উপ সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও অমীমাংসিত কিছু প্রশ্ন

একেএম শামসুদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-১১-২০১৮ ইং ০০:৪৬:১৩ | সংবাদটি ৩২ বার পঠিত

১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে চলেছে বলে খবর বেরিয়েছে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে। জানা গেছে, প্রথম কিস্তিতে ২ হাজার ২৬০ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ৩ নভেম্বর এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক জানান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশ মিলে প্রত্যাবাসনের এ তারিখ নির্ধারণ করেছে।
প্রত্যাবাসন বিষয়ে বাংলাদেশ অনেক আগেই জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে। পরবর্তী সময়ে মিয়ানমারও একই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ফেরত পাঠানো হবে রোহিঙ্গাদের এমন একটি নামীয় তালিকা মিয়ানমার ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাকে হস্তান্তর করেছে।
সচিব আরও জানান, প্রত্যাবাসন শুরু হলে তা চলতে থাকবে, এটা চলমান প্রক্রিয়া। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মাধ্যমে এ প্রত্যাবাসন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। তবে শেষ হতে কতদিন লাগবে সে ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু হওয়াটা জরুরি। এ উপলব্ধি থেকেই উভয় দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ ১৫ নভেম্বর থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে সময় নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশ এ দিন ৪৮৫ রোহিঙ্গা পরিবারকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করবে; তারা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবে। এ পরিবারগুলোকে প্রথমে ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হবে, সেখান থেকে পরবর্তী সময়ে তাদের নিজ নিজ বাস্তুভিটায় নিয়ে যাওয়া হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র চীনের চাপের কারণে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে রাজি হয়েছে বলে জানা যায়।
এখন প্রশ্ন হল, প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি কি খুব তাড়াহুড়ো করে শুরু হতে যাচ্ছে? নাকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে পূর্বশর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, তা পূরণের পরই এ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃক মাত্র একটি শর্তপূরণের কথা জানা গেছে। ওয়ার্কিং গ্রুপের মিটিংয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব নাকি বলেছেন, রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে গেলে তাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কফি আনান কমিশন গঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর নাফ নদীতে অনেক জল গড়িয়েছে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তখন পর্যন্ত সংঘটিত সমস্যার সঙ্গে বর্তমানে আরও জটিল ও কঠিন সংকট তৈরি হয়েছে। এ কমিশন দীর্ঘ এক বছর পরিশ্রম করে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের রিপোর্ট উপস্থাপন করে।
রিপোর্ট উপস্থাপনের ঠিক দু’দিন পর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসে ইতিহাসের জঘন্যতম জাতিগত নিধন অভিযান। মিয়ানমারের মিলিটারি জান্তা রোহিঙ্গাদের গণহত্যা শুরু করে যা বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান কমিটি এক তদন্তে এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত গণহত্যা বলে অভিহিত করে এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালত কর্তৃক অভিযুক্তদের বিচারের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন ফোরামে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করা এ মানুষগুলোকে মিয়ানমারে পাঠানো বাস্তবসম্মত হবে কিনা তা আরও গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার দাবি রাখে। ইতিপূর্বে শুধু বাংলাদেশের সঙ্গেই নয়, বিশ্ব কমিউনিটির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের রেকর্ড আছে মিয়ানমারের, সেদিকটিও বিবেচনা করে দেখতে হবে।
ছয়জন স্থানীয় এবং তিনজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত কফি আনান কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের সুপারিশে মিয়ানমারের ‘১৯৮২ নাগরিকত্ব আইন’কে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করার পরও মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আগত অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করেছে।
সুপারিশে কমিশন অবিলম্বে এ আইন সংশোধন করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি প্রদানের অন্য বাধাগুলো দূর করার জন্যও বলেছে। এখন কথা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিতে হলে প্রথমেই ওদের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করতে হবে। মিয়ানমার কি এই আইনের সেই সংশোধন করেছে? জানা মতে, এখনও তারা তা করেনি।
অতএব মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আন্তরিক কিনা তা বোঝা গেল না। আমরা এমন কোনো সূত্র কিংবা গণমাধ্যমে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিলের কোনো সংবাদ আজ অবধি পাইনি, সম্ভবত আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাও আইন সংশোধনের সঠিক সংবাদ দিতে পারবেন বলে মনে হয় না।
প্রত্যাবাসনের আগেই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মিয়ানমার যদি ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে দেখাতে পারত তাহলে প্রত্যাবাসনের পর কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া হবে এ কথার ওপর আস্থা রাখা যেত। যেখানে এখন পর্যন্ত সেই আইন সংশোধনের কোনো পদক্ষেপই মিয়ানমার গ্রহণ করেনি, সেখানে ওদের পররাষ্ট্র সচিবের প্রতিশ্রুতির ওপর কতটুকু ভরসা করা যায়?
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি ছাড়াও কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে মোটা দাগের আরও খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুপারিশ প্রত্যাবাসনের আগেই যথাযথ বাস্তবায়ন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়। এগুলো হল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের সর্বত্র মুক্তভাবে চলাফেরা করার অধিকার ও তাদের প্রতি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ হ্রাস, মানবাধিকার সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধানে মিয়ানমার সরকারের পদক্ষেপগুলো।
এসব বিষয়ে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা আমাদের জানা নেই। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান। মিয়ানমারের ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন কার্ডে (এনভিসি) রোহিঙ্গাদের নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় লিখতে হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চীন এবং ভারত রাখাইনে প্রায় হাজারেরও বেশি বসতবাড়ি তৈরি করে দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার জন্য রাখাইনে দায়িত্ব পালনরত সে দেশের সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যদেরও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবের এ কথাগুলো শুনতে ভালো লাগে; কিন্তু এগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সে সন্দেহ কিন্তু রয়েই যাচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অনুকূল পরিবেশ পুরোপুরি সৃষ্টি হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের ফেরা উচিত, নাকি পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাবাসন একই সঙ্গে চলা উচিত, তা নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছুটা মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে মনে হয়। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আন্দ্রেজ মহাসিক রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত পাঠানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, রাখাইন অঞ্চল রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য এখনও নিরাপদ নয়, এবং ওই অঞ্চলে এখনও কোনো সংবাদমাধ্যমের কর্মী কিংবা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক সদস্যদের প্রবেশাধিকার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেনি।
এ অবস্থায়, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়ে যাচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অপরদিকে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমেন ২৪ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রাখাইনের পশ্চিম অঞ্চলে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ওপর এখনও সহিংসতা অব্যাহত আছে এবং ভীতসন্ত্রস্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক মহলে যখন এ ব্যাপারে উদ্বেগ ও সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের এ ঘোষণা এলো।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এমন একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো প্রথম দলটি হবে একটি পরীক্ষণমূলক পদক্ষেপ। নিজ বাস্তুভিটায় ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কেমন আচরণ করে তা এদের মাধ্যমেই জানা যাবে। যেহেতু মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে, দেখা যাক মিয়ানমার সে আশ্বাসের কতটুকু রক্ষা করে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তখন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে সক্ষম হবে। সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা প্রয়োজন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এখন কথা হল, এ পরীক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেয়া, এখনই কেন এত জরুরি হয়ে পড়ল? সর্বশেষ খবর হল, প্রত্যাবাসনের তারিখ ঘোষণার পরও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ থেমে নেই।
সোমবারও মিয়ানমার থেকে ১১ নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। অনুপ্রবেশকারী এসব রোহিঙ্গা জানিয়েছেন মিয়ানমারে এখনও সেনা নির্যাতন অব্যাহত থাকায় তারা বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনার মধ্যেও এ তাড়াহুড়ো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত হবে তা আরও একবার ভেবে দেখা প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়। তা না হলে এ অকালীন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করলে বাংলাদেশের আশাভঙ্গের আশঙ্কা থেকে যাবে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর কথা
  • এই অপসংস্কৃতির অবসান হোক
  • সৈয়দ সুমন আহমদ
  • পানিশূন্য তিস্তা
  • বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারের গ্যাড়াকলে গ্রাহকরা : দায় কার?
  • পরিবহন ধর্মঘট এবং জনদুর্ভোগ
  • পানি সমস্যা সমাধানে নদী খনন জরুরি
  • শব্দসন্ত্রাস
  • মাধবপুর : যাতায়াত দুর্ভোগ
  •   তাফসীরুল কুরআন
  • ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহর পুরস্কার নির্ধারিত
  • প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রাহ.) ও সাদাকায়ে জারিয়া
  • Developed by: Sparkle IT