সম্পাদকীয়

পাহাড়ি জমিতে চাষাবাদ

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-১১-২০১৮ ইং ০০:০৯:৪৪ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

পাহাড়ি জমিতে ফসল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। যে হারে ফসলি জমি কমছে তা অব্যাহত থাকলে হয়তো একদিন আসবে, যেদিন চাষাবাদের জন্য কোনো আবাদি জমি খুঁজেই পাওয়া যাবে না। আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের মাত্রাও কমে যাচ্ছে। অথচ বর্ধিত জনসংখ্যার চাপ সামলানোর জন্য খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে দেশের অনাবাদী জমিকে চাষের আওতায় নিয়ে আসা পাশাপাশি পাহাড়ি জমিতে চাষাবাদের কথাও চিন্তা করা যায়। সত্যি বলতে কি, বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি জমিতে চাষাবাদ শুরুও হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে পরিবেশ সম্মত উপায়ে মাল্টিপল ভিত্তিতে কৃষিদ্রব্য চাষাবাদ করা সম্ভব।
দেশে আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বেশির ভাগই সমতল বা হাওর এলাকায় অবস্থিত। বিভিন্ন মওসুমে বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপন্ন হয় এই জমিতে। প্রধান উৎপাদিত ফসল হচ্ছে ধান। এছাড়া জমিতে নানা জাতের সব্জি ফলমূল চাষ করা হয়। দেশের খাদ্য ভান্ডারে সকল মওসুমের ফসলেরই অবদান রয়েছে। অথচ এই আবাদি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে নানা কারণে। সেই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারসহ নানা কারণে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ একর প্রতি বৃদ্ধি পেলেও জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতেই হবে। এই প্রেক্ষাপটে পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি নিঃসন্দেহে সুখকর। পাহাড়ি জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ করা যায়। কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে পাহাড়ি অনাবাদি জমিতে উদ্যান তাত্ত্বিক ফসল চাষ করা যায়। বিশেষ করে আনারস, আম, পেয়ারা, জলপাই, কলা ও পেঁপের মতো অর্থকরী ফলমূল-সব্জি চাষ করা যায়। এছাড়া, পাহাড়ি ঢালু জমিতে আদা-হলুদের মতো মসলা জাতীয় ফসলও চাষ করা যায়। উল্লেখ করা যেতে পারে সিলেট অঞ্চলে রয়েছে প্রচুর পাহাড়-টিলা। এই অঞ্চলে মোট জমির ১১ শতাংশ পাহাড় এবং ১৭ দশমিক আট শতাংশ উঁচুভূমি। এগুলো পুরোটাই রয়ে গেছে অনাবাদি। এসব টিলা-উঁচু ভূমিতে বেশির ভাগই ঝোপঝাড় জঙ্গল লেগে আছে। অনেকগুলো পড়ে আছে শুধু সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন নিয়ে। এসব পাহাড় টিলায় লাগানো যায় বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, ফলমূল, সব্জি।
তবে এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি। সেটা হলো অবাধে পাহাড় টিলা কর্তন। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো সিলেট অঞ্চলেও সর্বত্র কাটা হচ্ছে পাহাড়-টিলা। পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে বড় বড় ভবন অট্রালিকা, রাস্তাঘাট। টিলার মাটি বিক্রী হচ্ছে। সরকারি নির্মাণ কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধভাবে কাটা টিলার মাটি। অথচ পাহাড়-টিলা কাটা আইনতঃ দন্ডনীয়। কিন্তু এই আইনের প্রতি কেউ তোয়াক্কা করছে না। অবাধে পাহাড় টিলা কাটার বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। এতে বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এই পাহাড়-টিলা কাটার ধারাবাহিকতা বন্ধ করতে হবে। আর পাহাড় টিলাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষের কার্যক্রম শুরু করলে দুর্বৃত্তরা পাহাড়-টিলা ধ্বংস করতে পারবে না। এজন্য সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সজাগ হতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT