সম্পাদকীয়

পণ্যমূল্য কমানোর উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-১১-২০১৮ ইং ০০:১০:৪৭ | সংবাদটি ৪২ বার পঠিত

শুরু হচ্ছে বাজার মনিটরিং। খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল উদ্দেশ্য সরকারের। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার পাশাপাশি ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীদের দিকে নজর রাখবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। নির্বাচনকালীন সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর কারসাজির কোন প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় দেশে খাদ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। শুধু সরকারি গুদামে এ মুহূর্তে ১৪ লাখ মেট্রিকটন চাল ও গম মজুদ রয়েছে। আর বেসরকারি খাতে খাদ্যপণ্যের মজুদ অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে এখন বেশি। নির্বাচন সামনে রেখে খাদ্য নিরাপত্তা বলয় সুদৃঢ় করতে দশটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ধান ও গমের পাশাপাশি আমদানী নির্ভর ১৭টি পণ্যের মজুদ বাড়ানো হয়েছে।
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারটি যেন এদেশের মানুষের গা সওয়া হয়ে গেছে। মানে বিষয়টি এমনই যে, আকাশ ছোঁয়া মূল্যে পণ্যদ্রব্য কিনতে কিনতে মানুষ যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, সীমিত আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে নি¤œবিত্ত পরিবারগুলো আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিগত অনেকগুলো বছর ধরেই চলছে এই হিসেবের গরমিল। এভাবেই চলছে তাদের নানা দুর্ভোগ কষ্টের জীবন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এ নিয়ে লেখালেখি বলাবলি কম হয়নি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। তাই এ নিয়ে ইদানিং তেমন একটা বলছে না কেউ। কারণ বললে তো কোন লাভ হয় না। এই অবস্থায়ই সরকার উদ্যোগী হয়েছে বাজার নিয়ে; মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখেই বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেয়া হচ্ছে। তবে এটা ঠিক যে, সরকার চাইলে যেকোন সময়ই বাজারের পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে এজন্য দরকার আন্তরিকতা। বর্তমান পদক্ষেপেও যদি আন্তরিকতার ছাপ থাকে তবে তা ব্যর্থ হবার কথা নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে সরকারি দল জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টাই করছে- এই ধরনের মন্তব্য করেছেন অনেকে। তারপরেও যদি পণ্য মূল্য কমে আসে, তবে সেটা তো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য খুবই স্বস্থিদায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে না আমাদের দেশে। তাছাড়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য প্রতিনিয়ত কমে আসছে। অথচ আমাদের দেশে এর কোন প্রভাব নেই।
ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে বরাবরই একটা চক্র জড়িত। এরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়। সত্যি বলতে কি, এদের অপতৎপরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই চক্রের কারসাজি ভেঙ্গে দিয়ে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা কোন ব্যাপার নয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সরবরাহ কিংবা মজুদ স্বাভাবিক রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এই অবস্থায় বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা সহজ হবে বলেই আমরা মনে করি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT