উপ সম্পাদকীয়

জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে

আব্দুল হাই আজাদ বাবলা প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১১-২০১৮ ইং ০০:২৮:২১ | সংবাদটি ২৫১ বার পঠিত

পরিবেশ দুষণমুক্ত রাখতে জনসচেতনতার সব থেকে বেশি প্রয়োজন। এখনও সময় আছে। সিলেট শহরে এখনও ছড়া নালাগুলোতে ¯্রােত বহমান, তাই আমরা শহরবাসী যদি একটু সচেতন হই তবে আমাদের শহরের পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে, নি¤েœ বর্ণিত কিছু নিয়ম মেনে চললেই আমাদের শহরের পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে। যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলা, রাস্তাঘাটে আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে আবর্জনা ফেলার অভ্যাস করা। ড্রেনে কোন ধরনের আবর্জনা না ফেলা। লক্ষ্য করা যায় ড্রেনের পাশের দোকানদার সরাসরি ড্রেনে আবর্জনা ফেলেন। তা থেকে বিরত থাকতে হবে। পচনশীল আবর্জনা ও অপচনশীল আবর্জনা ২টি ভাগে ২টি বিনে ফেলতে হবে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে টাওয়ার বা বাসা বাড়ি তৈরি করে থাকেন কিন্তু সেফটি ট্যাংকের ময়লার আউট লাইন ড্রেনে দিয়ে দেন, এ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। বাজারজাতকৃত বিভিন্ন পণ্যের মোড়ক আমাদের একটি বড় সমস্যা। মোড়ককে পরিহার করতে হবে। অবশ্যই ২টি ধাপে বর্জ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে পঁচনশীল ও অপচনশীল। রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ হয় বেশি। বর্জ্যও সম্পদ। তাই বর্জ্যকে পদ্ধতিগত কৌশলে কাজে লাগানো সম্ভব। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে গৃহিনীদের ভূমিকা অত্যন্ত বেশি। বাসা বাড়ির আঙ্গিনা যাতে দূষণমুক্ত থাকে, রান্নাঘর দূষণমুক্ত থাকে, তা দেখার দায়ভার গৃহিনীদের, এর পরও সুস্থ থাকার জন্য পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। পশ্চিমা দেশগুলোতে পচনশীল বর্জ্য অপচনশীল বর্জ্য ফেলার আলাদা আলাদা ব্যবস্থা আছে বিধায় তাদের পরিবেশ সুন্দর ও তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। এমন কি যদি কেউ পচনশীল বিনে অপচনশীল বর্জ্য ফেলে তার জন্য আইন করে রেখেছে। উদাহরণ স্বরূপ আমেরিকায় ৫০ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ড্রেন ব্যবস্থাপনায় দেখা যায়, কাঁথা, বালিশ পরিত্যক্ত কাপড় চোপড় বস্তা সব আবর্জনাই ড্রেনে ফেলি। তার উপর সেফটি ট্যাংকের আউট লেড ড্রেনে দেওয়ার কারণে একটু বৃষ্টি হলে ড্রেন অভার ফ্লো হয়ে রাস্তায় উপচে পড়ে পানি। সেই সাথে সেফটি ট্যাংকের ময়লা রাস্তায় এসে জীবাণু ছড়ায়। এতে নি¤œ অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী পথচারী, জনগোষ্ঠী বেশি অসুবিধায় পড়েন। আমাদের মনে রাখা উচিৎ, ড্রেন পানি প্রবাহের জন্য, ড্রেনে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার অঙ্গিকার করা। ড্রেনে সেফটি ট্যাংকের লাইন যাতে না দেই। ড্রেনে সে ব্যবস্থা নেওয়া। আইন করেও এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নহে যত দিন না আমরা জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারব।
হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকের বর্জ্যরে মধ্যে ভয়াবহ জীবাণু তাকে বিধায়-এই বর্জ্যগুলোকে গর্ত করে পুঁতে দেওয়া ও শুকনো বর্জ্যগুলোকে জ্বালিয়ে দেওয়া অতি উত্তম পদ্ধতি। আমরা যদি সচেতন হই তবে হাসপাতাল ক্লিনিকগুলো তাদের ব্যবস্থা পাল্টানোর কথা চিন্তা করবে। তা নাহলে ভবিষ্যতে এ আমাদের জনগোষ্ঠী, জনস্বাস্থ্যের হুমকির সম্মুখিন হবে। কলকারখানা ও টেনারির বর্জ্য যত্রতত্র নদীর পারে খালের পারে জনবহুল এলাকায় যাতে না বসানো হয় সে জন্য সিটি কর্পোরেশন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। যেখানে সেখানে এসব কলকারখানা বসানো যাবে না। খোলা অবস্থায় চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা থেকে বিরত রাখা ও নদীতে চামড়া বর্জ্য না ফেলা। সে জন্য আমাদের সচেতনতা প্রয়োজন। কলকারখানার ক্ষেত্রে তৈল মবিল ও রাসায়নিক পদার্থ শিল্প নীতিমালা মেনে ব্যবস্থা নেওয়া। বর্জ্যকে সেপারেটিং করে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে রিসাইকেল করে সার ও বর্জ্য থেকে বর্জ্য জ্বালানী কাঠ বাহির করার ব্যবস্থা নেওয়া। বর্জ্য থেকে সংগ্রহকৃত কাঠের টুকরা গাছের পাতা পলিথিন মোল্ডিং করে জ্বালানী কাঠ করা যায়। পরিবেশ দূষণ কার্যক্রম বন্ধে সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন যতই ব্যবস্থা নিক, জনগণ সচেতন না হলে ব্যর্থ হবে সব ব্যবস্থা। উল্লেখ্য যে, কীন ব্রীজের উপর থেকে নদীতে ফেলা হয় অসংখ্য পরিমাণ বর্জ্য যার কিছু অংশ রয়ে যায় ব্রীজের পাশের পাইপ ও রেলিং এ এতে পরিবেশ দূষণ ও ব্রীজের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, এর বিহিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মহাসড়কে চলাচল কতটা নিরাপদ
  • প্রসঙ্গ : সঞ্চয়পত্র
  • সিলেট-সুনামগঞ্জ ও দিরাই সড়কে যাত্রী দুর্ভোগ
  • ফিরে দেখা : ১৫ আগস্ট ১৯৭৫
  • শিশুদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ
  • সামাজিক আচরণ ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার
  • সময়ের আলোচিত প্রসঙ্গ মশা: আমাদের করণীয়
  • খাদ্য নিরাপত্তায় বিকল্প চিন্তা
  • জন্মাষ্টমী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
  • বৃহত্তর সিলেটবাসীর একটি গৌরবগাঁথা
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
  • জলবায়ু পরিবর্তনই আসল সমস্যা
  • কিশোর অপরাধ
  • আ.ন.ম শফিকুল হক
  • হোটেল শ্রমিকদের জীবন
  • বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
  • বাংলাদেশে অটিস্টিক স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার
  • বেদে সম্প্রদায়
  • গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুপারিশমালা
  • ত্যাগই ফুল ফুটায় মনের বৃন্দাবনে
  • Developed by: Sparkle IT