প্রথম পাতা সিলেট-২ আসন

আওয়ামীলীগকে ছাড় দিতে নারাজ জাতীয় পার্টি

এমদাদুর রহমান মিলাদ, বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-১১-২০১৮ ইং ০২:০০:১০ | সংবাদটি ৩২৮ বার পঠিত

সিলেটের বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী থাকলেও মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। জোট-মহাজোটে চলছে মনোনয়নের লড়াই। নবম সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে এই আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী। দশম সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একে অন্যকে ছাড় দিতে নারাজ। অন্যদিকে বিএনপিতে ইলিয়াস পতœী তাহসিনা রুশদীর লুনা একক প্রার্থী থাকলেও ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী।
১৯৯১ সালে এ আসনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা শাহ আজিজুর রহমান, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির এম ইলিয়াস আলী, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী। নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানের মধ্যে কোন্দল ছিলো তুঙ্গে। উভয়ে দলীয় মনোনয়নের জন্য ছিলেন মরিয়া। ৯ম সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও মহাজোটের মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমানে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন শফিক চৌধুরী। তখন বঞ্চিত হন মুহিব। এরপর ১০ম সংসদ নির্বাচেন ফের শফিক চৌধুরী ও মহিবুর রহমান মনোনয়ন যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে বঞ্চিত হন দু’জনই। আসনটি চলে যায় জাতীয় পার্টির কব্জায়। মহাজোটের প্রার্থী হয়ে এমপি হন ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মুহিবুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনে এহিয়া চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন শফিক চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। কিন্তু, সময়ের ব্যবধানে পাল্টে যায় রাজনীতির চিত্র। এহিয়া চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী মুহিবুর রহমানের সেই দূরত্ব এবার না থাকলেও দূরত্ব সৃষ্টি হয় শফিক চৌধুরীর। তাই এবারের নির্বাচনে এহিয়া চৌধুরীকে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগের শফিক চৌধুরী। তিনি এবার নৌকার প্রার্থী হয়ে বিজয়ের মাধ্যমে আবারো শেখ হাসিনাকে এই আসনটি উপহার দিতে চান। অপরদিকে, বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নেতা ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী নির্বাচনের ব্যাপারে এবারও অনড়। জাতীয় পার্টির এই নেতা আসনটি কোন ভাবেই ছাড় দিতে নারাজ।
জানা যায়, সিলেট-৩ আসনের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এবারের নির্বাচনে তাদের আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে কেন্দ্রে দাবি জানিয়ে আসছেন। আবার সিলেট-২ আসনে এবার জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দিতে কেন্দ্রে জোর দাবি জানিয়েছে আসছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী। তাই, তিনি সিলেট-২ ও সিলেট-৩ আসনে প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন। তবে সিলেট-২ আসনে মহাজোট থেকে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন ? তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে মহাজোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া পর্যন্ত।
এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও শেফিল্ড শাখার সভাপতি মোহিদ আলী মিঠু। মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর আওয়ামী লীগ। তাই এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তারা কেউ কাউকেই ছাড় দিতে নারাজ। তবে ৬ মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত শফিকুর রহমান চৌধুরী অথবা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীই পেতে পারেন দলীয় মনোনয়ন এমনটাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।
অন্যদিকে, প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে আভ্যন্তরীণ বিরোধ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। বিভিন্ন মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীরা মাঠে তেমন সবর না থাকলেও ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে নিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রস্তুত রয়েছেন লুনাও। অপরদিকে, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস এই আসনে তাদের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুসতাসির আলীকে জোট থেকে মনোনয়ন প্রদানের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। জোট থেকে মনোনয়ন না পেলে দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, এই আসনের ভোটাররা ইলিয়াস আলীর প্রতি বেশ আবেগতাড়িত। এই আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রার্থী হলে ভোট বিপ্লব ঘটবে বলে আশাবাদী বিএনপির নেতাকর্মীরা।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও খেলাফত মজলিস ছাড়াও এই আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার মাওলানা মুহাম্মদ আমির উদ্দিন ও ইসলামী ঐক্যজোটের জেলা যুগ্ম সম্পাদক আ ক ম এনামুল হক।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • বিভিন্ন স্থানে ড. মোমেনের নির্বাচনি সভা ও গণসংযোগ
  •   মহান বিজয় দিবসে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি
  • ভোটকক্ষে ছবি তোলা যাবে সরাসরি সম্প্রচার নয়: সিইসি
  •   শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার চেষ্টা করবো
  •     ওসমানী বিমানবন্দরে পৌনে ৩ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের বার জব্দ
  • ড. কামাল এখন বেপরোয়া চালকের মতো : কাদের
  •   ড. কামাল হোসেনের দুঃখ প্রকাশ
  • মহান বিজয় দিবস আজ
  • প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরসূচি পরিবর্তন ॥ আসছেন ২২ ডিসেম্বর
  • বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি
  • ছুটির দিনেও প্রচারণায় সরব প্রার্থীরা
  • প্রধানমন্ত্রী সিলেট সফরে আসছেন ২১ ডিসেম্বর
  • জাতীয় পার্টির ১৮ দফার ইশতেহার
  • পুলিশকে বেআইনি নির্দেশ না মানতে পরামর্শ ড. কামালের
  • জামায়াত নিয়ে প্রশ্নে কামাল বললেন ‘খামোশ’
  • চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন আর নেই
  • ড. কামালের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ
  • সিরিজ জয়ে অভিষিক্ত সিলেট ভেন্যু
  • সিলেট-২ আসন প্রার্থীতা ফিরে পেলেন মুহিব-সরদার
  • বিজয়ের মাস
  • Developed by: Sparkle IT