শিশু মেলা

পিয়ানোটিস

জসীম আল ফাহিম প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১১-২০১৮ ইং ০০:১৫:০৭ | সংবাদটি ৪৪ বার পঠিত

হঠাৎ করেই পৃথিবীর মহাসাগরগুলোতে বিরাট এক সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই কিছু একটা অজানা কারণে পানির স্তর নিচে নামতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা মেপে দেখেছেন, গতকাল থেকে আজকের পানির স্তর প্রায় ছয় সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেছে। আগামীকাল হয়তো দেখা যাবে আরও প্রায় ছয় সেন্টিমিটার নেমে গেছে। এরই মধ্যে পৃথিবীর কোনো কোনো মহাসাগরে নাকি আচানক দ্বীপ ভেসে উঠতে দেখা গেছে।
এ অবস্থা যদি বেশি দিন চলতে থাকে তাহলে তো বিরাট সমস্যা। একদিন দেখা যাবে সাগরের জল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এতে সাগরের জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। তার প্রভাব এসে পড়বে পৃথিবীর দেশগুলোর ওপর। মানবসভ্যতা নানারূপ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। কী করা যায় এখন? বিষয়টি নিয়ে দুনিয়ার সেরা বিজ্ঞানীগণ ভাবতে বসে গেছেন। কেউ কেউ আবার গবেষণায়ও মেতে উঠেছেন। কেন সাগরের জল প্রতিদিন কমে যাচ্ছে? কি সেই আচানক রহস্য? কি সেই কারণ?
পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে নিজ নিজ সমুদ্রসীমায় বিজ্ঞানীগণ পর্যবেক্ষণ চালাতে লাগলেন। তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণের ওপর প্রতিবেদন লিখে আন্তজার্তিক গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে লাগলেন। এ সকল প্রতিবেদনের মধ্যে বাংলাদেশের দু’জন তরুণ বিজ্ঞানীর লেখা একটি প্রবন্ধ জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছে। বিজ্ঞানী দু’জন হলেন ডক্টর সালেক ও ডক্টর মালেক। তারা বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দু’জন প্রতিভাবান বিজ্ঞান গবেষক। তারা লিখলেনÑ
‘বঙ্গোপসাগরের গভীর জলসীমায় আশ্চর্য এক বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। উপকূল থেকে প্রায় তিনশো কিলোমিটার দূরে স্তম্ভের মতো একটা জিনিস দেখা গেছে। সেই স্তম্ভটি সমুদ্র থেকে শুরু হয়ে একেবারে আকাশে গিয়ে ঠেকেছে। তবে এটি সাধারণ কোনো স্তম্ভ নয়। এটি হলো পানির প্রবল ঘূর্ণনের ফলে সৃষ্ট পানিস্তম্ভ। কোনো এক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সমুদ্রের পানিকে প্রবল বেগে টর্নেডোর মতো দড়ি পাকিয়ে স্তম্ভাকারে আকাশে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অথবা হতে পারে সমূদ্রের পানিকে বাষ্পে পরিণত করে সেই বাষ্পকে ঘূর্ণনের মাধ্যমে স্তম্ভাকারে আকাশে উঠিয়ে নিচ্ছে। তবে এতে আশপাশের পানিতে প্রবল ঘূর্ণনের সৃষ্টি হলেও বাতাসে কোনোরূপ আলোড়ন সৃষ্টি হচ্ছে না। কে বা কারা কাজটি করছে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।’
প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার পর পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানীগণ কেমন যেন নড়েচড়ে বসলেন। এরই মধ্যে তারা নিজ চোখে দৃশ্যটি একবার দেখার জন্য গবেষণা জাহাজ নিয়ে বঙ্গোপসাগরে এসে নোঙ্গর করতে শুরু করলেন। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর জন স্বয়ং আচানক এ দৃশ্যটি দেখতে এলেন। সমুদ্র উপকূলে দাঁড়িয়ে দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে তিনি ভালো করে দৃশ্যটি অবলোকন করলেন। দেখার মতোই দৃশ্য! কিন্তু কীভাবে যে এটি সৃষ্টি হচ্ছে সেটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। বিরাট এক বিস্ময়! বিজ্ঞানীরা যে যেভাবে পারেন স্তম্ভাকারে পানির এ উর্ধ্বগমন পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন।
পর্যবেক্ষণ শেষে আন্তজার্তিক বিজ্ঞান সংস্থার কার্যালয়ে জরুরি এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলো। প্রথমে অধ্যাপক ডক্টর জন উপস্থিত বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেনÑ‘মানব সভ্যতার জন্য এটা বিরাট এক অশনিসংকেত। সাগরে পানি না-থাকলে নদনদীতে পানি থাকবে না। নদনদীতে পানি না-থাকলে পৃথিবীতে কোথাও গাছপালা থাকবে না। গাছপালা না-থাকলে মানুষ এমনকি প্রাণীজগৎ বেঁচে থাকতে পারবে না। পৃথিবী হয়ে যাবে বিরানভূমি। ভাবতে পারেন একবার বিষয়টা? প্রতিদিন সাগরের পানি হ্রাস পাওয়া মানে পৃথিবীর জন্য বিরাট ক্ষতি। পৃথিবীর ক্ষতি ঠেকানোর জন্যই তো আমরা বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। তাই অনতিবিলম্বে আমাদের কিছু একটা করতে হবে। কী করতে হবে সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।’
ডক্টর জনের কথা শেষ হলে রাশিয়ার একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানী ডক্টর ইকোভস্কি বলতে লাগলেন, আমার ধারণা মহাকাশের কোনো গ্রহের অধিবাসীরা এ কাজটি করছে। তাই আমাদের উচিত খুঁজে বের করা যে সাগরের পানি ঘূর্ণনের মাধ্যমে স্তম্ভাকারে কোথায় যায়।
আমেরিকান বিজ্ঞানী ডক্টর হেকেল বললেন, হতে পারে এটা বহির্জগতের কোনো গ্রহবাসী অ্যালিয়েনদের কাজ। পৃথিবীকে পানি শূন্য করে দিতেই তাদের এ অপপ্রয়াস। তাই আমাদেরকে সেই গ্রহের সন্ধান করতে হবে।
চীনের বিজ্ঞানী ড. অংহং বললেন, আমাদের চাইনিজ সসারগুলো ইতিমধ্যে মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এ কাজের জন্য আমার মনে হয় চাইনিজ সসার ব্যবহার করা যেতে পারে।
জাপানের বিজ্ঞানী উশো হুশোইং বললেন, রহস্য উদঘাটনের এ অভিযানে জাপানি বিজ্ঞানীদের তৈরি স্পেসস্যুট ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ বর্তমানে জাপানে তৈরি স্পেসস্যুট দুনিয়া বিখ্যাত। জাপানি বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বীয় রহস্য উদঘাটনে এসব স্পেসস্যুট ব্যবহার করে থাকেন।
বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের মতামত শুনে অধ্যাপক ডক্টর জন বললেন, ‘আমি এতক্ষণ আপনাদের মতামত প্রদানের সুযোগ দিয়েছি। আপনারা নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। এ জন্য আন্তজার্তিক বিজ্ঞান সংস্থার পক্ষ থেকে সকলকে অভিবাদন। আপনারা সকলেই অত্যন্ত মূল্যবান মতামত দিয়েছেন। সবার মতামতই গ্রহণযোগ্য। তবে সকলের মতামত আমরা নিতে পারছি না বলে দুঃখিত। আমরা বিজ্ঞান সংস্থা এবার ঠিক করেছি এ অভিযানে বাংলাদেশকে দায়িত্ব দেবো। আপনারা জানেন, বাংলাদেশের দু’জন তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণায় বিষয়টি সর্বপ্রথম জনসমক্ষে উঠে এসেছে। হতে পারে বাংলাদেশ জ্ঞান-বিজ্ঞানে একটি অনগ্রসর দেশ। তবু আমরা এ দায়িত্ব বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের হাতে দিতে চাই। দেখি তারা কীভাবে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় তুলে ধরে।’ এটুকু বলে অধ্যাপক ডক্টর জন একটু দম নিলেন।
এদিকে বাংলাদেশের নাম শোনামাত্র উন্নত দেশের বিজ্ঞানীগণ সমালোচনায় সরব হয়ে উঠলেন। ভারতের বিজ্ঞানী ডক্টর অনন্ত কুমার চক্রবর্তী তো সভাপতির এ প্রস্তাব হেসেই উড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশের পক্ষে কিছুতেই এ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ এখনো এমন যোগ্যতা অর্জন করেনি। বাংলাদেশকে এ দায়িত্ব দেয়া আর ছোট্ট শিশুর হাতে দায়িত্ব দেয়া একই কথা। এমন কাজে ছোট্ট শিশুরা সফল হলেও হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ কখনো সফল হবে না।’ বলে তিনি হা-হা-হা করে উঠলেন।
ভারতীয় বিজ্ঞানীটির ব্যঙ্গোক্তি শুনে পাকিস্তানের বিজ্ঞানী ড. আবদুস সবুর খান উপহাসের সুরে বললেন, ‘ছুঁচোর হাতে খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব দেয়া আর বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের এমন দায়িত্ব দেয়া একই কথা।’
ভারতীয় এবং পাকিস্তানি বিজ্ঞানী দু’জনের কথা শুনে বাংলাদেশের প্রবীণ বিজ্ঞানী ড. আবদুল মুত্তাকিন নিজের দেশের পক্ষে সাফাই গেয়েই বললেন, ‘আমি বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছি বলে আমি গর্ববোধ করি। আমাদের তরুণ বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। যা পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের তরুণদের মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই বিশ্বাস থেকে আমি বলছিÑশুধু একটিবার আমার দেশের ছেলেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দিয়ে দেখুন। আমরা পৃথিবীবাসীর জন্য কেমন সাফল্য বয়ে আনি।’ বলে তিনি তার আসনে বসলেন।
সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া, জাপান, জার্মান ও চীনের বিজ্ঞানীরা তার কথায় সহমত পোষণ করলেন। অবশ্য পরে আমেরিকার বিজ্ঞানীরাও বাংলাদেশের স্বপক্ষে সম্মতি দিলেন। আর ভারত ও পাকিস্তানের বিজ্ঞানী দু’জন শুধু ব্যঙ্গের হাসিই হাসলেন।
সকলের কথার পর অধ্যাপক ডক্টর জন তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন, ‘বাংলাদেশই মহাকাশে অভিযানটি চালাবে।’
ডক্টর জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীগণ হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সাথে পৃথিবীর আরও কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন। সিদ্ধান্তমতো বাংলাদেশের দু’জন তরুণ বিজ্ঞানী ডক্টর সালেক ও ডক্টর মালেক এ অভিযানটি চালাবে। তাদের সাথে উপদেষ্টা ও নির্দেশক হিসেবে থাকবেন ড. আবদুল মুত্তাকিন।
নির্ধারিত দিনে চাইনিজ সসারে চড়ে জাপানি স্পেসস্যুট পরে বাংলাদেশের তিনজন বিজ্ঞানী মহাকাশে পাড়ি জমালেন। এদিকে অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীগণ তাদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে থাকেন। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পানির ঘূর্ণায়মান স্তম্ভটি থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে উর্ধ্বগমন করতে লাগলেন। এভাবে ঊনত্রিশ দিন উর্ধ্বগমনের পর তাদের সামনে সহসা ভেসে উঠল ছায়া ছায়া আশ্চর্য আরেক জগৎ। আরেক পৃথিবী। তারা বুঝতে পারলেন এ গ্রহের অধিবাসীরাই সাগরের পানি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ত্রিশ দিন পর সসারটি নির্দিষ্ট গ্রহটিতে গিয়ে অবতরণ করল।
সসারটি অবতরণ করামাত্র সেই জগতের নিরাপত্তারক্ষীরা অস্ত্র তাক করে চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ধরল। পৃথিবীর প্রতিনিধি বাংলাদেশের বিজ্ঞানী তিনজন লক্ষ্য করলেন, নিরাপত্তারক্ষীগুলো দেখতে অনেকটা মানুষের মতোই। তবে এদের সারা শরীর আশ্চর্য একপ্রকার জ্যাকেট দ্বারা আবৃত। নিরাপত্তারক্ষীদের পক্ষ থেকে একজন তাদের জিজ্ঞেস করল, কে তোমরা? কোথা থেকে এসেছ?
জবাবে ড. আবদুল মুত্তাকিন তার শরীরে লাগানো অনুবাদক যন্ত্রটি চালু করে বললেন, আমরা হলাম মানুষ। পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে এসেছি।
‘পৃথিবী’ নামটি শোনামাত্র নিরাপত্তারক্ষীরা কিছুটা সংযত হয়েছে বলে মনে হলো। কিছুটা সমীহ করেই নিরাপত্তারক্ষীটি বলল, ওÑতাই বলুন। পরে তারা যে যেখানে ছিল সেখানে দাঁড়িয়েই স্যালুট দিলো।
বিজ্ঞানী তিনজন অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলেন, স্বপ্নময় ঝলমলে এই জগৎ। এখানে ওখানে হিরে-জহরত আর মণিমাণিক্যের ছড়াছড়ি। তার মানে এ জগতে হয়তো হিরের অনেক খনি রয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের সম্মান প্রদর্শন করার যে কী কারণ বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর তিনজন বিজ্ঞানী কেউ কিছু বুঝতে পারলেন না।
এরই মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীটি ঘড়ির মতো ছোটো একটি যন্ত্রের সাহায্যে কার সাথে যেন কথা বলাবলি করল। পরে নিরাপত্তারক্ষীটি বলল, আপনারা আমাদের সম্মানিত অতিথি। আমার সাথে আসুন। আমি এখন আপনাদের নিয়ে আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে যাব। বলে নিরাপত্তারক্ষীটি তাদের নিয়ে পথ চলতে লাগল।
কিছুদূর পায়ে হেঁটে যাওয়ার পর তাদের সামনে ওই গ্রহেরই তৈরি সসারের মতো একটি যানবাহন এসে হাজির হলো। সেই যানবাহনে পৃথিবীর প্রতিনিধি তিনজন বিজ্ঞানী চড়ে বসলেন। সসারটি তাদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট টাওয়ারের সামনে এসে অবতরণ করল।
খবর পেয়ে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের সংবর্ধনা জানাতে ছুটে এলেন। পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলেন, সে গ্রহের প্রেসিডেন্টের শরীরেও আশ্চর্য একপ্রকার জ্যাকেট। দেখতে অনেকটা নভোচারীদের স্পেসস্যুটের মতো। প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘পিয়ানোটিসে আপনাদের আগমন শুভ হোক। পিয়ানোটিসবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম।’
পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা বুঝলেন, তারা যে গ্রহে অবস্থান করছেন তার নামÑপিয়ানোটিস। প্রেসিডেন্ট আরও বলতে লাগলেন, ‘পিয়ানোটিস একসময় ছিল হাসি-আনন্দে ভরপুর আধুনিক এক অ্যালিয়েন সভ্যতা। এখানকার সকলেই খুব পিয়ানো বাজাতে পারত। তাই আমাদের জগতের নামও রাখা হয় পিয়ানোটিস। ভালোই তো যাচ্ছিল পিয়ানোটিসের সময়। এখানকার অধিবাসীরা দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে পিয়ানোটিস সভ্যতাকে গড়ে তুলেছিল।
প্রেসিডেন্টের কথা শুনে বিজ্ঞানী আবদুল মুত্তাকিন বললেন, ‘পিয়ানোটিসের অধিবাসীদের জ্যাকেট পরে থাকার কারণ কি? এগুলো তো নভোচারীরা পরে থাকেন।’
প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘সে বিরাট এক গল্প। আপনারা শুনতে চাইলে আমি শোনাতে পারি।’
ড. সালেক বলল, ‘বলুন না শুনি কী সেই গল্প।’
ড. মালেকও সালেকের কথায় সাঁই দিলো।
পরে প্রেসিডেন্ট বলতে লাগলেন, অনেক অনেক বছর আগে আমাদের এ পিয়ানোটিস ছিল সবুজ-শ্যামল গাছপালায় ভরপুর। উদ্ভিদ থেকে মানুষের প্রয়োজনীয় সব চাহিদা মিটে যেত। তারপর ধীরে ধীরে পিয়ানোটিস সভ্যতার উন্নতি হতে লাগল। দেখতে দেখতে শিল্পোন্নত হয়ে উঠল পিয়ানোটিস। শিল্পোন্নত হওয়ার সাথে মানুষ গাছপালা কেটে সভ্যতার বিকাশ ঘটাতে লাগল। গাছ থেকে কাগজ, টিস্যু পেপার, নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ইত্যাদি তৈরি করতে করতে একসময় পুরো পিয়ানোটিসের সব গাছ কাটা হয়ে গেল। এখানকার উদ্ভিদজগৎ হারিয়ে গেল। যখন উদ্ভিদজগৎ বিলুপ্ত হয়ে গেলÑতখন এখানকার অ্যালিয়ানরা বুঝতে পারল যে, কাজটি মস্ত বোকামি হয়ে গেছে। অ্যালিয়েনদের বাঁচার জন্য অক্সিজেন দরকার। অ্যালিয়েনরা উদ্ভিদ থেকে সেই অক্সিজেন পেত। উদ্ভিদজগৎ বিলুপ্ত হওয়ায় অ্যালিয়েনরা বিরাট অক্সিজেন সংকটে পড়ল। অক্সিজেন নেইÑএখন অ্যালিয়েনরা বাঁচবে কেমন করে? তাই অক্সিজেন সংগ্রহ করতে তারা মাথা বেঁধে লেগে গেল। এদিকে গাছপালা না-থাকায় পিয়ানোটিসে বৃষ্টিপাত হওয়াও থেমে গেল। দিনকে দিন পিয়ানোটিস মরুভূমিতে পরিণত হয়ে গেল। কিন্তু মরুভূমি হলে কী হবে। জীবন্ত অ্যালিয়েন যখন আছে, তখন বাঁচতে তো হবে। শেষে সংকট উত্তরণের জন্য পিয়ানোটিসের রথি-মহারথি বিজ্ঞানীরা গবেষণায় মেতে উঠলেন।
প্রথমে পিয়ানোটিসের খাল-বিলের জল থেকে তারা পানি সংগ্রহ করে এনে সেই পানিকে বিভাজন করে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন পৃথক করত। সেই অক্সিজেন তারা শ্বসন কাজে ব্যবহার করত। আর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করত হাইড্রোজেন। খাল-বিলের পর তারা নদনদীর পানি কাজে লাগাল। নদনদীর পর সাগর-মহাসাগরের পানি। পানি থেকে অক্সিজেন আলাদা করে সারা দেশে অসংখ্য ফিলিং স্টেশনে এনে মজুদ করা হলো। আর এই যে আমাদের গায়ে জ্যাকেটগুলো দেখছেনÑএগুলো অক্সিজেন জ্যাকেট। এসব জ্যাকেটে অক্সিজেন বহন করে সেই অক্সিজেন গ্রহণ করে আমরা কোনোমতে বেঁচে আছি। জ্যাকেটে অক্সিজেন হ্রাস পেলে আমরা ফিলিং স্টেশনে ছুটে যাই। তারপর সেখানে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে টাকার বিনিময়ে জ্যাকেটে অক্সিজেন পূর্ণ করি। এভাবেই আমরা বেঁচে আছি।
তারপর কেটে যায় আরও অনেক অনেক বছর। যুগের পর যুগ। শতাব্দীর পর শতাব্দী। এভাবে একসময় পিয়ানোটিসের মহাসাগরের পানিও ফুরিয়ে গেল। কিন্তু পানি ফুরিয়ে গেলে কী হবে। অ্যালিয়েনরা তো বেঁচে আছে। জীবিত অ্যালিয়েনদের যে বাঁচাতেই হবে। শেষে বিজ্ঞানীরা বিকল্প পথ খুঁজতে লাগলেন। এরই মধ্যে আমরা পৃথিবীর সন্ধান পেয়ে গেলাম। বিকল্প হিসেবে আমরা পৃথিবীর সাগরগুলোর পানিকে ব্যবহারের চিন্তা করলাম। সেই থেকে আমরা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় পৃথিবী থেকে পানি সংগ্রহ করে যাচ্ছি। আপনারা পৃথিবীর মানুষ। আপনাদের অনুগ্রহে বলা যায় আমরা বেঁচে আছি। তাই আপনারা আমাদের সম্মানিত অতিথি।
প্রেসিডেন্টের কথা শুনে বিজ্ঞানী আবদুল মুত্তাকিন বললেন, আপনারা তো আপনাদের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। কিন্তু পৃথিবীর কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন? পৃথিবীর বিরাট ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর অধিবাসী হিসেবে আমরা আপনাদের এ কাজকে সমর্থন করতে পারি না। আপনারা বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবুন।
বিজ্ঞানী আবদুল মুত্তাকিনের কথা শুনে প্রেসিডেন্ট বললেন, আপনারা কি চান না যে পিয়ানোটিস টিকে থাকুক? আপনাদের পৃথিবীর মতো পিয়ানোটিসেও কোটি কোটি অ্যালিয়েন বেঁচে থাকুক?
প্রেসিডেন্টের কথা শুনে বিজ্ঞানী আবদুল মুত্তাকিন বললেন, তা আমরা চাইব না কেন? অবশ্যই চাই। তাই বলে নিজেদের ক্ষতি করে নয়। আর আপনারাও তো অন্যের ক্ষতি করে নিজের মঙ্গল কামনা করতে পারেন না। এটা ঠিক নয়। এটা ভারি অন্যায়।
বিজ্ঞানী আবদুল মুত্তাকিনের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে সাথের বিজ্ঞানী দু’জনও বললেন, হ্যাঁ ভারি অন্যায়। এরূপ অন্যায় আপ

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT