প্রথম পাতা

শাবি’র ভর্তি ফি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি

আরাফ আহমদ, শাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-১১-২০১৮ ইং ০২:৩২:৫০ | সংবাদটি ৭১ বার পঠিত

 

 শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ সেশনের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারে ভর্তি ফি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৭৫০০ টাকা করা হয়েছে। গত বছর এ অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৮৫০ টাকা। গতকাল বুধবার বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে ভর্তি ফি বৃদ্ধির সংবাদ প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেয়া দেয়। এসময় দৈনিক সিলেটের ডাকে ‘এবার ৩৯ শতাংশ ভর্তি ফি বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
গত সোমবার বিশ^বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আগামী ১১ নভেম্বর রোববার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার এবং ভর্তির তারিখ নির্ধারণ করে একটি নোটিশ প্রকাশ করা হয়। নোটিশে ভর্তির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নীতিমালার সাথে সম্ভাব্য ভর্তি ফি ৯৫০০ টাকার কথা বলা হয়। নোটিশে ভর্তি ফি’র সম্ভাব্য ৯৫০০ টাকা বিগত বছরের চেয়ে ২৬৫০ টাকা অর্থাৎ ৩৯ শতাংশ বেশি হওয়ায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে। সম্ভাব্য ভর্তি ফি প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েকটি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এ সময় ওয়েবসাইটে দেওয়া টাকার পরিমাণ প্রত্যাহার এবং পূর্বের ভর্তি ফি বহাল রাখার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ায় ৯৫০০ টাকা একাডেমিক কাউন্সিল থেকে অনুমোদিত হয়নি। আর এই টাকার পরিমাণটি শিক্ষার্থীদের ধারণা দেয়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল বলে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়।
একই বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার দৈনিক সিলেটের ডাকে ‘এবার ৩৯ শতাংশ ভর্তি ফি বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমলে নিয়ে গতকাল বুধবার একাডেমিক কাউন্সিলে সম্ভাব্য ভর্তি ফি ৯৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৭৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সিলেটের ডাককে বলেন, ৩৯ শতাংশ ভর্তি ফি বৃদ্ধির তো প্রশ্নই আসে না। দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে এত টাকা দিয়ে সন্তানকে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি করা কষ্টসাধ্য হবে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা দশ শতাংশ বৃদ্ধি করেছি। ওয়েবসাইটে যেটা প্রকাশ করা হয়েছে সেটা কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রয়োজনীয় অর্থ প্রস্তুত রাখার জন্য সম্ভাব্য একটি পরিমাণ হিসেবে তা উল্লেখ করা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত ভর্তি ফি শিক্ষার্থীদের যাতে বোঝা হয়ে না পড়ে-সেই দিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিগত চার-পাঁচ বছর বিবেচনা করলে এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেখা যায় ২৪ শতাংশ ভর্তি ফি বাড়ে। কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬৮৫০ টাকা থেকে ৭৫০০ টাকা করেছি।
এদিকে, ভর্তি ফি বৃদ্ধি না করে পূর্বের ফি ঠিক রাখার দাবিতে গতকালও আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেলা ১টায় বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে বক্তব্য রাখেন রাসেল মিয়া, খৈরম কামেশ^র, নাজিরুল আযম, সৌরভ মোস্তফা, নাইম আশরাফ, সিরাতুল মোস্তাকিম, সৈয়দ মাহী প্রমুখ। এছাড়া ভর্তি ফি না বাড়ানোর জন্য এবং গতবছরের ভর্তি ফি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
অন্যদিকে, আগামী ১১ নভেম্বর রোববার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন এ এবং মিনি অডিটরিয়ামে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার সকাল ৯ টা থেকে বি১ ইউনিটের মেধাতালিকার ১-৩০০ পর্যন্ত এবং ২টা থেকে একই ইউনিটের ৩০১ থেকে ৬০০ পর্যন্ত ভর্তি অনুষ্ঠিত হবে। ১২ নভেম্বর সকাল ৯টায় একই ইউনিটের ৬০১ থেকে ৯৮০ পর্যন্ত এবং দুপুর ২টায় বি২ এর ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত। একই দিন বিকেল ৩টায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কোটায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার ও ভর্তি অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, ১৩ নভেম্বর সকাল ৯টায় এ ইউনিটের বিজ্ঞান শাখার মেধা তালিকা হতে ১-২২০ পর্যন্ত ও দুপুরে বাণিজ্য শাখার ১-৮৩ পর্যন্ত সাক্ষাৎকার ও ভর্তি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পরদিন ১৪ নভেম্বর একই ইউনিটের মানবিকে মেধাতালিকার ১-৩০১ ও দুপুরে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কোটায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কোটার সাক্ষাৎকার ও ভর্তি অনুষ্ঠিত হবে।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষার এডমিট কার্ড, এসএসসি বা সমমান ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র ও সার্টিফিকেট সাথে নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া কোটায় ভর্তি হতে ইচ্ছুক মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ভর্তির যোগ্যতা প্রমাণের জন্য যথাযথ সনদপত্রের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে। প্রার্থীদের প্রতিটি সনদপত্র ও নম্বরপত্রের ২টি সত্যায়িত ফটোকপি অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে বলে ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা যায়। ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অথবা ০১৫৫৫৫৫৫০০১-৪ হটলাইনে যোগাযোগ করেও জানা যাবে।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • সিলেটে উন্নয়নের ‘ধীরগতি’র বদনাম ঘুচাতে হবে
  • মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করা আমার প্রথম কাজ
  • ১৯ জানুয়ারি মহাসমাবেশে যোগ দিতে সিলেট আওয়ামী লীগের আহবান
  • ‘সিলেট হবে দেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী’
  • খালেদা জিয়া অসুস্থ, আদালতে যেতে পারেননি
  • মুসলিম উম্মাহ’র ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
  • সিলেটে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার জিয়ারত করলেন পরিবেশ মন্ত্রী
  • ফের কয়লা আমদানী বন্ধ
  • দক্ষিণ সুরমায় রিকশা চালককে পিটিয়ে খুন
  • সুনামগঞ্জের হাওরসমূহে এখনো বাঁধের কাজ পুরোপুরি শুরু হয়নি
  • রাজশাহীতে থামলো ঢাকার ‘জয়রথ’
  • রংপুরকে হারিয়ে জয়ে ফিরলো সিলেট
  • ‘মা’ মানেই বেঁচে থাকার নি:শ্বাস
  • শাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
  • শাবিতে নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন আজ ও আগামীকাল
  • নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত: টিআইবি
  • অসহায় মজলুম মানুষের খেদমতে আত্মনিয়োগ করুন
  • টিআইবির প্রতিবেদন পূর্বনির্ধারিত মনগড়া: রফিকুল
  • সামাদ আজাদ ও ‍হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই
  • প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে জয়ের পুনঃনিয়োগ
  • Developed by: Sparkle IT