উপ সম্পাদকীয়

আল্লাহ নামের তুলনা নেই

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-১১-২০১৮ ইং ০০:৪৯:৪০ | সংবাদটি ৩৭ বার পঠিত

আবির ঘরের বারান্দায় চুপ চাপ বসে আসে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসেছিল। কিন্তু কেন যেন পড়তে ভাল লাগছে না। রাতে ঘুম তেমন খারাপ হয়নি। তবে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। একাত ওকাত করতে করতে অনেক পর ঘুম আসে। মন ভাল নেই। কিন্তু কেন? কারণও জানা নেই। কি আশ্চর্য। অদ্ভুত মানুষ আর মানুষের জীবন। কখন কি ঘটবে কেউ জানেনা। জানার উপায়ও নেই। একটু পরেই ঘর থেকে নাস্তার ডাক এল। ঘরের সবাই একসাথে বসে নাস্তা করবে। এখানে ভাল লাগছেনা বলার সুযোগ নেই। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঘরের দিকে পা বাড়ায়।
নাস্তা সেরে আবারও পড়ার ঘরের বারান্দায় এসে বসে। কি যেন ভাবনা। মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে। চিন্তা একটার পর একটা মাথায় জাগছে আবার উধাও হয়ে যাচ্ছে। কোনটাই স্থায়ী হচ্ছে না। এর মধ্যে একটু পরে পাশের বাড়ির সাদেককে নিয়ে আরিফ এসে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আবিরকে ডাক দেয়। আবির বলে আমি বারান্দায় তোরা এদিকে আয়।
আরিফ আবিরের বারান্দায় বসে থাকতে দেখে বলে কিরে তুই সব সময় পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকিস কিন্তু আজ এই সময়ে বারান্দায় বসে কি করছিস? আরিফের চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। আবির বলে নারে দোস্ত আজ কেন যেন ভাল লাগছে না। এই জন্য একাকি বসে আছি। তবে নাস্তা করে এসে একটি বিষয় নিয়ে খুব ভাবছি তোরা এসেছি ভালই হল। তোদের সাথেও বিষয়টি শেয়ার করা যাবে। আরিফ একটু খোঁচা দিয়ে বলে, তোর আবার হুজুর হুজুর ভাব। আবার এই বিষয় নিয়ে শুরু করবিনাতো।
আবির বলে, দেখ তোর আল্লাহ রাসুল ইত্যাদি নাম শুনলে গা জ্বালা শুরু হয়ে যায়। তারপরও শোন। তোর আকল আছে, জ্ঞান আছে, নির্জীব পদার্থ বা অন্য কোন প্রাণী নস। তুই বলত, কোন দেশ সরকার ছাড়া চলতে পারে কি না? এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যে নাস্তিকটি রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করে দেখতো সরকার ছাড়া কোন রাষ্ট্রের কল্পনা করা যায় কি না? নিশ্চয় তুই সহ সব নাস্তিকরাই জবাব দেবে না। তাহলে তুই বলতো যেখানে সরকার ছাড়া ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর একটি দেশ চলতে পারেনা, তাহলে এই বিশাল আকাশ পৃথিবী, চাদ-সুরুজ, গ্রহ-নক্ষত্র এমনিতেই চলছে? তার কোন পরিচালক, নিয়ন্ত্রক কেউ নেই। তা কিভাবে ভাবতে পারছিস !
আরো একটি বিষয় যা নিয়ে আমি চিন্তা করছিলাম। এই পৃথিবীতে দুই ধরণের মানুষ আছে। কেউ আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করে, আবার কেউ করে না। যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করেনা তারা আবার দুই ধরনের প্রথম দল তারা বলে আল্লাহ বলে কেউ নেই, দ্বিতীয় দল বলে আল্লাহ একজন আছেন তবে তার শরীক রয়েছে ইত্যাদি। তারা সবাই আল্লাহকে অস্বীকার করার অন্তর্ভুক্ত। যারা আল্লাহকে মানে তাদের এবং যারা আল্লাহতে বিশ্বাস নেই বা যারা বেশী খোদায় বিশ্বাসী সবার জন্যই আল্লাহকে চিনা খুব সহজ। একজন মানুষ যদি শুধু আল্লাহ শব্দটি নিয়ে চিন্তা করে তাহলে সে কখনো বলতে পারবেনা যে আল্লাহ নেই। এই কথা শুনে আরিফের চোখতো ছানাবড়া। আবির কি বলে! এই আল্লাহ শব্দ জীবনে কতবার শুনেছি। এর ভিতর নাকি আল্লাহর পরিচয় রয়েছে! শোন সাদেক।
আবির, আচ্ছা আপাতত সাদেকও তোর দলেই থাকুক। আমি বিষয়টি বলি তারপর তোদের বিবেক কী সায় দেয় তা আমাকে বলবি। শোন, মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হল তার ভাষা। এই পৃথিবীতে অনেক রকম ভাষা আছে। এইযে আমরা বাংলাদেশী আমাদের ভাষা বাংলা। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এই মাতৃভাষা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে আমাদের কয়েক ভাই শহীদ হয়েছেন। তারপরও মাতৃভাষার মান হারাতে দেননি। এই বাংলা ভাষার প্রথম অক্ষর কোনটি? আরিফ জবাব দিয়ে দেয় অ আ। আচ্ছা ইংরেজী ভাষা সারা পৃথিবীতে সমাদৃত ভাষা। সবদেশেই ইংরেজী ভাষার কমবেশী প্রচলন রয়েছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে খৃষ্টানগন এই ভাষা ব্যবহার করে থাকে। এ ভাষার প্রথম অক্ষর এ্য। আবরী আরবের ভাষা। মুসলমানদের ভাষা। হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আগমনের বহু পূর্ব থেকেই আরবী ভাষা আছে। আরবী ভাষার প্রথম অক্ষর আলিফ। ফারসী, উর্দু ভাষার প্রথম অক্ষরও আলিফ। গ্রীক ভাষার প্রথম অক্ষর আলফা। তেমনি হিন্দি, ফ্র্যাঞ্চ, মালয়সহ পৃথিবীর সব প্রধান ভাষার প্রথম অক্ষরের উচ্চারণ তেমনি অ, আ, এ্য এর কাছাকাছি। আশ্চর্যের বিষয় হল, সব ভাষার প্রথম অক্ষরটির উচ্চারণ অ, আ বা ্এ্য যা দিয়ে আল্লাহ লিখা হয়। সব ভাষাভাষী প্রথম মানুষ মুসলমান ছিলেন না। ভাষাগুলো বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পার হয়ে বর্তমান অবস্থায় পৌছেছে। পৃথিবীর প্রধান ভাষাগুলোর সৃষ্টি অবশ্যই রাসুল সাঃ এর আগমনের বহু পূর্বেই সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে কে ভাষা সমূহের প্রথম অক্ষরটি এমন একটি অক্ষর দিয়ে শুরু করলেন যা দিয়ে গড লিখা হয় না, ঈশ্বর লিখা হয় না, জিহুবা লিখা হয় না, ভগবান লিখা হয় না, যা দিয়ে কেবল মাত্র আল্লাহ লিখা হয়। এই কথাগুলো আরিব বিরতিহীনভাবে আবেগের সাথে বলতে থাকে। আরিফ ও সাদেকও মনোযোগ সহকারে শুনে। সাদেক বলে ভাই আগে তো কখনো এভাবে চিন্তা করিনি।
আবির বলে আরো একটি আশ্চর্যের বিষয় এই যে, পৃথিবীতে প্রচলিত আল্লাহ ছাড়া স্রষ্টার যত নাম আছে বা যেভাবে স্রষ্টার নাম লিখা হয়। মূল নামটি থেকে কোন অক্ষর বাদ দিতে থাকলে নামটি আর এই নাম থাকে না অর্থের পরিবর্তন বা বিকৃত হয়ে যায়। যেমন গড ইংরেজীতে। এই গড শব্দের প্রথম অক্ষর জি বাদ দিলে ওড হয়ে যায়। যার অর্থ আমার জানা নেই। গুগল সার্চে অবশ্য ওড অর্থ ঈশ্বর লিখা হয়েছে। তারপর যদি গড থেকে জি এবং ও অক্ষর বাদ দেওয়া হয়, তার কোন অর্থই বর্তমান থাকেনা। শুধু ডি একটি বর্ণ বৈ আর কিছু নয়। তেমনিভাবে আমরা যদি ঈশ্বর শব্দটি নিয়ে চিন্তা করি, তাহলে দেখব যে ঈশ্বর শব্দটিকে আল্লাহ খোদা, ভগবান অর্থে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ঈশ্বর থেকে প্রথমে ঈশ শব্দের অর্থ উইকিপিডিয়াতে বলা হয়েছে দক্ষ, মালিক, শাসক কিন্তু এর পরবর্তী অক্ষর বাদ দিলে আর কোন অর্থই থাকছেনা। যেমন শ্বর, র এর কী অর্থই বা আছে। এখন আমরা যাচাই করি আল্লাহ শব্দ নিয়ে। আল্লাহ শব্দটি লিখতে আরবীতে আলিফ, লাম, লাম, হা এই চারটি অক্ষর ব্যবহার করা হয়। এই চারটি অক্ষর থেকে প্রথমে যদি আমরা আলিফ বাদ দিয়ে দেই তাহলে শব্দ দাড়ায় লিল্লাহ অর্থ আল্লাহ তায়ালার জন্য, আরোও একটু বেড়ে যদি একটি লাম বাদ দিয়ে দেই তাহলে শব্দটি দাড়ায় লাহু। অর্থ একমাত্র তাঁর জন্য। আরোও বেড়ে যদি আরোও একটি লাম বাদ দিয়ে দিই তাহলে একটি অক্ষর থাকে হু। অর্থ দাড়ায় তাঁহার অর্থ্যাৎ আল্লাহর। এখন আমরা চিন্তা করে দেখি। আল্লাহ এমন একটি শব্দ যাকে ভাঙ্গা যায়না, ছেড়া যায় না, কাটা যায় না, তাকে যত ভাবেই বিভক্ত করা হোকনা কেন, তিনি আল্লাহ মানে আল্লাহ। তাঁর নামের অক্ষরগুলো থেকে যতই বাদ দেওয়া হোক না কেন তার নামের কোন পরিবর্তন নেই। সুবহানাল্লাহ। যার নামে কোন ভাবে কাউকে শরীক করা যায় না, যার রাজত্বেও কারো শরীকানা কল্পনা করা যায় না। তিনিই একমাত্র আল্লাহ। তিনি আমার মনিব, আমার পালনকর্তা, শেষ বিচার দিনের মালিক। তিনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর কাছেই আমার ফিরে যেতে হবে। আবিরের এই আবেগী কথায় যেন আরিফ ও সাদিক থ বনে গেছে। কোন কথা বের হচ্ছে না। সাদেক আরিফকে বলে ভাই কিছু কি বলবেন। আরিফ মাথা নেড়ে বলে আজ থাক আর একদিন কথা হবে।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর কথা
  • এই অপসংস্কৃতির অবসান হোক
  • সৈয়দ সুমন আহমদ
  • পানিশূন্য তিস্তা
  • বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারের গ্যাড়াকলে গ্রাহকরা : দায় কার?
  • পরিবহন ধর্মঘট এবং জনদুর্ভোগ
  • পানি সমস্যা সমাধানে নদী খনন জরুরি
  • শব্দসন্ত্রাস
  • মাধবপুর : যাতায়াত দুর্ভোগ
  •   তাফসীরুল কুরআন
  • ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহর পুরস্কার নির্ধারিত
  • প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রাহ.) ও সাদাকায়ে জারিয়া
  • Developed by: Sparkle IT