উপ সম্পাদকীয়

এই অপসংস্কৃতির অবসান হোক

মোফাজ্জল করিম প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১১-২০১৮ ইং ০০:২৪:২৭ | সংবাদটি ৩৯ বার পঠিত

দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল, বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা ইন্তেকাল করেছেন। জীবিত অবস্থায় তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির সদস্য, মন্ত্রী ও নিজ এলাকার চারবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একজন সদালাপী বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী মানুষ হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন তিনি। মানুষটির নাম তরিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর ৭২ বছর বয়সে চলে গেলেন তিনি। আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাতুল ফিরদৌস দান করুন।
তরিকুল ইসলামের নামাজে জানাযা তাঁর নিজ জেলা শহর যশোর ছাড়াও ঢাকায় তাঁর বাসস্থানের সামনে, অতঃপর বিএনপি কার্যালয়ের সম্মুখস্থ রাজপথে এবং সব শেষে আরেক দফা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, দল-নির্বিশেষে জাতীয় সংসদের বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের জানাযা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানের রেওয়াজ একটা ফরমালিটির মত। এতে প্রধানত জাতীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দই অংশগ্রহণ করে থাকেন। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বর্তমানে সংসদে না থাকলেও সে দলের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য জনাব তরিকুল ইসলামের বেলায়ও এই আনুষ্ঠানিকতার ব্যতিক্রম হয়নি। সে জন্য দক্ষিণ প্লাজায় জানাযা অনুষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ধন্যবাদ পেতে পারেন। তবে সেই জানাযায় কারা কারা গেলেন, কারা কারা গেলেন না, কাদের অনুপস্থিতি চোখে ঠেকার মত মনে হয়েছে, তা নিয়ে হয়ত কথা হতে পারে। কারণ দক্ষিণ প্লাজার জানাযা শুধু একটি জানাযাই নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানও বটে। তবে আমার আজকের আলোচনা এসব ছোটখাটো ব্যত্যয় নিয়ে নয়। আজকের আলোচনা এর চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে, যা প্রায়শই শুধু চোখে ঠেকেই না, চোখের বালির মত মনে হয়। আর তা হচ্ছে আমাদের কিছু কিছু রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি।
তরিকুল ইসলাম চলে গেছেন, তিনি আর ফিরে আসবেন না, এ জীবনের সকল দেনা-পাওনা চুকিয়ে-বুকিয়ে দিয়ে তিনি চলে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, তাঁর দল, শুভানুধ্যায়ী জনগণ, বন্ধুবান্ধব সবাই শোকে মুহ্যমান হবেনÍএটাই স্বাভাবিক। কেউ নীরবে অশ্রু বিসর্জন করবেন, কেউ শোনাবেন সান্ত¡নার বাণী, কেউ এগিয়ে আসবেন শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের পাশে দাঁড়াতেÍএটা স্বাভাবিক। এগুলো পরিচিত দৃশ্য। এক অর্থে এগুলো বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ। আবহমানকাল ধরে এ দেশের মানুষ অপরের শোকে-দুঃখে, আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়ায়। কিছু করতে না পারলে অন্তত সহমর্মিতা জানায়, জানায় সমবেদনা। শহরে অতটা না হলেও গ্রামে এখনো মানুষ পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-অনাত্মীয় সবার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিপদকালে। অবশ্য শহুরে সভ্যতার ঢেউ লেগে গ্রামের মানুষও ধীরে ধীরে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। হয়ত এটাই আধুনিক নগর-সভ্যতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। হোকগে। চিরদিন যে সব কিছু একভাবে যাবে তা তো নয়।
কিন্তু তাই বলে কোনো পরিচিতজনের মৃত্যুসংবাদ শুনে সাধারণ সৌজন্যমূলক শোকটুকুও জানাব না? শান্তি কামনা করব না তাঁর বিদেহী আত্মার? জীবদ্দশায় মানুষটির সঙ্গে আমার দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকতে পারে; কিন্তু পরপারে যাত্রা করে মানুষটি তো চলে গেছেন সব হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে। সারা জীবন তাঁর অমঙ্গল কামনা করেছি, তাঁকে জেলের ভাত না খাইয়ে জল স্পর্শ করব না, ফাঁসির দড়িতে ঝোলাব তাঁকেÍঅহর্নিশ এই ধান্ধায় কাটিয়েছি কাল। কিন্তু এখন? এখন কাকে জেলে পাঠাব, কাকে লটকাব ফাঁসিকাষ্ঠে? এখন তো তিনি সব ধরাছোঁয়ার বাইরে। এখন তাঁর আত্মা যদি পরকালে একটু শান্তিতে থাকতে পারে, তা হলে আমার অসুবিধা কোথায়? (অবশ্য আমি আত্মা, পরকাল ইত্যাদিতে বিশ্বাস না করলে অন্য কথা!)
দুই.
আমি অবাক বিস্ময়ে সব সময় লক্ষ্য করে আসছি, কোনো গুরুতর অসুস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের রোগমুক্তি কামনা করে বা কোনো নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রতিপক্ষ নেতা-নেত্রীরা কোনো বাণী দেন না, দুঃখ প্রকাশ করেন না। মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন। ভাবটা এমন- আপদটা তাহলে গেছে, আরও আগে গেলে বাঁচতাম। যা জ্বালানটা জ্বালিয়েছে চিরকাল। এ ধরনের মানসিকতার মানুষ, তিনি নেতা-নেত্রী কেউকেটা বা কেউটে সাপ যেই হোন না কেন, তাঁর প্রতি আমার একটিই উচ্চারণ- ছিঃ!
এরূপ মনোভাব শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বেলায়ই নয়, কখনো কখনো নিজ দলের প্রতিপক্ষের প্রতিও পোষণ করতে দেখা যায়। একটি ঘটনার কথা খুব মনে পড়ে। ২০০৫ সালের কথা। আমি তখন লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে কর্মরত। এর কয়েক বছর আগে সরকারি চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের পর রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছি। আমাদের উপজেলার জনৈক দলীয় প্রভাবশালী তরুণ নেতা এটা সুনজরে দেখেননি। আমাকে এলাকা থেকে তাড়ানোর জন্য তিনি উঠেপড়ে লেগেছিলেন। আর তাঁর চেয়েও প্রতিপত্তিশালী জেলা পর্যায়ের এক শীর্ষনেতা আবার তাঁর প্রতি বৈরীভাবাপন্ন ছিলেন। তাঁর লনে বসে একদিন খবর পেলাম, আমার এলাকার সেই তরুণ নেতার হৃদযন্ত্রে হঠাৎ গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছে একটি ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়ে তাঁকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আমার বাসায় চলে আসতে বললাম। এ খবর জেলার সেই শীর্ষনেতার কানে যেতেই তিনি রেগেমেগে ফায়ার হয়ে টেলিফোনে আমাকে একহাত নিলেন। আমি তাঁর এ ধরনের প্রতিক্রিয়ায় আকাশ থেকে পড়লাম। অথচ এই ব্যক্তি একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ।...হায় রাজনীতি! তুমি মানুষকে অমানুষ বানাতে চাও কেন? মানুষ না রাজনীতি করে মানুষের জন্য?
আবার দেখা যায় এই সৌজন্য প্রকাশ, শিষ্টাচার প্রদর্শন বা খায়-খাতিরের ক্ষেত্রেও রাজনীতিতে স্থান-কাল-পাত্রভেদে আচরণের হেরফের হয়। যাকে সেই একাত্তর সাল থেকে শত্রু বলে জেনে এসেছেন, যে দেশ ও জাতির চিহ্নিত শত্রু, হঠাৎ দেখা গেল তার সঙ্গে আপনার গলায় গলায় দোস্তি জমে উঠেছে। আগে যার কল্লা এক কোপে নামিয়ে ফেলতে ইচ্ছা হতো, কালের বিবর্তনে ও রাজনৈতিক প্রয়োজনে দেখা গেল তার গলায়ই পুষ্পমাল্য দিয়ে তাকে সাদরে বরণ করছেন। এসব কায়কারবার দেখে দেশবাসীর টাসকি লাগার জোগাড়। তারা ভাবে, পল্টিরও একটা সীমা আছে। দু’দিন আগেও দু’চক্ষের বিষ মনে করতেন যে লোককে, তেমনি আপনাকেও যে লোক পারলে নুন মাখিয়ে কাঁচা চিবিয়ে খেত, হঠাৎ দেখা গেল তাকেই আপনি আত্মীয়তার বন্ধনে একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছেন। সে আপনার বেয়াই সাহেব, না হয় তালুই সাহেব হয়ে গেছে। আর সেও এমন সব বয়ান দিতে শুরু করল আপনার সম্বন্ধে, যেন আপনার জাহিরি-বাতেনি এলমে সে এবং তার চৌদ্দগুষ্ঠি একেবারে মজে গেছে। যেন বেহেশতের দুয়ারের চাবির গোছাটি আপনারই কবজায় আছে। এজন্যই ইংরেজিতে একটা কথা চাউর আছে : পলিটিকস মেক্স্ স্ট্রেঞ্জ বেড-ফেলাউস্ (রাজনীতি কিম্ভূত শয্যাসঙ্গীর জন্ম দেয়)। আর ‘দেয়ার ইজ নাথিং আনফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার’, প্রেম এবং যুদ্ধে অন্যায় বলে কিছু নেই, এই কথাটি আমরা সব সময়ই শুনে শুনে অভ্যস্ত। মানলাম। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আপনি তেঁতুলের আচারকেও কুমড়ার মোরব্বা বলে চালিয়ে দিন, আপত্তি নেই। কিন্তু সাধারণ শিষ্টাচার-ভব্যতাটুকুও বিসর্জন দিতে হবেÍএটা কোন রাজনীতি? যে পাকিস্তানি আমলে আমরা উঠতে-বসতে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছি, রাজনীতি মানেই যখন ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে (বাংলাদেশ) বঞ্চিত করার, ঠকানোর কূটকৌশল, যখন এই ভূখ-ে প্রতি পদে পদে মানবতার অপমান-অবমাননা হয়েছে, তখনও তো রাজনীতিবিদদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্ভ্রমবোধের কমতি দেখা যায়নি। সবুর খান, ফজলুল কাদের চৌধুরীর মত ‘মোর ক্যাথলিক দ্যান দা পোপ অব রোম’-এর ন্যায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানিদের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধু সব সময় সৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। আর তাঁর স্বপ্নের অর্জন বাংলাদেশে আমরা এখন এক রাজনৈতিক নেতা আরেক দলের নেতার সঙ্গে কথা বলা তো দূরের কথা, মুখ দেখাদেখিও করি না।
তিন.
করি না বলেই আমরা রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনকে দিন জঞ্জাল বাড়িয়েই চলেছি। আর গত অর্ধশতাব্দীর স্তূপীকৃত এই জঞ্জাল কত যে আধি-ব্যাধির জন্ম দিচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমাদের প্রজন্মের না হয় এসবই এখন গা-সহা হয়ে গেছে, সারাজীবন ভেজাল খাবার-দাবার খেয়ে খেয়ে পরিপাকযন্ত্রকে অভ্যস্ত করে তোলার মত। কিন্তু যাদের হাতে এই পূতিগন্ধময় দেশটাকে তুলে দিয়ে আমরা ‘ইন্তেকাল ফরমাতে’ যাচ্ছি, তাদের কী হবে? তারা এই কথা-না-বলাবলি আর মুখ-না-দেখাদেখির রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পাহাড়-পর্বতসম বৈদেশিক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবার আগেই তো মাজা ভেঙ্গে পড়ে যাবে। তখন কোথায় থাকবে আমাদের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন, আর কোথায় থাকবে মসনদের মোহ। তখন কবরে শুয়ে শুয়ে আমাদের একমাত্র সঙ্গীত হবে : আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরিল সকলি ফুরায়ে যায় মা। গাইতে গাইতে গলা ধরে আসবে, চোখ দিয়ে (কঙ্কালের চোখ!) নামবে অশ্রুধারা, আর গোরস্তানের পাহারাদার দেবদূত সূচালো ডাঙ্গশ দিয়ে খোঁচাতে খোঁচাতে বলবে : অহন চিল্লাও ক্যারে? যহন হক্কলতে মিইলা-ঝুইলা একটা সুন্দর, সাফ-সুতরা দ্যাশ গড়বার পারতা, তহন তো ওয়াক্ত গুজার করছ খালি মারামারি, কাউলাকাউলি কইরা। তহন তো একজন আরেকজনের মুহ্ ভি দেখবার পারতা না। মরলে ইন্নালিল্লাটাও পড়তা না।
আমার কষ্টটা এইখানেই। আমরা তো যা হোক মাশাল্লাহ ছক্কা-পাঞ্জা করে টু অ্যান্ড টু ইক্যুয়াল টু ফোর না দেখিয়ে টুয়েন্টিটু দেখিয়ে, যাদের বুঝ দেবার তাদের বুঝ দিয়ে, বাড়ি-গাড়ি-শাড়ি সবই বানিয়ে একদিন টুক করে ঝরে যাব; কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে পরবর্তী প্রজন্ম, খোদা না করুন, হয়ত ‘সালামালকি’ (মুখ্য-সুখ্য মানুষের বুলি। হ্যাঁ, আসলে আস্সালামুআ’লাইকুম।) বলার রেওয়াজটাই তুলে দেবে।
কিন্তু চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির স্বরূপ তো এটা না। বাঙালি তো চিরকাল রাস্তাঘাটে দেখা হলে আস্সালামু আ’লাইকুম, নমস্কার, আদাব ইত্যাদি বলে সম্ভাষণ বিনিময় করে আসছে। পরস্পরের কুশল জানতে চেয়েছে। পরিচিতজনের অসুস্থতা বা মৃত্যুসংবাদ শুনলে ছুটে গেছে সমবেদনা জানাতে, গোর-কাফন-শ্মশানে শরিক হতে। যার সঙ্গে এক টুকরো জমি বা সামান্য একটু গোপাট (গোপথ) নিয়ে দাদার আমল থেকে চলে আসছে কাইজা-ফ্যাসাদ, তার মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করে আসছে এদেশের সাধারণ মানুষ।
চার.
হ্যাঁ, শোক প্রকাশ করে, কারণ তারা ‘সাধারণ মানুষ’। আর যাঁরা করেন না তাঁরা ‘অসাধারণ’ মানুষ। তাঁরা সাধারণের কাতারে নেমে আসেন শুধু ভোটের সময়। কথাটা শুনে রেগে গেলেও কিছু করার নেই। এটাই বাস্তব। এবং এটাই অপসংস্কৃতি।
আসুন না, এখন থেকে আমরা অন্তত দুঃখ-শোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সমবেদনা জানাই। হোক না সেটা শুধু একটা ফরম্যালিটি, শুধু লোক-দেখানো ভড়ং। বিশ্বাস করুন, এতে আপনার ভোট কমবে না, বরং বাড়বে।
আর ইয়ে, বাংলা ভাষাটা তাঁর সৌকর্যের জন্য সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত। এই ভাষায় সম্মানার্থে কোন সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে, তুচ্ছার্থে কোনটি, বাক্যগঠন কোথায় কেমন হবে, তা সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া আছে। তার পরও যখন বক্তৃতায় কেউ প্রতিপক্ষের কোনো সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন ‘অমুক এটা করেছে’, ‘সে এর জন্য দায়ী’, তখন আমরা যারা ‘সাধারণ’ মানুষ, তাদের কানে হঠাৎ যেন একটা লৌহ শলাকার খোঁচা লাগে। যাঁরা ভাষাকে এরূপ যদৃচ্ছ ব্যবহার করেন, তাঁদের দৃষ্টান্ত যদি আমাদের উত্তরপুরুষরা অনুসরণ করে, তা হলে বাংলা ভাষার রূপ কী হবে, তা কল্পনা করে শিউরে উঠতে হয়। আবারও (কারণ এ প্রসঙ্গে আগেও আলোচনা করেছি বলে মনে পড়ে) অনুরোধ করব, সামান্য সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারে একটু সচেতনতার পরিচয় দিন। তাতে আপনার সম্মান আরও বাড়বে। নবীন প্রজন্মও উপকৃত হবে।
লেখক : সাবেক সচিব, কবি।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় চার নেতা
  • বিজয়ের ৪৭ বছর
  • প্রত্যাশা ও বাস্তবতা : বিজয়ের সাতচল্লিশ বছর
  • মুশকিল আসানের এক সৈনিক আব্দুল মঈদ চৌধুরী
  • রপ্তানিতে সুবাতাস, ইতিবাচক বাংলাদেশ
  • রপ্তানিতে সুবাতাস, ইতিবাচক বাংলাদেশ
  • ডিসেম্বর আমাদের অহংকারের মাস
  • পোশাক শিল্পের অগ্রগতি
  • উন্নয়ন, আদর্শ ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষিত
  • প্রসঙ্গ : রিকসা ভাড়া
  • পেছন ফিরে দেখা-ক্ষণিকের তরে
  • অবাধ ও সুষ্ঠু নিবার্চনের প্রত্যশা
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
  • বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার
  • বাংলাদেশের উৎসব
  • ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’
  • মানবাধিকার মুক্তি পাক
  • অদম্য বাংলাদেশ
  • নারী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া
  • আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমানস
  • Developed by: Sparkle IT