ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ফিরে দেখা ৭ নভেম্বর

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১১-২০১৮ ইং ০০:২৭:৩৫ | সংবাদটি ৫২ বার পঠিত

মোটামুটি দুই-আড়াই বছর প্রস্তুতি নিয়ে ১৯৭৫ সালের ৩-৫ নভেম্বরের দিকে তৎকালীন জাসদ এবং গোপন সৈনিক সংস্থা নামক সংগঠন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিপ্লব করার। তারা ৬ নভেম্বর সারাদিন প্রচার করেছিল, অফিসার মারতে হবে। কারণ অফিসাররা প্রথাগত শৃংখলা ও নিয়মকানুনে বিশ্বাস করে। ওই সময় নিজ গৃহবন্দি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম চিন্তাভাবনা করেছিলেন, বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে প্রথম কাজ হবে বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হওয়া। একই সময় জাসদ অনুভব করল, জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করতে হবে এবং তার ভাবমূর্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
৭ তারিখ রাত ১২টা ১ মিনিটেই বিপ্লব শুরু হয়েছিল। ৪০ বছর আগের ঘটনা। পাঠকের মনে অনেক প্রশ্ন আসবে। আজ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা পড়ে অথবা টেলিভিশনে টকশো দেখে কিছু উত্তর পাবেন। তারপরও পাঠকের সুবিধার্থে একটি সূত্র দিই : আমার লেখা ‘মিশ্র কথন’ বইয়ের ১৪৬ থেকে ১৯৩ পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
১০ জানুয়ারি ১৯৭২-এর পরপরই বঙ্গবন্ধু একটি কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হলেন। নতুন দেশের নতুন সরকার কি শুধু আওয়ামী লীগ দলীয় হবে, নাকি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে হবে? বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তের দ্বিমত পোষণকারীরা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নামে একটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করলেন। এ নামের দলটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে এখনও টিকে আছে। এক অংশের নেতৃত্বে আছেন হাসানুল হক ইনু (বর্তমান তথ্যমন্ত্রী) এবং আরেক অংশের নেতৃত্বে আছেন ১৯৮৮-৯০ সালে এরশাদ সরকারের আমলে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী আসম আব্দুর রব।
স্বাধীনতার আগে থেকেই জনাব রব সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় আওয়ামী লীগের চার নীতির একটি ছিল ‘সমাজতন্ত্র’। জাসদ তাদের নীতিমালা ঘোষণা করল ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সমাজতন্ত্রই সঠিকভাবে বুঝতে পারত না; বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বোঝা তো আরও কঠিন ছিল! জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে পথ চলা শুরু করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর এমএ জলিল।
এবার বিক্ষুব্ধ সৈনিকদের প্রসঙ্গ। ১৯৭২-এর শেষাংশ এবং ১৯৭৩-এ জাসদ তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরে প্রচ- রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে লিপ্ত থাকে। অপরপক্ষে সরকারের পুলিশ ও জাতীয় রক্ষীবাহিনী ব্যস্ত থাকে জাসদ কর্মীদের আটক, গুম, আহত ও খুন করায়। এ প্রেক্ষাপটে জাসদ চিন্তা করল, সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বা কিছুসংখ্যক সৈন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে জাসদকে সহযোগিতা না করলে বঙ্গবন্ধু সরকারকে হঠানো যাবে না। সুতরাং সিদ্ধান্ত হল ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে বন্ধু খোঁজার।
১৯৭২-৭৪ সময়কালের কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তখন নতুন। কিছু সংখ্যক রাজনীতি সচেতন মুক্তিযোদ্ধা-সৈনিক ও অমুক্তিযোদ্ধা-সৈনিক দেশ পরিচালনার নিয়ম, বিদ্যমান পরিস্থিতি, বিশেষত র্দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি প্রশ্নে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিল। তারা সরকারের পরিবর্তন চায়। তারা সমাজতান্ত্রিক এবং মেহনতি মানুষের সরকার চায়। তারা অফিসারবিহীন সামরিক বাহিনী এবং শ্রেণীহীন সমাজ চায়। তারা নিজেদের গোপনে গোপনে সংগঠিত করল। নাম দিল গোপন সৈনিক সংস্থা। এক সময় তারা মনে করল, তাদের দ্বারা এককভাবে সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক বা বন্ধু প্রয়োজন। এভাবে পারস্পরিক আগ্রহেই অতি গোপনে জাসদ এবং গোপন সৈনিক সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি হল। ঘটনাচক্রে সে সময় জাসদের গণবাহিনীর নেতা ছিলেন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম। গণবাহিনী ও গোপন সৈনিক সংস্থার মধ্যে বন্ধুত্ব জোরদার হল। লক্ষ্য মাত্র একটি, সেটি হল সরকার হঠানো। পদ্ধতিও মাত্র একটি, আর তা হল রক্তাক্ত বিপ্লব সংঘটন।
১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর ঘটনার জন্য জাসদ প্রস্তুত ছিল না, সেনাবাহিনীও প্রস্তুত ছিল না। উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিকভাবে এবং সামরিক শৃংখলা ফেরাতে একটি সেনাবিপ্লব ঘটানোর সিদ্ধান্ত হয়, যার প্রধান নেতা মুক্তিযুদ্ধকালীন ২ নম্বর সেক্টরের প্রখ্যাত সেক্টর কমান্ডার, তৎকালীন (১৯৭৫) সেনাবাহিনী সদর দফতরে কর্মরত চিফ অফ দ্য জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম। তৎকালীন ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থানরত ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিল বীর বিক্রম খালেদ মোশাররফের সহায়তায় এগিয়ে এলেন। ৩ নভেম্বর, ১৫ আগস্টের বিপরীতে, প্রতিবিপ্লব (কাউন্টার ক্যু) ঘটে গেল। জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হল সেনানিবাসের বাসায়, পদচ্যুত করা হল সেনাপ্রধানের পদ থেকে। খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম নিজে প্রমোশন নিয়ে মেজর জেনারেল ও সেনাপ্রধান হলেন।
বঙ্গভবনে অবস্থানরত মোশতাক সরকার ও তার সহযোগী মেজরদের সঙ্গে দেনদরবারে ব্যস্ত থাকলেন তিনদিন। ৬ তারিখ সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আবু সায়েম। জাসদ ৩ তারিখের ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এছাড়া আরও চারটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। ১. খালেদ মোশাররফের ভাই ও মা ঢাকায় মিছিল করলেন এবং এমন কিছু কথাবার্তা বললেন যাতে সবাই ধরে নিল ৩ তারিখের সেনাবিপ্লব ভারতপন্থী আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় স্থাপনের জন্য করা হয়েছে। ২. ৩ তারিখেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি চার জাতীয় নেতা, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি নিহত হলেন। তাৎক্ষণিক চিন্তাটি ছিল- কে এই হত্যা করাল, কে সহযোগিতা করল হত্যাকা-ে, কে উপকার পেল এ হত্যাকা-ের পর? ৩. সর্বস্তরের সৈনিকরা বললেন, জিয়াউর রহমানকে পদচ্যুত করা, বন্দি করা অত্যন্ত অন্যায় কাজ এবং এর বিহিত চাই। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকলেন। ৪. ৩ নভেম্বরের ঘটনায় জাসদ ও গোপন সৈনিক সংস্থা নিজেরাই রাজনৈতিকভাবে অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
জাসদ দেখল, সরকার পরিবর্তন হচ্ছে ঠিকই; কিন্তু বুর্জোয়া পুঁজিবাদী শক্তির প্রতিনিধিরাই ক্ষমতায় থাকছে। অতএব আরও নতুন কিছু ঘটার আগে কিছু একটা করতেই হবে।
ক্যালেন্ডারে ৭ নভেম্বর শুরু হওয়া মাত্রই বিপ্লব শুরু হয়ে গেল অফিসারদের বাসায় বাসায়, অফিসে অফিসে হামলা হল। হত্যা করা হল অনেককেই। নারী (ডাক্তার) অফিসারদেরও হত্যা বা অপদস্থ করা হল। অফিসারদের অমান্য করার জন্য প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা দেয়া হল। অফিসারদের বেশিরভাগই যে যেদিকে পারলেন সেদিকে ছুটে নিরাপত্তা খুঁজলেন। ঢাকা সেনানিবাসের বিভিন্ন ইউনিট, রেজিমেন্ট বা ব্যাটালিয়ন- যেখানে যেখানে গোপন সৈনিক সংস্থা সক্রিয় ছিল, তারা রাতের অন্ধকারে সেনানিবাসের রাজপথে নেমে এল। হাজার হাজার অস্ত্রের গুলির আওয়াজ কত প্রকট ছিল, সেটা কোনো ভাষা দিয়ে বোঝাতে পারব না। আমি নিজে বেঙ্গল রেজিমেন্টের যে ব্যাটালিয়নের সঙ্গে ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিলাম রাত সাড়ে ১২টায় এবং নেতৃত্ব দিলাম সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। জাসদপন্থী সৈনিকদের সঙ্গে হাজার হাজার সাধারণ সৈনিকও বেরিয়ে পড়ল। অনেক সৈনিক জেনারেল জিয়ার বাসায় গিয়ে তাকে মুক্ত করলেন।
মুক্ত জিয়া পড়লেন এক বিপদে। জাসদপন্থী সৈনিকরা চাইলেন জিয়াকে নিয়ে যেতে এলিফ্যান্ট রোডে। সাধারণ সৈনিকরা চাইলেন জিয়াকে সেনানিবাসে নিরাপদ জায়গায় রাখতে। জিয়া এলিফ্যান্ট রোডে গেলেন না। জাসদের পরিকল্পনা বড় ধরনের হোঁচট খেল। সম্ভবত জাসদ চেয়েছিল জিয়াকে দিয়ে বিভিন্ন ঘোষণা দেয়াতে, যেমন- সরকারের কাঠামো সমাজতান্ত্রিক করা, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পুনরায় রুশ-ভারতমুখী করা, অফিসারবিহীন সৈনিকের কাঠামো গঠন ইত্যাদি।
সাধারণ সৈনিকরা ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুত্ব আছে, এমন গোপন সৈনিক সংস্থার সদস্যদের কাছ থেকে অনেক কথাই জানতে পেরেছিল। জাসদপন্থী এবং সাধারণ সৈনিকরা সেনানিবাসের বিভিন্ন জায়গায় মুখোমুখি হয়ে গেলেন। ওই রাতে বিদ্যুৎবিহীন সেনানিবাসে এক অকল্পনীয় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোর হতেই জিয়া আবার দায়িত্ব নিলেন সেনাবাহিনীর।
ইতিমধ্যে রাত ২টার পরপরই সাধারণ সৈনিকদের একটি বড় দল বঙ্গভবন ঘেরাও করল। বঙ্গভবনে অবস্থানকারী খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম ও তার জ্যেষ্ঠ সঙ্গীরা গোপনে বা ছদ্মবেশে বঙ্গভবন ত্যাগ করলেন জীবন বাঁচানোর জন্য। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা এবং লে. কর্নেল এটিএম হায়দার এক গাড়িতে দ্রুতগতিতে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা দশম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গিয়ে আশ্রয় নেন। এই তিনজন অফিসার এবং দশম বেঙ্গলের মধ্যে আন্তরিকতা ও হৃদ্যতার কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু ব্যাটালিয়নে সৈনিক মহলে রটে গিয়েছিল তারা ভারতপন্থী হওয়ায় জিয়াউর রহমানকে বন্দি করেছিলেন এবং এখন পরাজিত হয়ে পলায়নরত আছেন। কিছুক্ষণ পর তারা তিনজন নিহত হন। তারা তিনজনই অকুতোভয় ও প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন; তাই আজ অবধি তারা আমাদের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।
ঢাকা সেনানিবাসের সীমিত পরিসর থেকে সৈনিকরা ভোর ৩-৪টার মধ্যেই মহানগরীর রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে। সূর্যোদয়ের আগে-পরে হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক বাংলাদেশ ও জিয়াউর রহমানের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে সৈনিকদের গাড়িতে উঠে ঢাকার রাজপথ দখল করে রাখে। ওই রাতে বহু অফিসারকে হত্যা করা হয়, অফিস-আদালত তছনছ করা হয়, গোলাগুলির আঘাতে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসবের দায়-দায়িত্ব জাসদপন্থী সৈনিকদের ওপরই বর্তে গেল।
জাসদপন্থী, বামপন্থী বিপ্লব ব্যর্থ করেছে কারা? সাধারণ সৈনিক ও সাধারণ নাগরিকরা। সৈনিক ও নাগরিকের মধ্যে স্থাপিত বন্ধুত্ব ও সংহতি ছিল অভূতপূর্ব। তাই ৭ নভেম্বরের একটি নাম জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা পায়। জিয়াউর রহমান পুনরায় সেনাবাহিনীর শৃংখলা ও চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনেন। আমি নিজে ওই রাতে দ্বিতীয় বেঙ্গলের সৈনিকদের সঙ্গে ছিলাম এবং দিনটি সেনানিবাসে ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে কাটিয়েছি।
অপ্রিয় হলেও সত্য, সৈনিকদের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়েছিল তৎকালীন জাসদ। যার কুফল পরবর্তী পাঁচ বছর তো বটেই, ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত লক্ষ করা গেছে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে যে কয়টি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান বা বিমান বাহিনীর অভ্যুত্থান হয়, প্রতিটির সঙ্গে জাসদ কর্তৃক শিক্ষা দেয়া শ্রেণীবিহীন সমাজব্যবস্থা, অফিসারবিহীন সামরিক ব্যবস্থা এবং অফিসারদের হত্যা করার মন্ত্র কাজ করেছে। এরই কুফল ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মহানগরীর পিলখানা পর্যন্ত পড়েছে। ১৯৭৭-এ বগুড়ায় ব্যর্থ বিদ্রোহ এবং ঢাকায় ব্যর্থ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সৈনিকদের বিদ্রোহে অনেক অফিসারকে হত্যা করা হয়। প্রতিটি ব্যর্থ বিদ্রোহ দমন করার কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেই দায়িত্ব পালন করতে হয়, আদেশপ্রাপ্ত হয়ে। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এর জাসদপন্থী বিপ্লবীরা, তারা সৈনিক হোন বা সাধারণ নাগরিক হোন, যদি বিপ্লবে সফল হতেন, তাহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কী হতো, বাংলাদেশ সরকারের কী হতো এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার কী হতো? পাঠক নিজেই তা বিবেচনা করুন।
লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের কিছু ঘটনা
  • খাদিমনগরে বুনো পরিবেশে একটি দিন
  • ফিরে দেখা ৭ নভেম্বর
  • শ্রীরামসি গণহত্যা
  • প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের ধারক মৃৎশিল্প
  • বিপ্লবী লীলা নাগ ও সিলেটের কয়েকজন সম্পাদিকা
  • গ্রামের নাম আনোয়ারপুর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বিবি রহিমার মাজার
  • তিন সন্তানের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি
  • হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর ও দীঘি
  • শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বিলুপ্তির পথে সার্কাস
  • জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  • বাংলাদেশের লোকশিল্প
  • উৎলারপাড়ের পোড়া পাহাড় আর বুদ বুদ কূপ
  • চেলা নদী ও খাসিয়ামারা মোহনা
  • Developed by: Sparkle IT