়, বংশগত কারণেও শরীরে কোলেস্টেরলের আধিক্য হতে পারে, এ অবস্থাকে ফ্যামিলিয়াল বা পারিবারিক হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া বলে। বাবা কিংবা মা থেকে এ জিন পেলে তাকে হেটারোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া এবং বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকে এ জিন পেলে তাকে হোমোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া বলে। এদের অনেকের ছোট বেলায় হৃদরোগ ও পরে হার্ট অ্যাটাক হয়
প্রতি বছরের মতো গত ২৪ সেপ্টেম্বর পালিত হয়েছে ফ্যামিলিয়াল হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া সচেতনতা দিবস। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- একটি মিনিট, একটি পরিবার। অর্থাৎ কম বয়সে হদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে একটি পরিবারকে বাঁচাতে একটি মিনিট যথেষ্ট।
রোগটা আসলে কী
শুধু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণেই নয়, বংশগত কারণেও শরীরে কোলেস্টেরলের আধিক্য হতে পারে, এ অবস্থাকে ফ্যামিলিয়াল বা পারিবারিক হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া বলে। বাবা কিংবা মা থেকে এ জিন পেলে তাকে হেটারোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া এবং বাবা-মা উভয়ের কাছ থেকে এ জিন পেলে তাকে হোমোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া বলে। এদের অনেকের ছোট বেলায় হৃদরোগ ও পরে হার্ট অ্যাটাক হয়।
রোগের তীব্রতা
এসব ক্ষেত্রে কোলেস্টেরলের উচ্চমাত্রা পারিবারিক হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা এলডিএল রিসেপ্টর জিনের এক ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে রোগের সৃষ্টি করে। অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগটির হেটারোজাইগাস ফর্মগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি বা সম্ভাব্যতা প্রতি ৫০০ জনের মধ্যে একজন। তবে হোমোজাইগাস গোত্রগুলোর সম্ভাব্যতা অনেক কম। দশ লাখে একজন। রোগের জিন বহনকারী নিকটতম আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সম্পর্ক হলে হোমোজাইগাস হাইপার কোলেস্টেরলেমিয়া দেখা দেয়।
অসুখটি সাধারণত একটি এলডিএল রিসেপ্টর জিন প্রতিটি পিতা-মাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়। এ ধরনের কোলেস্টেরলের আধিক্যের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ খাবার বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। সে ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের পাশাপাশি ওষুধের প্রয়োজনে শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
শরীরে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের স্বাভাবিক মাত্রা টোটাল কোলেস্টেরল বলতে সাধারণত এইচডিএল, এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের ০.২ গুণের সমষ্টিকে বোঝায় অর্থাৎ টোটাল কোলেস্টেরল=এইচডিএল+ এলডিএল+০.২ ট্রাইগ্লিসারাইড।
টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০ মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ৬.২ মিলি মোল/লিটারের নিচে হওয়া ভালো, তবে ২৪০ মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ৬.২ মিলিমোল/লিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা ৬০মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ১.৬ মিলিমোল/ লিটারের চেয়ে বেশি হওয়া আবশ্যক আর এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ১০০ মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ২.৬ মিলিমোল লিটারের চেয়ে কম হতে হবে। আদর্শ ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ১৫০ মিগ্রা/ডেসিলিটার বা ১.৭ মিলিমোল/লিটারের নিচে হওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • কম বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি
  • শিশুর কয়েকটি অসুখ ও পরামর্শ
  • হাড়ক্ষয় রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা
  • শীতে নাক কান গলার সমস্যা ও সমাধান
  •   নীরব ঘাতক রক্তচাপ
  • গর্ভাবস্থায় কী খাবেন
  •   মাতৃস্বাস্থ্য ও মাতৃমৃত্যু কিছু কথা
  • সচেতন হলেই প্রতিরোধ ৬০ শতাংশ কিডনী রোগ
  •   হৃদরোগীদের খাবার-দাবার
  • ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়
  • মুখে ঘা হলে করণীয়
  • পায়ের গোড়ালি ব্যথায় কী করবেন
  • নীরব রোগ হৃদরোগ
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে অর্শের চিকিৎসা
  • অনিদ্রার অন্যতম কারণ বিষন্নতা
  • রক্তশূন্যতায় করণীয়
  • চোখে যখন অ্যালার্জি
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
  • রোগ প্রতিরোধে লেবু
  •  স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন
  • Developed by: Sparkle IT