উপ সম্পাদকীয়

প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রাহ.) ও সাদাকায়ে জারিয়া

মো. আবদুল্লাহ আল মনসুর প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-১১-২০১৮ ইং ০০:৫০:৪৯ | সংবাদটি ১৮৯ বার পঠিত

মৃত্যু চিরন্তন সত্য একটি বিষয়। এটি অবধারিত। কার কখন ডাক চলে আসে, কেউ বলতে পারবেনা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় সকল প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে’ (আয়াত ১৮৫, সুরা আল ইমরান)।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। নিতান্তই সামান্য। প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর পরই শুরু হয় মানুষের আসল জীবন। যে জীবনের শুরু আছে শেষ নেই। যেটাকে আমরা পরকাল বা আখেরাত বলে থাকি। পরকালীন জীবনে ভালো থাকা কিংবা মন্দ থাকা নির্ভর করে দুনিয়ার জীবনের উপর। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় থাকাকালীন অবস্থায় পরকালীন জীবনের রসদ সংগ্রহ করে সেই প্রকৃত সফল ও বুদ্ধিমান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হল সেই সফল হল।’ (আয়াত ১৮৫, সুরা আল ইমরান)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রকৃত বুদ্ধিমান হল সেই ব্যক্তি, যে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে’ (সুনান তিরমিযি)
আমরা যদি প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমান সাহেবের জীবনের দিকে লক্ষ করি তাহলে দেখব, তিনি তার সারাটা জীবন কুরবান করেছেন আল্লাহর জন্য, পরকালের জন্য, আখেরাতের জন্য। তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদেরসহ অনাগত ভবিষ্যত প্রজন্মের সবার জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ হিসাবে থাকবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র তিনটি আমল বাকি থাকে। আর তা হল, সাদাকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তানের দুয়া।’ ( সহিহ মুসলিম)
প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমান এমন একজন সফল ব্যক্তিত্ব, যার মাঝে উপরোক্ত তিনটি গুণের সবগুলোই বিদ্যমান ছিল। তিনি চলে গেছেন। কিন্তু হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী তার সওয়াব এখনো চলমান। এবং কিয়ামত পর্যন্ত এ ধারা চলতেই থাকবে। আমরা সংক্ষেপে তার কারণগুলো একটু আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।
সাদাকায়ে জারিয়া : মানে যার সওয়াব চলমান। সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে তিনি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা। সুরমা নদীর তীরে ছোট একটি ডালিম গাছের নীচে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন ছাত্র দিয়ে শুরু হয় যার যাত্রা। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই তা বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। যেখান থেকে ইলমে ওয়াহির শিক্ষা নিয়ে প্রতিবছর দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন হাজার হাজার আহলে ইলম। মাদ্রাসা অভ্যন্তরে নির্মাণ করেন সুবিশাল মসজিদ ‘বায়তুর রহমান’। সমাজের গরীব, অসহায় অধিকার বঞ্চিত মানুষদের সেবা দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন ‘আল মারকাজুল খাইরি আল ইসলামি’ নামক সেবা সংস্থা। এসবই সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর সাদাকায়ে জারিয়ার সওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকে।
উপকারী জ্ঞান : জ্ঞান বিতরণের ক্ষেত্রেও তিনি অনেক অগ্রসর ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের একজন। ১৯৭২ সালে কামিল পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে তিনি ফার্স্ট ক্লাস পেয় উত্তীর্ণ হন। এরপরই লেগে যান খেদমতে। প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়া (র.) এর নির্দেশে ইমাম ও খতিব হিসাবে যোগদান করেন সুরমা নদীর কুল ঘেষা কাজির বাজার পেয়াজহাটা জামে মসজিদে। অতঃপর জামেয়া মাদানিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি একজন সুবক্তাও। গ্রামে-গঞ্জে, শহরের, নগরে বিভিন্ন জায়গার ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করতেন সারা বছর। তার বয়ানে ছিল প্রচুর সম্মুহনী শক্তি। যখনই বয়ান করতেন সবাই তন্ময় হয়ে শুনতো।
তার ছাত্ররা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বীনি খিদমাত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। তিনি একজন জনপ্রিয় লেখকও। বিভিন্ন বিষয়ে তার রচিত, অনুদিত গবেষণাধর্মী পুস্তিকা পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত। সচেতন পাঠক মহলে যেসব বই সাড়া জাগিয়েছে তার অন্যতম হল, বিশ্বনবীর ডায়রি, খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও তার রূপরেখা, ইমাম বুখারি (র.), আরবের নবী ইত্যাদি। আর এ সবই উপকারী জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। যার সওয়াব মৃত্যুর পরও চলমান থাকে।
নেক সন্তান : তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে। চার ছেলের সবাই আলেম। বড় ছেলে আমাদের উস্তাদ মাওলানা সামিউর রহমান মুসা। যিনি বর্তমানে জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। বাকিরা সবাই কোনো না কোনো দ্বীনি খিদমাতের সাথে সম্পৃক্ত।
মোটকথা হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী মানুষ মারা যাওয়ার পরও যে সব আমলের সওয়াব বাকি থাকে তার সবগুলোই আমরা প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমান সাহেবের মাঝে খুঁজে পাই। আজকাল আলেম অনেক পাওয়া যায়। কিন্তু সত্যিকার ওয়ারাসাতুল আম্বিয়ার সংখ্যা নিতান্তই কম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে যেসব গুণের দরকার তার সবই হযরতের মাঝে বিদ্যমান ছিল।
মহান রাব্বুল আলামিন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমাদেরকেও তার বর্ণাঢ্য জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে চলার তাওফিক দান করুন।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি
  • চোপড়া-জোলিরা কিসের বার্তা দিয়ে গেলেন?
  • জীবন থেকে নেওয়া
  • প্রাসঙ্গিক কথকতা
  • সিলেট বিভাগের শিল্পায়ন ও সম্ভাবনা
  • আমরা কি স্বাধীনতার অর্থ খুঁজি?
  • বৈশ্বিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ প্রয়োজন
  • হুমকির মুখে ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের দশ নম্বর এলাকা
  • পাসপোর্ট ভোগান্তি
  • শিশুশিক্ষায় শাস্তি পরিহার বাঞ্ছনীয়
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  • ভোগবাদী বিশ্বায়ন বনাম লোকসংস্কৃতি
  • সমাবর্তনে শুভ কামনা
  • উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকা
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক প্রভাব
  • ভালোবাসা বনাম ঘৃণা
  • নজর দিতে হবে প্রাথমিক শিক্ষায়
  • নগরবাসীর যাপিত জীবনচিত্র
  • আধ্যাত্মিক রাজধানী এবং ...
  • খেলাধুলার গুরুত্ব
  • Developed by: Sparkle IT